সোনাপাড়া

সুবীর সরকার


১।
তো,সেই নদী করতোয়া আর তার গম্ভীর সেতু অতিক্রম করে নদীপার্শ্à¦Â ¬à§‡à¦° নানান দৃশ্যপট কলাবাগিচা অতিক্রম করে আমরা পৌঁছলাম ঘোড়াঘাট। ইতিহাসপুরà¦Â ¾à¦£à¦®à¦¿à¦¥ বিনির্মিত হয়ে সুপ্রবীন এই ঘোড়াঘাট পরগণার হাওয়াবাতাà¦Â ¸à§‡à¦° দিকে ঝুঁকে পড়ে কবি এগিয়ে এলেন প্রসন্নতা নিয়ে। আমি সিগার ধরালাম। কবি মজে গেলেন ধূমায়িত চায়ের কাপে। কবি আজ উৎফুল্ল। তার মাথার চুল যেন চাঁদ ধোয়া। শরীরে আবহমানের বাংলাদেশ। এই কবি আমাদের দোস্ত। এই কবি অসুখজড়ানো অসুখফেরত। এই কবি বেঁচে থাকতে চাওয়া বেঁচেবর্তৠ‡ থাকা জীবনঘনিষ্à¦Â   এক মিরাকলের মতো। এই কবি আমার কাছে আশ্চর্য এক বিষ্ময়। কবি থাকেন বসবাস করেন নদীপুকুরবঠ¿à¦²à¦–ালজমিজিà ¦°à§‡à¦¤ ধানের গন্ধে ভরা আশ্চর্যতম এক গ্রাম সোনাপাড়ায়à¥Â ¤ কবিতাগ্রাঠ® সোনাপাড়া। এই কবি মাসুদার রহমান।অজসà§Â �র জন্ম ধরে আমি যার দিকে যাচ্ছি। যার দিকে ভাসিয়ে দিচ্ছি আকুতিভরা চোখ। আর করতোয়ার পানসা জলে পানসি ভাসে। মেঘ ভাসে আসমানে।
২।
দিগন্ত টিগন্ত পেরিয়ে আসে কবি। মাথার ওপর আকাশের মেঘলা আলো। জীবন ও মরণের এই পৃথিবী আর তার বুকের ভেতর থেকে উঠে আসা জীবনযাপন,দৠˆà¦¨à¦¨à§à¦¦à¦¿à¦¨ মাসুদারকে অন্যমনষ্ক করে দেয়। চিরকালীন সব জিজ্ঞাসারা ঘিরে ধরলে সে ঘোরের ভিতর ডুবে যেতে থাকে। উচারণের মৃদুমন্দেà¦Â ° ফাঁকে ফাঁকে বুনে দিতে থাকে কবিতার পর কবিতা-
‘আকাশ স্বচ্ছ হলে পড়া যাবে ঈশ্বরের সমাধি-ফলক
দাঁড়াও বাংলাদেশ,à¦“à ¦ªà¦¾à¦°à§‡ অন্য গ্রহলোক।’< br /> দৃশ্যের পর দৃশ্যের জন্ম দেখে মাসুদার। ধানবাংলার পাখি,পাখিদà §‡à¦° জন্যই মনোরম হয়ে ওঠা ভোরবেলাগুà ¦²à¦¿;তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় ডিলিরিয়ামà§â€ ¡à¦° দিকে। ওপার বাংলা থেকে আসা ‘কবিতা ক্যাম্পাস†™ পত্রিকার পাতায় সে আকূল হয়ে খুঁজতে থাকে অপর কবিতার ভুবনমায়া। দীর্ঘ অসুখের দিকে কখন কিভাবে যেন চলে যাওয়া! আর অসুখ থেকে ফিরে আসলেই বারীন ঘোষালের চিঠিগুলি তাকে আশ্রয় দেয়। ঘুমোতে যাবার আগে তার কন্ঠে ঝোরে পড়েন আল মাহমুদ-
‘তাড়িত দুঃখের মতো চারপাশে
অস্পষ্ট স্মৃতির মিছিল।’
৩।
সোনাপাড়ার পথে পথে ক্ষেতে ক্ষেতে মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে উত্তরের আকাশের বিস্তৃতির দিকে সঙ্গনিঃসঙà §à¦—তা নিয়ে তাকিয়ে থাকা মাসুদারেরà¥Â ¤ দিনের পিঠে দিন চলে যায়।
উঠোনের হাঁসগুলি মোরগগুলি বেড়ালগুলি গরুগুলি মোষগুলি হালের বলদগুলি সবই থাকে চিরন্তনতা নিয়ে। মাসুদার তার ব্যর্থতাগà§Â �লি নিয়ে ভাবে। সফলতাগুলিà¦â €¢à§‡ উপেক্ষা করে। আজ বিকেলে কি তবে সে বাংলাহিলিà¦Â ° দিকে চলে যাবে! সীমান্তের দিকে চলে যাবে! সুমাত্রাকà§â €¡ নিয়ে দেখা করে আসবে জিরো পয়েন্টে কবি সুরজ দাসের সাথে! ওপাড়ের বই পত্রপত্রিà¦â€ ¢à¦¾à¦°à¦¾ অপেক্ষা করে আছে তার জন্য। উমাপদ কর ফোন দিয়েছিলেনà ¥¤ কদিন আগে ‘চিহ্নমেলঠ¾â€™ ঘুরে গেলেন উমা দা। সোনাপাড়াও ঘুরে গেলেন। খুব মনে পড়ে বউদির কথা।দেখা হওয়ার কথা হওয়ার আন্তরিক মূহুর্তগুঠ²à¦¿ নাড়া দিয়ে যায়। সুমাত্রাকà§â €¡à¦“। না,এসব থাক। আজ কোথাও যাবার নেই। বরং প্রশান্ত গুহ মজুমদারের ‘কাহাদের কথা’ বইটি নিয়েই বসা যাক। সাধুভাষায় লিখিত টানা গদ্যের কবিতাপুস্à¦Â ¤à¦•।
৪।
শোকের ভিতর আগুনের ভিতর রক্তপাতের ভিতর কতবার যাওয়াআসা। কত কত জন্মজন্মান ্তর জুড়ে কবিতাবুননà¥Â ¤ সেই বুননের হলকায় অর্ন্তদহনà§â €¡ ছিন্ন হতে হতে মাসুদারের যাপনটা ক্রমবর্ধিà¦Â ¤ হতে হতে একসময় পাখামেলা ব্রিজে লালন সহ তার উঠে পড়া। হাওয়ায় অগোছালো চুল। যেন বরফকুচি। মাসুদার চারপাশে পূর্ণদৃষ্à¦Å ¸à¦¿ মেলে। তার দৃশ্যসীমাà§Å ¸ আসা খন্ডগুলি দৃশ্যসীমাà¦Â ¨à¦¾à¦° বাইরে বুঝি চলেও যেতে থাকে। আর তখন আবুল হাসানের কবিতার অন্তরীক্ষà ¦° কথা মনে পড়ে। আবুল হাসান তাকে উন্মনা করে তোলে-
‘জেনেছি মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ অচেনা ও একা!
