বরফকুচি

রিমি দে




থেকে যাওয়ার মধ্যেকার লজ্জাবোধ আজকাল বিপন্ন কালো বেদনাময় হয়ে উঠছে
টনটন করছে পেকে ফুলে লাল

অতঃপর পুঁজ রক্তের সমাহার….

আমি তাকে মুছে যাওয়া বলি
মুখের আগুন মুছে ফেলবার পর আমি বরফ
খুঁজতে থাকি হন্য হয়ে

বরফ নামে পাড়ায় একটি ছেলে ছিল
ওর জন্ম বিহারে মাঘের প্রবল শীতে,ওর উচ্চারণে
কোন দেশি টান ছিল না,ওর কৈশোরে ছিল
তারুণ্যের যোশ দৃষ্টিতে ছিল ভরা বর্ষা
ওকে কলির কেষ্ট বলে সম্বোধন করতাম আমরা
বন্ধুরা মিলে বরফকে লেগপুল করতাম খুব
ও প্রচুর মজা নিতো তা থেকে
ওর একটা টুকটুকে মুন্নি নামে বোন ছিল
একদিন সকাল দশটা সাড়েদশটা নাগাদ আমরা স্কুলে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছি তখন পাড়ায় হইচই শুনলাম
দেখি মুনমুনকে ঠেলাগাড়ি করে হাসপাতালে
নিয়ে যাচ্ছে পাড়ার ছেলেরা,পেছনে সব পাড়ার
লোকজন…
তখন পাড়ায় খুব মিলমিশ
সবাই সবার হাঁড়ির খবর জানত

কিছুক্ষণ পর মুনমুনকে নিয়ে কানাঘুঁসো শোনা গেল…
মানুষের জীববিজ্ঞানের অনেক অজানা সেদিন জানা গেল, গোটা পাড়ার কেউ সেদিন স্কুলে যায়নি

মুনমুন রায় আমাদেরই বন্ধু,বরফদের পাশের বাড়ি
ওরা তিন বোন দুই ভাই
ওর পেটে তিন মাসের বাচ্চা ছিল
ও টিকটোয়েন্টি খেয়ে সুইসাইড করতে চেয়েছিল!

বরফ যাদবকে বিহারে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল
সুস্হ হয়ে বাড়ি ফিরে মুনমুন আর স্কুলে যায়নি কোনোদিন,গ্রামের বাড়িতে চলে যায়,মাঝেমধ্যে আসত
কিন্তু আমরা কেউ আর ওর সাথে হাডুডু খেলিনি
এমনকি কথাও বলিনি
বরফকেও আর দেখা যায়নি আর কোনোদিন

কিন্তু বরফকে আমি ভুলে যাইনি
ওকে খুঁজতেই থাকি এদিকে সেদিকে পাড়ায় দেশে বিদেশে ব্যথায় পুড়ে যাওয়ায়
এমনকি অন দ্য রকস এও

বরফ একটি অদ্ভুত নাম যা আকাশ থেকে বর্ষাকালে পড়লে শিলাবৃষ্টি আর শীতকালে পড়লে স্নো-ফল!

অলংকরণঃ অর্ঘ্য দত্ত

ফেসবুক মন্তব্য