প্রসঙ্গ শ্রী পার্থ রায়:

পার্থ রায় প্রসঙ্গে অর্ঘ্য দত্ত



অত্যন্ত জনপ্রিয় চিত্রতারকা, কবি-লেখক, গায়ক, ক্রিকেটার ও রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রী-সান্ত্রী ছাড়াও এই সমাজে কিছু মানুষ থাকেন যাঁদের কাজের স্থায়ী ছাপ তাঁদের জীবদ্দশাকে ছাপিয়ে যায়। আমরা যারা উত্তর কলকাতায় বড় হয়েছি তারা সবাই শ্যামবাজারের কাছে 'জেবিরায় আয়ুর্বেদিক ম্যাডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটাল'-‌এর কথা জানি। একশো বছরের‌ও বেশি প্রাচীন এই হাসপাতালটির সূচনা করেছিলেন আয়ুর্বেদাচার্য শ্রী যামিনী ভূষণ রায়। আর তাঁর‌ই পৌত্র শ্রী পার্থ রায় মুম্বইয়ে মমতা ফাউন্ডেশনের সূচনা করে এমন কিছু কাজ দীর্ঘদিন ধরে করে চলেছেন যার চিহ্ন এশহরে নিশ্চিত ভাবে আঁকা থেকে যাবে।




পার্থ নিজেও ঠিক সেটাই চান। পার্থ নিজেও স্বামী বিবেকানন্দের সেই অমূল্য কথাটিকে নিজের জীবনের লক্ষ বলে মনে করেন, "পৃথিবীতে এসেছিস যখন একটা দাগ রেখে যা।" যত ক্ষুদ্র‌ই হোক সে দাগ। পার্থ এমন কিছু করে যেতে চান মানবসমাজের সার্বিক মঙ্গলে যার কিছু ভূমিকা থাকবে।

কথা হচ্ছিল পার্থর সঙ্গে। জানতে চাইলাম ওর লক্ষ ঠিক কী?
বললেন, মুম্বাইয়ে জন্ম হলেও আমি তো বাঙালিই। আমার ঐতিহ্য, সংস্কার ও সংস্কৃতির প্রতি আমি কোথাও একটা দায়বদ্ধতা অনুভব করি। আর সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তৈরি করেছি মমতা ফাউন্ডেশন।
চেম্বুরে 'দয়াঘর' এই মমতা ফাউন্ডেশনের একটা উদ্যোগ। এখানে ক্যানসারের চিকিৎসায় আসা বাঙালি পরিবারগুলির জন্য অত্যন্ত কম খরচে থাকা ও খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়।

এছাড়াও পার্থ থানের গাইমুখে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি কালী মন্দির। পঞ্চান্ন ফুট উঁচু এই দর্শনীয় মন্দিরটি সংঘমিত্র কালীবাড়ি নামে সুবিখ্যাত। তবে প্রবাসে বাঙালিদের একা বা সমবেত ভাবে কালীমন্দির নির্মাণ করা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা নয়। এখানে যেটি উল্লেখযোগ্য তা হলো এই মন্দিরটিকে ঘিরে নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে দ্রুত এই সংঘমিত্র কালীবাড়ি মুম্বাই ও থানে শহরে সংস্কৃতিচর্চার এক অন্যতম পীঠস্থান হয়ে উঠছে।



"আমি চাই, প্রতিভাবান নবীন শিল্পীদের জন্য এমন একটা মঞ্চ তৈরি করতে যেখানে তারা অন্ততঃ দুশো-আড়াইশো দর্শক-শ্রোতার সামনে তাদের প্রতিভা প্রদর্শন করতে পারে।"
এবং পার্থ এই কাজটি গত প্রায় ছ বছর ধরে সুনিপুণ ভাবে নিয়মিত করে চলেছেন। পেশাদার এবং প্রতিশ্রুতিবান এমন বাঙালি শিল্পী মুম্বইয়ে কম‌ই আছেন যে বা যারা সংঘমিত্রা কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে কখনো না কখনো অনুষ্ঠান করেননি। পার্থ পরিকল্পনা করছেন কী ভাবে এই মন্দির প্রাঙ্গণটিকে ভবিষ্যতে বাঙালিদের জন্য একটি সুরুচিপূর্ণ অবসর বিনোদনের ঠিকানায় পরিণত করা যায়। তবে শুধু বাঙালিই নয় এখানের নানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন বলিউড-টলিউডের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরাও।



শুধু নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো এবং প্রতি অমাবস্যায় পুজো উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পেট ভরে প্রসাদ খাওয়ানোই নয়, সংঘমিত্র এবং মমতা ফাউন্ডেশন জড়িয়ে আছে আরো নানান সেবামূলক কাজে। রবিনহুড নামের একটি এনজিওর সঙ্গে হাত মিলিয়ে অনাথ দরিদ্রদের জন্য উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ ও বন্টন থেকে শুরু করে করোনা পেশেন্টের জন্য অ্যামবুলেন্স এব‌ং অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করা, সবেতেই পার্থর মানবদরদী মনটির স্পর্শ পাওয়া যায়।

২০১৬ তে বম্বেDuck পত্রিকার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও গত মার্চ মাসে বম্বেDuck-এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান‌ও সম্পন্ন হয়েছে এই মন্দির প্রাঙ্গণেই। সংঘমিত্র কালীবাড়ির সক্রিয় সহযোগিতাতেই। বম্বেDuck-র পাশে থাকতে চেয়ে পার্থ চালু করেছেন স্মারক ও অর্থমূল্য সহ একটি সাহিত্য পুরস্কার, 'সংঘমিত্র সাহিত্য পুরস্কার'। এ বছর যে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়েছে সুসাহিত্যিক আনসার‌উদ্দিনের হাতে।

শ্রী পার্থ রায়ের সমস্ত জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে থাকবে বম্বেDuck পত্রিকার নিস্বার্থ সমর্থন।

ফেসবুক মন্তব্য