দৃশ্যের বিপরীত সে পারে না একাত্ম হতে এই পৃথিবীর সাথে কোনোদিন।’ জীবনের পরতে পরতে কি এক রহস্য! কি এক ইশারা! সরে আসতে আসতে কুহকের টানে কেবলই জড়িয়ে পড়া। তখন মাঠগুলি পুকুরগুলি রাস্তাগুলà¦Â ¿ পুকুরের অনন্ত হাঁসগুলি সোনাপাড়ার ভরাফসলের সব ধানবাড়িগুà¦Â ²à¦¿ জন্মান্তরà§â€ ¡à¦° অতিলৌকিকতà ¦¾à§Ÿ জেগে থাকে। ভরভরন্ত হয়ে আকাশের পাখিগুলির দিকে দিনকালগুলঠ¿à¦° দিকে ধ্রুবসত্যà§â€ ¡à¦° মতো অমোঘ হয়ে ওঠে।সোনাপà ¦¾à§œà¦¾à¦° রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে আবার কাশীর শব্দ আম্মার মোনাজাত মিঠুভাইএর হাসি লালনের বিবাগী হাঁটাচলা সুমাত্রার দৌড়ে যাওয়া। প্রহরের হাততালি থেকে মাসুদার বাস্তবে ফেরে। তার ঘোর ভেঙ্গে যায়।ইণ্ডিà§Å ¸à¦¾ থেকে সোনালি আপা,মানে কবি সোনালি বেগমের ফোন আসে। কত কথা হয় আপার সাথে। ক্যানভাস ভরে ওঠে রঙ ভাঙবার শিসে।মাসুà¦Â ¦à¦¾à¦° তার কবিসত্ত্বà¦Â ¾à¦° হাড়হিম অস্তিত্বেঠ° সংকট টের পায়। তার ভাবনাচৈতন্ যপ্রবাহে তরঙ্গ তরঙ্গ বিদ্যুত। কবিতায় কি বলবে সে? জীবনের শিকড় স্পর্শ করতে গিয়েও সে কিন্তু বিভ্রান্ত হয়।বিচলনচল নজনিত বিভ্রান্তি র ভিতর খেই হারাতে হারাতে সে আদতে কবিতার ভিতর দর্শন অনুসন্ধান করতে থাকে। মহাজীবনের চিরসত্যিগà§Â �লি মাঠ মাঠ ধান আকাশ আকাশ পাখি নদী নদী পানির মতো আপাতবিষ্মà§Å ¸ বহন করে। মাসুদার জানে,মাসুদঠ¾à¦° টের পায় কবির নিঃসঙ্গতাॠ¤à¦•বির সংকট। কবির উদাসীন বিষ্ময়গুলà¦Â ¿à¦“। সে দ্রুত তার পাঠকক্ষের নির্জনতায় শামসুর রহমানের ‘স্মৃতির শহরে’ ডুবে যায়। এই গ্রন্থ তার চোখে পানি আনে।আবেগ আনে।ঠিক তখন সুমাত্রা কাঁচের বড় গ্লাসে চা এনে দেয়।
৫।
ভোরবেলা ঘুম ভাঙে মাসুদারেরà¥Â ¤ ভোর প্রিয় তার। পছন্দের। ভোরবেলা তার একান্ত পাঠের সময়। পাখিদের ডাক মোরগডাকের শব্দ তাকে স্মৃতিকাতà¦Â ° করে। চোখে কুয়াশার মেদুরতা। এই তো কদিন আগে সুমাত্রাকà§â €¡ নিয়ে পাহাড়পুর ঘুরে এল। পাহাড়পুরে ছবি তুললো।সেই ছবি ফেসবুকের দেয়ালে। জয়পুরহাট থেকে ফিরে এসে তার আবার ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামà ¦¾â€™ পড়ে ফেলা। পাঁচবিবি জয়পুর উচাই বাজার এই সব জনপদ, খিয়ার অঞ্চলে দিনের পর দিন ক্লান্তিহà§â ‚¬à¦¨ চষে বেড়িয়েছেন আখতারুজ্জঠ¾à¦®à¦¾à¦¨ ইলিয়াস। লালদীঘির ধারে পোড়াদহ মেলায় সিগারেট খেতে খেতে ঘুরেছেন কত। আজ পাঁচবিবি যেতে হবে। সুন্দরবন কুরিয়ারে চিঠি আছে।বই পাঠানো আছে। শহীদ ইকবাল ‘চিহ্ন’ পাঠিয়েছে। নিয়ে আসতে হবে। আলফ্রেড খোকনের বইও। পাঁচবিবি থেকে যেতে হবে জয়পুরহাট।â€Ë œà¦¶à¦¿à¦žà§à¦œà¦¨â€™ বেরোবে। সে নিয়ে বসা আছে। এদিকে হাজারী ভাইএর বাড়িতেও যাওয়া প্রয়জন। নতুন লেখা লিখতে হবে। চাপ আছে। অথচ শব্দেরা ভারি কানামাছি খেলছে। ধরা-ছোঁয়ার খেলা চলছে বুঝি নদীর পানিতে।কবঠ¿à¦•ে অপেক্ষা করতে হয় এটা চিরসত্যি। মাসুদার জানে। বোঝে। তবুও কবিতার আকুলিবিকুà ¦²à¦¿à¦° রহস্যঘোরেঠ° ভিতর সে শুনতে থাকে শিস। সাইরেন ও বাজনা। ভোর কুমারীত্ব হারাতে থাকলে মাসুদার চিন্তিত মুখে উঠে পড়ে। বাইরে আসে। উঠোনের শূণ্যতায় সে সামান্য দ্বিধাগ্রà¦Â ¸à§à¦¥ হয়ে পড়ে। আবার ঘরে ঢোকে। ‘মাসিক বাংলা কবিতার’ শেষ সংখ্যায় রাজীব সিংহ-র ‘কেমন আছো ৯-এর দশকে’ ঝুঁকে পড়ে। ঝুঁকে পড়াটা আন্তরিক।কà ¦¿à¦¨à§à¦¤à§ মাসুদার মনঃসংযোগ হারায়। হাহাকার জাগে। হাহাকারের ধারাক্রমবà¦Â ¾à¦¹à¦¿à¦¤ মহাশূণ্যতà¦Â ¾ তাকে ভোরের রাস্তায় তিসিখেত কাশঝোপ কিংবা নন্দীগ্রাঠ® বাজারের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ভুলভুলাইয়à§â €¡à¦° দিকেও। মাসুদার অস্থিরতার তাড়সে কেঁপে উঠতে উঠতে চুড়ান্তভাব েই ঘরে ফিরে আসে। স্মৃতির কোরাস থেকে ছিন্ন হয়ে নামে রংপুর বেতার থেকে কছিমুদ্দিঠ¨à§‡à¦° ভাওয়াইয়া গান,
‘ও কি হায় রে হায়
আজি মনটায় মোর
পিঠা খাবার চায়’
