দুটি কবিতা

সঙ্গীতা জানা

জলছবি

সমর্পণের এই ইঙ্গিত আমার চেনা
ইচ্ছে করেই লুকিয়ে রাখি ঋণ শোধের যাবতীয় দলিল

ভিতরে ভিতরে অস্হির হয়ে আছি
ভাতের থালার মতোন ক্ষিদে জেগে ওঠে
এই দীর্ঘপ্রতà§â ‚¬à¦•্ষার এক নাম দিতে ইচ্ছে করে

শীতের রাতে একপ্রকার সাধ করেই বড়পুকুরের পাড় ঘেঁষে বসি
সব ঋতুতেই জল ভালোবাসি
জলের ভিতর নিজের ছায়া দেখি

কোনো এক শালুকফোটা বিকেলে তুমি এসো অনির্বাণ
কমলালেবু গন্ধে নাক ডুবিয়ে তরল নিঃশ্বাসে
বিকেল সাজাবো আমরা
পালক ডুবিয়ে ইচ্ছেমতো রঙ ভরো না-হয়
সেদিন আর বাধা দেবো না খেজুরপাতাঠ° আঁচল ঢেকে

মায়াকাজল এঁকে তোমাকে নিমগ্ন হতে দেখি জলের গভীরে
এসো অনির্বাণ
নির্ভার শরীর পাশে রেখে বসো এইবার
দেখি, তোমার আঙুলে কেমন শব্দ খেলে...



মানুষ বড় অবিশ্বাসী

একসময়ে কবিতা লিখবো বলে
নীলচোখের পাতায় লালিত আকাঙ্খার বীজ বুনে
ছায়ার পাশে চুপটি করে বসে থেকেছি দীর্ঘক্ষণ
শীতরাতে অসহায় কবুতর যেমন,
তুমিও অবলীলায় শ্যাওলা জীবনের গোপন বিবরণ
আদ্যোপান্ঠ¤ বিস্তৃত করেছো
আমিও জেনেছি তোমার ঠোঁটে ভৈরবী সুর খেলে
সুদৃশ্য তালপাতায় ভোর এঁকে তোমার জন্যে প্রতীক্ষা
অবিরত

মানুষ বড় অবিশ্বাসী
পারাপারের সাঁকোটিও টলোমলো
পাথর চোখের সম্যক দৃষ্টি হারিয়েছি
ফুলের সুগন্ধ, এঁদোগলির তরল পাপ এখন স্পর্শ করে না
বিজন পথের প্রান্তে বসে থাকা আলুথালু ভিখিরির দিকে
ফিরেও তাকাই না
নিষ্ঠুর হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে বিদ্রুপ ছুঁড়ে দিই
শান্ত ল্যাম্পপোà¦Â ·à§à¦Ÿà§‡à¦° দিকে

বাবার হাতে পুঁতে রাখা প্রিয় জারুল
মাতাল গন্ধরাজ বাগানের থেকে চোখ ফিরিয়ে
শাঁখাপলা পরা মায়ের নরম হাতে নিকোনো উঠোন ছেড়ে
শেষবার চলে যাওয়ার পূর্বে
যাদুকরী বাঁশিটি লুকিয়ে রেখে এসেছিলাম সযত্নে,
সুটকেসের ভিতর কাঁঠালপাতà¦Â ¾à¦° মোড়কে ভরে।
মাঝখানে কেটেছে ভবঘুরে সময়...
এখন স্হির দৃষ্টিতে আকাশপথে মেঘের খেলা দেখি---
তোমাকে দেখি অসহায়
শীতরাতে নগ্নপায়ে বাউল পথে হাতড়ে ফিরছো অতীত,
অনভ্যস্ত এই ছায়াজীবনে তুমি হাঁপিয়ে উঠেছো অরিন্দম...

ফেসবুক মন্তব্য

Copyrights © 2016 All Rights Reserved by বম্বেDuck and the Authors
Website maintained by SristiSukh CMS
kusumarghya@yahoo.com