রাত্রি-দিনের নামতা

পিনাকী দত্ত গুপ্ত

হঠাৎ দেখি নাচ্ছে জগাই, তাধিন তাধিন ধিনতা!
দুদিন পরে পরীক্ষা তোর, নেই কী কোনো চিন্তা?
বলল জগাই চিন্তা কিসের, রাত্রি দিনের নামতা?
আলোর ছায়া ঢাকবে কখন হাওড়া থেকে আমতা?
বলতে পারি এক নিমেষে শুনলে মেঘের শব্দ!
অন্ধকারের গন্ধ নাকে এলেই আমি জব্দ।

আলোর ছায়া? চুলকে মাথা খানিক লাগে ধন্ধ।
কোন মুলুকে পাচ্ছে জগাই অন্ধকারের গন্ধ?
মাথার ব্যামো? মনের অসুখ? জগাই কাছে শোনতো!
তিনশ থেকে দুই-শত-পাঁচ উল্টো ক'রে গোনতো!
আপন মনে বলল জগাই, আলোর খানা খন্দ,
অন্ধকারের ঢাকনি এঁটে করতে পারো বন্ধ?

আজগুবি সব ভাবনাগুলি খানিক ভেবে শেষটা,
ডাক পাঠালাম নন্দী-ওঝার অনেক ক'রে চেষ্টা।
ফন্দি এঁটে বন্দি করে মেঘ-মুলুকের কান্না,
নন্দী ওঝা, উল্টো সোজা, কিছুই খুঁজে পান না।
জগাই বলে বলতে পারো আলোর 'পাটিসাপ্টা'
তৈরী হ'তে লাগবে কতো অন্ধকারের ঝাপটা?

কেষ্টা তাকায় ফেলফেলিয়ে, জগাই শুধু হাসে।
ডাইনে ছায়া পড়লে আলো কোন দিকেতে আসে?
কোন আলোতে ফুল ফোঁটে আর কোন ছায়াতে বৃষ্টি?
কোন দুপুরে বাদাম ভাজা লাগতে পারে মিষ্টি?
কোন বিকেলে পান্তুয়া আর সন্ধে হলে তরকা?
চাঁদের বুড়ি নীলচে রাতে কখন কাটে চরকা?

প্রশ্নবানে সবাই যখন টিপছে নাকে নস্যি,
বলল জগাই বলতে পারো কোনটা বেশি দস্যি?
ছমছমে এক রাত্রি নাকি দিন-দুপুরের হল্লা?
আকাশ-গাঙে মেঘের ভেলা টানছে কজন মাল্লা?
মনের সুখে হাসছে জগাই রাত্রি-দিনের ছন্দে,
টাপুর-টুপুর আলোর স্রোতে, অন্ধকারের গন্ধে।

ফেসবুক মন্তব্য