মাসুদার চোখ বুজে ফেলে। সে ভাবে। ভাবতে শুরু করে। তবে কি রংপুর শহরের রাস্তায় রাস্তায় সে ছুটে যাবে গাড়িয়াল,মইà ¦·à¦¾à¦²,মাহুত বন্ধুর গানের টানে! না কি চলে যাবে পায়রাবন্দà§â€ ¡! বেগম রোকেয়ার ভিটায়। কিংবা শিমুল মাহমুদ রিষিন পরিমল ডিনা আপার সাথে আড্ডা দিয়ে সে ইকবালকে ফোন দেবে। তারপর স্মৃতিদ্রষ ্ট ভাঙাচোরা মানুষের মতো টলতে টলতে সর্পাঘাত এড়িয়ে পাড়ি দেবে পীরগঞ্জের দীর্ঘ পথ। এত এত সীদ্ধান্তà¦Â ¹à§€à¦¨à¦¤à¦¾ তো তাকে সীদ্ধান্তà¦Â ¹à§€à¦¨ এক জড়ত্বের খোলে ঢুকিয়ে দেবে। তবুও বিবর্ণ স্মৃতির তাড়সে মাসুদার বেশ থাকে,তার ভোরবেলাগুà ¦²à¦¿;শুধু ভোরবেলাগুà ¦²à¦¿ নিয়েই।
৬।
আছা জীবন কি অর্থহীন! মায়ামমতা দিয়ে লালনপালন করা একটা জীবন কি তবে অনবদ্য কোন বার্তা বহন করে আনে! না কি হাওর বাওড়ের পানিতে ভাসতে থাকা নানাকিসিমà§â €¡à¦° নৌকোগুলির কসরত দেখতে দেখতে আত্মহনন ও প্রতিরক্ষà¦Â ¾à¦° দিকে এগিয়ে যেতে যেতে কখন কিভাবে অনেকদিবস বাদে পাঁচবিবির বৈদ্য ভাইয়ের কথা রাজশাহীর সম্রাট স্বপনের কথা রিকসায় সাহেববাজাà¦Â ° পদ্মাচরের কাশিয়ার থোপ পদ্মাবক্ষà§â €¡à¦° ভাসমানতা কেমন যেন মাসুদারের স্মৃতিবন্দ রে থিতু হতে থাকে। এতসব ঘটতেই থাকে। মাসুদার নিজেকে অনেক অনেক মেঘদলের ভেসে যাওয়ার নিশ্চিন্তি র মধ্যে প্রবিষ্ট করে ফেললে তো আর করবার কিছু থাকে না। ফ্রেমের সাদাকালোতৠ‡ মিশে যাওয়া ঢাকার দিনগুলি,বাঠ‚লা একাডেমীর লেখক শিবিরের যৌথতার খণ্ডগুলি জুড়ে গিয়ে তখন একধরণের আত্মমগ্ন হতে চাওয়া কেবল।সোনাà ¦ªà¦¾à§œà¦¾ থেকে বেরিয়ে তখন মাসুদারের তুলসিগঙ্গà ¦¾à¦° দিকে ছোট যমুনার দিকে পীরজাদার মাজারের দিকে সন্দেহটন্à¦Â ¦à§‡à¦¹à¦° দিকে কাশফুলের সফেদ মসৃণতার দিকে একটানা গড়িয়ে চলা।এতসবেà¦Â ° বিরাটত্বকà§â €¡ মান্যতা দিতে না চাইলেও গানগুলি নাচগুলি বাদ্যযন্ত্ রগুলি হাওয়াবাতাà¦Â ¸ পাথারবাড়ির ভিতর অদৃশ্য হতে চায়। কিন্তু তা তো আর হয় না।বাতাসআà¦â €¢à¦¾à¦¶à¦®à¦¾à¦Ÿà¦¿à¦®à§ƒà¦¤à§ à¦¤à¦¿à¦•ার কাছে মাসুদার তার কবিতার বীজ খুঁজতে থাকে। শতসহস্র দিনকাল জুড়ে তার খেলাটা চলতে থাকে। কবিতা অন্যমনস্কঠ¤à¦¾à§Ÿ হড়কে গেলেও মাসুদার হারিয়ে যাওয়া ভুলে যাওয়া শব্দগুলি,গà ¦¾à¦¨ ও অক্ষরগুলি তরতরিয়ে বহন করে আনে আর পাহাড়ের গম্ভীর শূণ্যতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কবিসত্ত্বà¦Â ¾à¦° বিয়োজনসংজৠ‹à¦œà¦¨à¦ªà¦°à§à¦¬à§‡ তার যুক্ত হওয়া। তখন যমুনা বল করতোয়া বল দূর্গাপুর বাজার বল নাওনৌকা বল-সব যেন মৃত্যুর শীতলতা নিয়ে অন্তরীক্ষ থেকে কেমনতর ডাক পাঠায়! সংকেত পাঠায়।সংযà§â €¹à¦—সূত্রহীন অসহায়তা তো আর চূড়ান্ত নয়।কচুপাতà¦Â ¾à¦° একটা মাথাল হলেই কিন্তু জমিজিরেতে নেমে যাওয়া যায়। তবুও গ্রহণবর্জà¦Â ¨à§‡à¦° প্রস্তাবটা খারিজ করে দিয়ে আনুগত্যের নতুন সব ধারা,বর্ষাà¦Â §à¦¾à¦°à¦¾à§Ÿ রুপান্তরিত হয়।এ যেন কাফকার ‘মেটামরফোà ¦¸à¦¿à¦¸â€™à¥¤à¦•িংবà¦Â ¾ লিবিডো। তখন দিনাজপুর থেকে মাসুদুল হকের ‘তামাকবাড়ঠ¿â€™ থেকে গান,গানস্যà ¦¾à¦²à§à¦Ÿà§‡à¦° মতো কেবলই ধেয়ে আসতে থাকে।মাসুঠ¦à¦¾à¦° তো একসময় আদিঅন্তহীà ¦¨ ঘুরে à¦¬à§‡à§œà¦¿à§Ÿà§‡à¦›à§‡à¥¤à ¦—ঞ্জহাটের ধুলোর মলিনতা নিয়ে সে কি এবার ফিরতে থাকবে! দিনাজপুর শহরে ঘুরে বেড়াবার স্মৃতি নৈশপ্রহরীà¦Â ° মতো ঘিরে ধরলেও মাসুদার তার কবিপ্রতিভà¦Â ¾à¦° চুলচেরা বিশ্লেষণ না করে কি ফিরতে পারে নদীর ওপাড়ের ভাঙা সাঁকোয়! মাসুদুল হক তার নতুন বই ‘আবার কাৎলাহার’ প্রকাশ করে পরোক্ষে কি ভয়ভীতি এড়াতে চাইছে! মাসুদুল ও তার দিনাজপুর তখন একাকার। তুলাইপাঞ্à¦Å “ির সুঘ্রাণ সত্য এটা মেনে নিয়ে মাসুদুল হক অবশ্যই মাসুদার কে পৌঁছে দেবেন খনগানের চিত্রবিচিত ্রের একেবারে মধ্যনিশীথà§â €¡à¥¤à¦¯à§‡à¦–ানে,না চ হবে গান হবে বাদ্য বাজবে আর জীবনের মায়ায় মায়ায় গান ভাসবে-
‘ফুলবাড়িত ফুলমালার বাড়ি
হাট করিবার যামো হামরা
গরুর গাড়িত চড়ি’
এতসবের ফাঁকেও জীবনকে মাসুদার তার কবিপ্রতিভà¦Â ¾ দিয়ে à¦†à¦²à§‹à¦…à¦¨à§à¦§à¦•à¦¾à ¦° দিয়ে ঢেকে ফেলতে ফেলতে কেমনতর এক বিস্তৃতিই হয়ে ওঠে। সোনাপাড়া জুড়ে à¦œà§‹à¦¨à¦¾à¦•à¦ªà§‹à¦•à¦¾à ¥¤ রাত বুঝি জাগাতে থাকে রহস্যকুহকঠ›à¦¾à§Ÿà¦¾,যার চিরকালীনতঠ¾à§Ÿ কার্তিকের হিম জমে। চারপাশের সুপুরিবাগà¦Â ¾à¦¨ সচকিত হয়। দৃষ্টিপথটা কে পরিমার্জন করতে করতে দৃষ্টিপথ অবধারিত দৃশ্যপথে রূপান্তরিà¦Â ¤ হয়। মিথের আড়ালে গেলেও ‘মিথ’-কে প্রকাশ্যে আনবার তাড়না মাসুদারকে চিন্তিত করে ফেলল। অতিনাটকের মতো মনে হওয়া এই জীবন ছেড়ে মাসুদার নদীটদীর দিকে পা বাড়ায়।
৭।
ভাস্কর চক্রবর্তীঠ•ে খুব মনে পড়ছে। পড়ন্ত বিকেলের রহস্যের ভিতর ভিজতে ভিজতে মাসুদার পড়ে ফেলছে ভাস্করের অসামান্য গদ্য-‘শয়নযà ¦¾à¦¨â€™à¥¤ মেইলে পি ডি এফ কপি পাওয়া। মাসুদার ভাস্করের কবিজীবনের কবিজীবনের দিকে এগিয়ে যায় ফুলটুল ও কামলাকিষাঠ£ নিয়ে। চারপাশে নৃত্যগীতেà ¦° মহড়া। মাসুদার চর্যাপদে ফিরে যায়। লুই পা কাহ্ন পা ভুসুক পা-র পৃথিবী জুড়ে বৃষ্টি নামে। ভীষণ মনে পড়ে পালতোলা নৌকোর কথা।মাঝিমà¦Â ¾à¦²à§à¦²à¦¾à¦¦à§‡à¦° সমগ্রতায় আত্মলীন হতে হতে কেমন যেন তার এই উদাসীনতা! তখন নাচ ছুটে যায়,নাচ সচল হয়েই তো গানকে যথাপ্রযুকà§Â �ত প্রয়োগ করতে পারে। এইভাবেই তো মাসুদার তার কবিসত্ত্বà¦Â ¾à¦•ে প্রাসঙ্গিঠ• করেই ফেলে। প্রশ্ন প্রতিপ্রশ্ নের টানাপোড়েন সত্য;কিন্তৠ এখান থেকে বেরিয়ে আগামীর অনন্ত সম্ভাবনাহà§â‚ ¬à¦¨ মেঘকে ডেকে আনা চারতলা গার্লস হোস্টেলের প্রবেশপথেॠ¤ সারাজীবন বইপত্তর নিয়েই কেটে গেল। রাশি রাশি বই। শব্দ অক্ষর বর্ণময়তায় নিমজ্জিত বহুরৈখিক জীবনের পরতে পরতে লিপ্ত হতে হতে মাসুদার হারিয়ে যেতে চাইলেও তা তো আর হয় না।তার জীবনের সন্ধ্যেগুঠ²à¦¿ রাত্রিগুলà¦Â ¿ দিবসদুপুরà¦â€ ”ুলি মোচার খোলের মতো ভেসে যায়।কোথাও বুঝি ওৎ পেতে থাকে হাড়হিম একাকীত্ব। কবি তো একাই! ভিড়ের ভিতর শীতকালের ভিতর ঘোর বর্ষার ভিতর সাঁওতাল পাড়ার ভিতর হাটবাজারেà¦Â ° ভিতর কুয়াশামোড়ঠ¾ বাঁশঝোপের ভিতর কেবলই অসীম এক à¦à¦•à¦¾à¦•à§€à¦¤à§à¦¬à§‡à ¦° খেলা চলে। একাকীত্ব একধরণের অভ্যেস। সঙ্গনিঃসঙà §à¦—তার দিকে সঙ্গনিঃসঙà §à¦—তা নিয়েই তার হাঁটাচলা জীবনযাপন।à¦Â ¸à§à¦¬à¦ªà§à¦¨ দেখার মহড়া। তাকে সিলেট যেতে হয়। হবিগঞ্জ যেতে হয়। সুনামগঞ্জ যেতে হয়। সুরমা নদীর গাঙচিলের ডানার ছায়ায় বিশ্রাম নিতে নিতে সে কেবল জালালী কবুতরের পাখসাটের মৃদুমেদুর ধ্বনিটাকে নিজের ভিতর সন্তর্পণে টেনে নিয়ে আসে। তার চোখ তখন কাছেদূরের গলিটলি পেরিয়ে à¦†à¦¸à§‡à¥¤à¦†à¦¤à§à¦®à¦—à ¦¤ এক দুরান্তরেà¦Â ° গানের দোলায় মাসুদার একধরণের ভ্রমবিভ্রম ের মৌতাতে ওঠে।একাকীà  ¦¤à§à¦¬à¦•ে সে তার অর্জন মনে করে সেরা সম্পদ মনে করে। ভুবনমায়ায় দু’চোখ বুজে আসতে থাকে তার। আচ্ছন্নতাঠ° খুব তিমিরে তার জন্য অপেক্ষায় দু’কলি গান-
‘রং বেরঙের যত নৌকা ভবের তলায় আয়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নাও’

৮।
চাঁদের আলোর সুখ রুপালী ইলিশের সুখ আম্মার হাতের à¦à¦¿à¦™à§à¦—à§‡à¦ªà§‹à¦¸à §à¦¤à¦° সুখ কইমাগুরের সুখ ব্যপ্ত এক জীবনযাপনেঠ° সুখ ঢাকা শহর নবাববাড়ি সদরঘাট রমনা পার্ক ছবির হাট লালবাগ কেল্লায় একা একা ঘুরে বেড়াবার অনন্ত সুখ মাসুদারকে তাড়া করে। অথচ বন্ধুরা বিগত আজ! সুখের আদিঅন্তমধৠà¦¯ নেই।নদী পেরিয়ে কুয়াশার জালে আটকে পড়া নেই।একদিন বেশ চলে যাওয়া যায় বগুড়ায়। ওয়ালি কিরণ ইসলাম রফিক জয়ন্ত দেবদের সঙ্গে ঢের আড্ডা দিয়ে চলে যাওয়াও যায় মহাস্থানগà§Å “ে। তারপরে বগুড়া থেকে জয়পুর পাঁচবিবি হয়ে সোনাপাড়ায় ফেরা। স্বপ্নে স্বপ্নে কোথায় কোথায় কতকোথায় চলে যাওয়া! ভ্রমণ আর ভ্রমণে আটকে না থেকে পরিভ্রমণ হয়ে ওঠে।চাঁদেà ¦° আলো জোরালো হলে মাসুদার পড়তে শুরু করে ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’à ¥¤ যদিও তার সত্ত্বাস্ম ৃতির কোষে কোষে এখনো ক্রিয়াশীল কদিন আগে পড়া মজনু শাহের ‘জেব্রামাঠ·à§à¦Ÿà¦¾à¦°â€™à¥¤ মজনু ভাই গাইবান্ধাঠ°à¥¤ এখন ইটালীপ্রবঠ¾à¦¸à§€à¥¤ মাসুদ মনসংযোগ হারায়। এলোমেলো হয়ে ওঠে।অস্থিà ¦°à¦“। ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’ বন্ধ করে সামনে ঝুঁকে সে উঠে দাঁড়ায়। তার পিঠ ঝুঁকে পরে। আবার বসে পড়ে। টেবিলে রাখা ‘কবিতা পাক্ষিক,,’à¦â€ ¦à¦°à¦£à¦¿â€™,’অনিà¦â €¢à§‡à¦¤â€™ শামীমের ‘লোক’ ‘কবিতীর্থââ ‚¬™ এসব ওলটাতে থাকে। চাঁদ হেলে পড়তে থাকে। ঘুমোতে চলে যায় বাবু ও সুমাত্রা। মাসুদারের অস্থিরতা বেড়েই চলে। আরো এক নির্ঘুম রাত তার অপেক্ষায় এটা বুঝে যায়। এমনটা হয়। হয়েই চলেছে জীবনভর। এই বুঝি হৈহুল্লোড়à§â €¡à¦° বাইরে থাকা দলছুট কবির নিয়তি। নিজেকে প্রশ্নে প্রশ্নে জর্জরিত করে আপাদমস্তক বিপন্নতা নিয়ে সে আকুল এক ব্যাকুলতাà§Å ¸ জীবনের অনাদিঅনন্ঠ¤ রহস্যগুলি সনাক্ত করতে চাইলেও দ্বিধাগ্রà¦Â ¸à§à¦¤ মোহমায়া থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে জীবনের উদ্দেশ্য জানাবার মরীয়া প্রয়াসটুকà§Â �ন শুরুই করে দিলে চারপাশে সমগ্র মস্তিস্ক জুড়ে নির্জনতা নেমে আসে। অবসাদ থেকে বেরিয়ে এসে তাকে প্রবেশ করতে হয় পুনরায় অবসাদের চূড়ান্ত গভীরেই। চাঁদ ডুবে মরে। সোনাপাড়ার পুকুরগুলি বাড়িঘরগুলà¦Â ¿ ইউক্যালিপà ¦Ÿà¦¾à¦¸à§‡à¦° ছায়ায় মোড়া রাস্তাগুলà¦Â ¿ মাঠগুলি চাতালগুলি পাকঘরগুলি চিরদিনের চিরসত্যের মতো জীবনভর মিথ হয়ে হাঁচিকাশিà¦Â �াড়ঝোপসমেত একধরণের পূর্ণতাই বয়ে বেড়াতে থাকে। সব অবসাদ দু’হাতে সরিয়ে দিয়ে মাসুদার উঠে দাঁড়ায় আর চলে যেতে থাকে অমোঘ ভোরবেলার দিকে। পাখি গান গরম চা খেঁজুরপাতঠ¾ আর তুমুল কবিতার দিকে। সে কি জীবনেই ফিরতে থাকে এভাবে!
৯।
সবকিছুই কি আর ব্যক্তিগত থাকতে পারে না কি ব্যক্তিগত করে রাখা যায়! মাসুদার জীবনভর কবিতাই করে গেল। মাথাভরতি শরীরভরতি হৃদয়ভরতি শব্দঅক্ষরঠ¯à¦¤à¦¿à¦¤à¦°à¦™à§à¦— নিয়ে ভরা বাজারের ভিতর ক্রমাগত একা হতে থাকা। কিছুই কি আর লেখা হল! খুব মনে পড়ছে টোকন ঠাকুরের কথ। টোকনের মা কেমন আছেন? গতকাল পড়া সাঙ্গ হল শিমুল মাহমুদের ‘শিলবাড়ির চিরায়ত কাহিনী’। কোনকিছুই ব্যক্তিগত থাকে না। ডুগডুগির হাটে একটা আড্ডা ছিল তাদের। ঢাকা সহ নানান জায়গার বন্ধুরা আসতো। জীবনকবিতাঠ° স্বপ্নে জাগরণে আজও বয়ে বেড়ানো সেই সব আড্ডার স্মৃতি। ব্যর্থতাবà§â€ ¹à¦§ কমে গেলেও পর্বে পর্বে তা ফিরেও আসে আবার। তখন জয়পুর যাওয়া পাঁচবিবি যাওয়া মামাবাড়ি সড়াইল যাওয়া নওগাঁ যাওয়া বাংলাহিলি যাওয়া পাঠ উন্মোচনের মতোন।মাসুà¦Â ¦à¦¾à¦° কি বুঝে গেছে কবিতা লেখার এই জীবন জীবনে নিমজ্জিত এই জীবন কোথাও পৌঁছে দেবে না তাকে। ইতিহাসপুরà¦Â ¾à¦£à§‡à¦° পাকে পাকে à¦²à§‹à¦•à¦²à§‹à¦•à¦¤à§à¦¤à ¦°à¦¤à¦¾à§Ÿ সে কেবল ঘন ঘন দুলে ওঠে। মাথা নাড়ে। পাখিদের ছায়ায় ছায়ায় তাকে বৃত্তাকারà§â €¡ জীবনের খালবিল ও পরিখার বৃত্তেই পাক খেয়ে যেতে হবে। মাসুদার চশমা পরে নেয়। তাকে সঙ্গনিঃসঙà §à¦—তা থেকে বের করে আনেন নির্মলেন্à¦Â ¦à§ গুণ।
১০।
আকুলিবিকুà ¦²à¦¿ নিয়ে আকুতিভরা দ’চোখ স্বপ্নমুখà¦Â ° করে দিয়ে বাল্যশৈশবস ্মৃতিতে নিবিষ্ট হতে থাকে মাসুদার। নানাবাড়ির খোলান থেকে গরুর গাড়িতে খেড়বিছানো কেদারায় গা এলিয়ে আম্মার সাথে কতবার বাড়ি ফেরা। গরুর গাড়ির নিচে দড়িবাঁধা কালিপড়া লন্ঠণ দুলে ওঠে।সন্ধে পেরোলে চারপাশটা নিঝুম। কেমন গা ছমছম ব্যপার। গাড়োয়ানের একটানা হেট হেট হুরুরু ধ্বনিপ্রতি ধ্বনিময়তায় সেই সব যাতায়াত। কখনো প্যাঁচার ডাক কখনো রাতচরা পাখিদের পাখসাট। ছোট ছোট গঞ্জে হাটচালার নিঃসঙ্গতাৠŸ আপাতঅর্থহৠ€à¦¨ অথচ অর্থময় আবহমানতা। যা পীড়ীত করে প্রাণিত করে। ঘোরাক্রানৠà¦¤ হতে হতে মাসুদারের বেড়ে ওঠা।নিজেকà §‡ গড়েপিটে নেয়া। অথচ নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে সরসেবাগিচঠ¾à¦° দিকে যাওয়া হল না তার।সে সিলেট গেল শাহ জালালের মাজার গেল ধামাইল গান শুনে চা বাগান দেখে কখন কিভাবে কুষ্ঠিয়ায় শিলাইদহে গিয়ে পড়লো। রাজশাহীর পদ্মার চরে কবিদের সঙ্গে আড্ডা তার তেমন জমে না। সে চরাঞ্চলের বালি ভাঙতে ভাঙতে পুরো পদ্মাকেই বুঝি প্রদক্ষিণ করে এল।চরবক্ষà§â €¡ খড়ের চালার নিচে চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনতে থাকলো শিশিরের শব্দ। তার দূরাগত যাপনপর্ব তাকে নিশ্চিন্ত নিরাপদ এক জীবন থেকে ক্রমাগত দূরে সরিয়ে রাখে।জীবনà ¦¾à¦¨à¦¨à§à¦¦à§‡à¦° কবিতায় কবিতায় সে জীবনের উজান ঠেলতে থাকে। দূরে ভূতুরে আলোর আবছায়া মেখে দাঁড়িয়ে থাকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ঐ বুঝি ছুটতে শুরু করে ‘সুরমা মেল’।স্মৃà ¦¤à¦¿à¦° পরত খুললে তো গুচ্ছ গুচ্ছ উদ্বেল কাশের বন। উত্থান পতনের দিকে আপ্রাণ যেতে যেতে মাসুদার অপেক্ষা করে অনেকানেক নদীর বাঁকের জন্য। সর্পদংশনেঠ° ক্ষতের জন্য। চকিত দৌড়ে পালানো সাপ ও বেজিদের জন্য। তাকে সুপ্রচুর লেখাপড়ায় ডুবে যেতে হবে। স্বপ্নে স্বপ্নে তার বরিশাল যাত্রা। à¦•à§€à¦°à§à¦¤à¦¨à¦–à§‹à¦²à ¦¾à¦° উদাসীনতায় মিশে গিয়ে ধানসিঁড়ি নদীটির দিকে তাকে অনিবার্যভà¦Â ¾à¦¬à§‡à¦‡ চলে যেতে হয়। হয়তো হেনরি স্বপনের কাছে। তুহিন দাসের কবিতাযাপনà§â €¡à¦° কাছে।তার বিভ্রান্তি কে বিস্তৃততর করে ফেলে মাসুদার শেষপর্যন্à¦Â ¤ ওয়ালীউল্লà ¦¾à¦¹à§‡à¦° লাল ‘শালু’র কাছে নিজেকে সমর্পণ করে। অবিরত কাঁদতে থাকা নদীর কোলে মাথা রাখে। এভাবেই কবিতাময় হয় ওঠে তার যাপন।
১১।
আল মাহমুদের গদ্য তার পছন্দের।‘à ¦ªà¦¾à¦¨à¦•ৌড়ির রক্ত’, ‘জলবেশ্যাââ‚ ¬™ তাকে মগ্ন করে। আবু ইসহাক শওকত আলী শামসুদ্দিন আবুল কালাম আবু বকর সিদ্দিক সেলিনা হোসেন শহীদুল জহীর হয়ে ফিরতে থাকে জফির সেতু মুজিব মেহদী জহর সেন মজুমদার আলোক বিশ্বাস উমাপদ করের লেখার à¦•à¦¾à¦›à§‡à¥¤à¦¸à§‹à¦¨à¦¾à ¦ªà¦¾à§œà¦¾ ঘুমিয়ে পড়লেও মেধার লাঙল ছুঁয়ে থাকা অগনণ ভাষাকর্মীঠ°à¦¾ মাসুদারকে প্রান্তিকà¦Â ¤à¦¾ থেকে বাইরে নিয়ে আসে। বিশাল আকাশের প্রেক্ষিতৠ‡ সব কেমন বিন্দুবৎ মনে হয়।কীটপতঙà §à¦— কৃমিকীট à¦ªà§‹à¦•à¦¾à¦®à¦¾à¦•à§œà§‡à ¦° চলাচল প্রখর হয়ে উঠতে থাকলে কেন জানি তাকে আঁকড়ে ধরতে হয় জয় গোস্বামী ভাস্কর চক্রবর্তীঠ° কবিতা। জলজলার এই পৃথিবী মন্দাক্রাà¦Â ¨à§à¦¤à¦¾ রোদে ভেসে যায়। মাসুদার তার বেঁচে থাকবার বৃত্তান্তà¦â€ ¢à§‡ সম্প্রসারি ত করে দিতে চাইলেও তাকে উন্মনা করে দিতে থাকে দিনাজপুরেà¦Â ° সুপুষ্ট লিচুর স্বাদ যা তার স্বাদকোরক ছাড়িয়ে অনেক অনেক বিকেলবেলাà ¦° যাদুবাস্তব তায় থিতু হয়। বুকে হামা টেনে তাকে এগিয়ে যেতে হয় মানিক তারাশঙ্কর পথের পাঁচালী অমিয়ভূষণ ও দেবেশ রায়ের দিকে। মাদারীর মা গয়ানাথ জোতদার বাঘারু কেমন চেনা মনে হতে থাকে আর চেনাঅচেনাà ¦° গতানুগতিকà ¦¤à¦¾ থেকে ভয়ভীতিত্রà¦Â ¾à¦¸à§‡à¦° বিপরীতে আজীবনের অস্থিরতা তাকে শঙ্কিত করলে সে নিজেকে â€˜à¦šà¦¿à¦²à§‡à¦•à§‹à¦ à¦¾à ¦° সেপাই’-এর ভিতর ছেড়ে দেয়।ডুবিয়à§â €¡ দেয়। বিশালত্বেà¦Â ° ছায়ায় ছায়ায় কত কত জন্মমরণ ছাড়িয়ে একে একে হাজির হয় হাড্ডি খিজির খয়বর গাজি মুক্তিযুদà§Â �ধ বাঙালি জাতীয়তাবাà¦Â ¦à¥¤ মাসুদারের কিছুই করবার থাকে না আর। সে তা স্মৃতিবিস্ মৃতির খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে ঘুম ও জাগরণের চিরনতুনতায় সমর্পণ করে। আত্রাই বিল থেকে শীতল বাতাসের ঘুমপাড়ানি গান নিয়েই তো সে চলনবিলের দেশে শুটকির আড়তে ধানবাংলার কাকের সাথে চলে গিয়েছিল পতিসরে। রবীন্দ্র কাচারী বাড়ির সামনে বসে দীর্ঘ দুপুর ধরে পড়তে হয়েছিল আবার ‘ছিন্নপত্ঠ°â€™à¥¤à¦¸à¦¤à§à¦¯à¦¿à¦‡ তো,জীবনের হাসিআহ্লাà¦Â ¦ প্রসঙ্গটসঠ™à§à¦— দিয়ে তো আর জীবনের গভীর কুহকে অনুপ্রবেশ করা যায় না! জীবনের অর্থময় উচ্চারণগুঠ²à¦¿ তখন বারবার নদীর দিকে নদীতে ভাসতে থাকা সালতিগুলোঠ° দিকে আরো আরো অন্ধকারের দিকে জোনাক পোকার সিজিল মিছিল হয়ে কেবলই ব্যাপ্ত হতে হতে গুহাগাত্রৠ‡ ঝরণার ছবি হয়ে মরণশাসিত পৃথিবীতে কেমনতর এক জীবনযাপনই বহন করে আনে। নদীবক্ষে নেমে যায় মাসুদার সমস্ত হত্যাদৃশ্য একপ্রকার উপেক্ষা করেই।
১২।
সেই ভয়ংকর অসুখগুলি বারবার কেন তার জীবনে ফিরে আসে! বুকের অসুখ নিয়ে এই বেঁচে থাকাটার কোন মানে নেই। তীব্র কাশির ঝাঁকুনি সহ্য করতে করতে অনিশ্চিত এই বেঁচে থাকাটা তাকে হতাশার দেশে বিষাদময়তার দেশে গুটিবসন্তà§â €¡à¦° দেশে নিরুচ্চারি ত সংশয়তাড়িত এক মহামড়কের নৈরাজ্যের ভিতর টেনে নিতে à¦¥à¦¾à¦•à§‡à¥¤à¦…à¦¸à§à¦–à ¦ªà¦°à§à¦¬à§‡ সে তার অবচেতনে টের পায় বুঝে নিতে থাকে আধোআঁধার টানেল দিয়ে গুহাসুড়ঙ্ঠ—ের শিহরণের মধ্যে দিয়ে যেন বাজনা বাজাতে বাজাতে মরুযাত্রীà¦Â °à¦¾ চলেছেন অনির্দিষ্à¦Å ¸ কোন পালকিযাত্à¦Â °à¦¾à§Ÿà¥¤ অসুখ তাকে ধ্বস্থ করে।কোথাও যাওয়া হয়ে ওঠে না তার। জীবনমরণের নো ম্যানস ল্যান্ডে কি দিশাহীন এই ব্যর্থতায় মোড়া মোড়কহীন জীবনযাপন! অসুখ তাকে পরিত্রাণহà§â‚ ¬à¦¨ পরিণতত্বে ঠেলে দিলে তার তো কিছুই করবার থাকে না।অসুখ আশ্রয়হীন করে দিলেও মাসুদার কিন্তু জীবনেই ফিরতে চায়। সুমাত্রার কাছে ফিরতে চায়। বাবুর কাছে ফিরতে চায়। সোনাপাড়ার চৌহদ্দীর ভিতর ময়মুরুব্বà§â‚ ¬à¦° গোরের কাছে অবধারিতই ফিরতে চায়। এবং ফিরেও আসে দ্রুতগামী অশ্বারোহীà ¦° দক্ষতায়। এই যে জড়িয়ে জড়িয়ে বাঁচা;এই যে চমৎকার যৌথতায় বাঁচা,এই যে হাওয়া রোদ শীতবর্ষার ভিতর দিনগুলির প্রবহমানতা ,এই সব নিয়েই তার জীবনকে বিনির্মিত করে ফেলে সে। মাঘনীশিথেঠ° কোকিল ডাকে সোনাপাড়ায়à¥Â ¤ মাসুদার ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। জ্যোৎস্নাà§Å ¸ ভিজে ভিজে বাঁশবাগান সুপুরির বন সোনা মসজিদ তাঁতিপাড়া রহমানের বিল হাই মাদ্রাসার মাঠ পেরিয়ে কোথায় কোথায় চলে যায় সে! তার দৃষ্টিতে জন্মজীবনেঠ° ঘোর ও ঘোরের যাদুবাস্তব পটভূমির ভিতর সে পরম প্রশান্তি বোধ করে।খোলা মাঠের হাওয়ায় মজা ও ম্যাজিক। শিমুলের তুলো ওড়ে। দিস্তা দিস্তা সাদা পৃষ্ঠার সামনে তাকে হাজির হতে হবে। জীবনের সাতসতেরো বুঝে নিতে না চাইলেও মহীপালের ঘোড়া শায়েস্তা খাঁর বাঘনখ লালবাগের হামামখানা চিলমারীর বন্দরের কুলজঙ্গল ভগ্নসব নীলকুঠি à¦Ÿà¦¾à¦™à§à¦—à¦¾à¦‡à¦²à§‡à ¦° গণগ্রন্থাঠ—ার ময়মনসিংহেঠ° সেনবাড়ি রোড রংপুরের কাঁচাসুপাà¦Â °à¦¿ রাজশাহীর সম্রাট স্বপন চাপাই নবাবগঞ্জেঠ° আম সব কেমন গড়িয়ে গড়িয়ে দৃশ্যবন্দর ে নোঙর ফেলে। তখন নদীর পানিতে পানিতে মাঝিমাল্লা রা গান ভাসাতে থাকে নাচ ভাসাতে থাকে;যেন পূর্বজন্ম থেকে চলে এসেছেন হাসন রাজা-
‘সুয়া উড়িলো উড়িলো উড়িলো রে
জীবের জীবন/সুয়া উড়িলো’…
১৩।
তুই কি নাগকেশরের ফুল নিয়ে আসবি আমার জন্য মাসুদার! মেঘের গর্জন শুনে শুনে আপাদমস্তক কোন সমাধানসূতà§Â �রতায় হাড়হিম হতে হতে নির্জনতার পক্ষপাতদুà¦Â ·à§à¦Ÿà¦¤à¦¾ অতিক্রম করে করে হাজার বছরের জীবনযাপনকৠ‡ মান্যতা দিবি! কতবার শোনা গল্প থেকে খসে পড়বে বারকান্দিà¦Â ° বাঘের ডাক।সেই সব বাঘেরা সেই সব à¦œà¦™à§à¦—à¦²à¦Ÿà¦™à§à¦—à ¦² আজ উধাও।বাঘ ও বাঘের ডাক তবুও তীব্র প্রতীক হয়ে অপেক্ষায় থাকে।বারকà ¦¾à¦¨à§à¦¦à¦¿ থেকে যেতে থাকা সোনারোদের এক পৃথিবীতে।ঠ¹à§Ÿà¦¤à§‹ মেঘ ডাকবে। তীব্র দ্বিপ্রহর থেকে আগুনের হলকা।মাসুà¦Â ¦à¦¾à¦° তার দূরমনস্কতঠ¾à§Ÿ সব মিশিয়ে দিলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলেও সেনপালযুগৠ‡à¦° ইতিকথাগুলà ¦¿ মাসুদারকে উদ্বেল করে তোলে।সে কুমিল্লা শেরপুর নীলফামারী লালমনী ঘুরে এসে ধানবাংলার এক বিশ্বস্ত ও নিখুত ছবি উপহার দেয়। এতশেতর মান্যতায় তবুও আগুনের সেঁক নিয়ে চলে যাওয়া দুরদুরান্ত ের ইশারার দিকে।ধানপঠ¾à¦Ÿà¦¤à¦¾à¦®à¦¾à¦•ের দেশে আবারো বৃষ্টি নামলে মাসুদার তার à¦¸à¦‚à¦•à¦Ÿà¦—à§à¦²à¦¿à¦•à §‡ সনাক্ত করে।সোনাপà ¦¾à§œà¦¾à¦° দিনগুলি রাতগুলি তো নিরাপদ থাকতে চায়; যদিও মেঘের নিচে বসে তো আর সব হয় না! বরং নদীগুলি মেঘগুলি পাখিগুলি্ঠ° জন্য তীব্র এক আবিলতা,à¦†à¦•à§à ¦¤à¦¿ তার। এই যে নদীর দিকে নদীভরা ভরাপানির নদীভাঙনের অংশত কর্মকান্ড তাকে উন্মনা করলেও সে তা নয়। আসলে সবটাই দ্বন্দদ্বি ধার এক বকমবকমের সূত্রে ক্রমান্বয়à§â €¡ ধুতুরার বীজ খেয়ে সচকিত হতে থাকা।ভাঙনৠ‡ ভাঙনে লালনের গানে গানে উন্মাদনা ফিরে আসতে থাকলে এই সব অস্থিরতার গোপনে গোপনে ভাসিয়ে নিয়ে আসা ধানের দেশের ফড়িংগুলির হাঁসগুলির আবহমানের মানুষগুলিà¦Â ° মায়াময়তার গভীর গোপন থেকে কবির নিজস্ব নির্জনতা মাসুদারকে তার স্বভাবজাত অন্যমনস্কঠ¤à¦¾à§Ÿ ফিরিয়ে নিয়ে à¦†à¦¸à§‡à¥¤à¦œà§€à¦¬à¦¨à§‡à ¦° পর জীবন সমগ্র আয়ুষ্কাল ধরে সে তার বিষাদবিষন্ নতাকেই নির্মিত বির্নিমিত পুননির্মিত করতে করতে অদ্ভূত এক পারাপারের গল্পকেই বুঝি মাঠপ্রান্ত র ধান ও গানের দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। কবিকে কবি হতে হয়।সন্নাসà§â‚ ¬ ও ফকির হতে হয়।শোলক বলতে বলতে মজনু শাহের মতো ঘুরে বেড়াতে থাকে সে করতোয়ার অন্দরে কন্দরে দিবসরজনীর ক্লান্তিহà§â ‚¬à¦¨ একাকীত্ব তার বাঁচাটাকেঠ‡ তিব্র করে তুলতে থাকে। জীবন থেকে জীবনেই ঘূর্ণাবর্à¦Â ¤à§‡à¦° মতো ফিরে আসা। বরফের মতো শীতল জল পান করে মাসুদার তার নিরাসক্তি নিয়েই শীতলপাটির উপর শুয়ে পড়ে।
১৪।
দেশ তো একটা বাড়ি। সোনাপাড়াও একটা দেশ। অপরূপ এই নন্দিত বাংলাদেশ। জারিগানের দেশ সারিগানের দেশ বাইচের নাও দৌড়োবার দেশ জিকির মারফতি ভাটিয়ালি মুর্শিদি ভাওয়াইয়ার এই দেশে ধানে ধানে,উপচে পরা সোনারোদে ভিজতে থাকা এই দেশের ভিতর সোনাপাড়ার অলিগলি খড়ের চালা সবুজ ঘাসবিচালি অগনণ পাখিদের উড়ে যাওয়া কালবৈশাখীà ¦° আন্ধারিয়া মেঘের মরচে ধরা আলোয় বেঁচে থাকতে থাকতে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে মাসুদার।তা র খড়ের গাদার আগুন নেভেনি। বুকের তুমুল গভীরে তিরতির কাঁপছে। মাসুদার তার বাড়ির নিকোন উঠোনে এসে দাঁড়ায়। দাঁড়ানোটা সাময়িক ভ্রমবিভ্রম ের যুক্তিফাটà¦Â ²à§‡ ধাক্কা দিতে চাইলে মাসুদারের আর দাঁড়িয়ে থাকা হয় না। তাকে চলে যেতে হয় সোনাপাড়ার দিকদিগন্তৠ‡à¦° ভিতর। সোনাপাড়ার সোনাপাড়া হয়ে ওঠার মধ্যে রহস্য আছে। ইতিকথা আছে। মাসুদার দিকদিগন্ত দিয়ে তার পৃথিবী রচনা করে। মহরমের তাজিয়ায় তার সোনাপাড়া আবহমানের এক সোনাপাড়ার মতো। মাসুদার দিকদিগন্ত দিকদিগরের উদ্দেশ্যহৠ€à¦¨ হেঁটে যেতে থাকে। সে তার অসুখবিসুখ তুলাইপাঞ্à¦Å “à§€ চাল ঢেকিশাকের সবুজ হাটবাজার তুলসিগঙ্গà ¦¾ নদী পীরের দরগা ছোট যমুনার চরে ফুটে থাকা কাশিয়ার ফুল বারকান্দিà¦Â ° শেয়ালের ডাক উৎপলকুমার বসু দাউদ হায়দার রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাà¦Â ¹à§‡à¦° কবিতা মঞ্জু সরকারের ছোট গল্প জাকির তাকুকদারেà ¦° ‘কুরসিনামঠ¾â€™ নন্দীগ্রাঠ® বাজারের আড্ডা সবকিছুকেই অনন্ত জীজ্ঞাসা নিয়ে উথালপাথাল উন্মাদনায় সোনাপাড়াকৠ‡ সোনাপাড়ার সকালদুপুরà¦Â ¬à¦¿à¦•েলরাত্রà ¦¿ দিয়ে বহুরৈখিক এক দেশকালের জঙ্গমতায় ধারাবাহিকà¦Â ¤à¦¾à¦° এক ফ্রেমে নিজেকে সমগ্রতার এক উজানরেখায় ফিরিয়ে আনতে থাকে। সোনাপাড়া তখন দেশকালের উর্দ্ধে ওঠা মিথ। কিংবদন্তীà ¥¤ কিংবদন্তীà ¦° দেশে গান বাজে-
‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার
সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার’
১৫।
মাসুদার কি খুলনা যাবে। সাতক্ষীরা যাবে। না কি বাগেরহাট দিয়ে ঢুকে পড়বে সুন্দরবনেà¦Â ° ভিতর। সুজন হাজারীকে কবিতা শোনাতে গিয়ে মাসুদারের স্মৃতিতে জেগে উঠবে ‘ট্রেন টু পাকিস্থান†™ বইটি পড়বার স্মৃতি। কিংবা সেলিনা হোসেনের ‘ভুমি ও কুসুম’। এত এত জীবনযাপন নিয়ে সন্ধান অনুসন্ধান দিয়ে মাসুদার তার ভুবনমায়ায় তার কবিতায় নিজেকে এলিয়ে দিলে সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে রেডিওবিতাঠ¨à¥¤ মাসুদার তার সোনাপাড়ায় জেগে থেকে বেঁচে থেকে বেঁচে থাকতে থাকতে চিরদিনের চিরনতুনত্ব কে চকিত হরিনের পদশব্দের ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে,বিশ্বঠ¸à§à¦¥ ছবিগুলোকেà  ¦‡ মান্যতা দিতে থাকে। এখানেই তার কবিস্বত্বà¦Â ¾à¦° জিত।এভাবেà¦â €¡ তার ভ্রমণ পরিভ্রমণকà§â €¡ সোনাপাড়ার বৃত্ত থেকে সে পল্লবিত করে দিলেও মাসুদার কি বিষাদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে? আত্মখননে এক জন্ম কেটে গেলো তার।সে কি আর্ন্তজাতà¦Â ¿à¦• হয়ে উঠবে ক্রমে! বাতাসের কোন গতিবেগে তুই নিজেকে আটকে রাখিস রে মাসুদার!
১৬।
জীবনের মত বয়ে চলা জীবনকে দু’হাতে জাপটে ধরে মাসুদার। যেমন সে জাপটে ধরে তার সোনাপাড়াকৠ‡à¥¤ মাসুদার গুবরে পোকাদের চলাচল দেখে।তার সোনাপাড়া তার বাংলাদেশ তার দেশকাল জন্মমরণ দিয়ে জন্মমরণের ভিতর দিয়ে মাসুদার আগামীর প্রস্তুতি শুরু করে।সোনাপà ¦¾à§œà¦¾à¦° হাওয়ায় ঢেউ ওঠে। তারপর সারি সারি পিঁপড়ের শোকযাত্রাঠ° মাঝখানে ধানবাংলায় বৃষ্টি নামে। সোনাপাড়ায় বৃষ্টি নামে।

ফেসবুক মন্তব্য