গহনাবাড়ির বাগান

চয়ন ভৌমিক



১)
এই ফাগুন-বিকেল, কবিতার প্রথম পংক্তি;

পাখির ডানা হয়ে, যে বর্ণালী
রং করে আমাদের পশ্চিমের বারান্দা-
বহুদিন ভেবেছি, সেখানে একটা দোলনা
লাগাবো তোমার জন্য।

তারপর যক্ষীর সাজে নেমে যাব রত্নের মাঠে...

জোনাকির মুক্তো ছড়িয়ে আলো করে দেব
বাবুইয়ের নিরালা উদ্যান

জোনাক-দীপ জ্বলে উঠবে আমাদের ছায়াদর্পণে।

২)

প্রসাধনের শেষ পর্বে খর হয় সূর্য
তেজ পড়ে উষ্ণ হয়
বিভোর কপোল।

এখনও জল জমে আছে
ইতস্তত ছড়ানো খন্দে–

এই সবে শুরু হল বাষ্পীভবন...

ঘাম ও অশ্রুর নীচে শুকিয়ে গেল কি
সমস্ত বেদনার মর্মর?

দু-ভ্রুর মধ্যবর্তী লালে এত দাবানল
গাছেরা বোঝেনি এতদিন!

৩)

চন্দনবনের পাশেই
দারুচিনি পাহাড়ে হুল্লোড় আমাদের।

ধূপগন্ধ মেখে এই যে মন্দিরে ঘন্টা বাজলো
উলুধ্বনি ও শঙ্খডাকে বল্লম
বিঁধে গেল বুকের সঠিক দিকে–

তারপাশেই কে যেন লিখে গেছে
‘আর মিটবে না বন্দিদশা’

এখন কীর্তনের বসন্ত
রাতভর এই যে হরিখেলা–

এ’ কোন অন্নকূটের দিকে
টেনে নিয়ে চলেছে আমাদের?

৪)

ঋতুসংহার করে এইমাত্র
তুমি নেমে গেলে সায়রের জলে।

সেখানে অন্ধকার সবুজ,
শ্যাওলা আঁশটে, দিগন্ত বৃষ্টিবহুল।

এতদিন স্থলজীবন অভ্যাস করেছ তুমি,
দেখেছ আপাত শুষ্ক আকাশ-

আর, এখন এই মাছেদের রাজত্বে
অনুপ্রবেশকারী হয়ে
অবসাদগ্রস্ত কোনো ভাঙা জাহাজের ডেকে
খুঁজে বেড়াচ্ছ, অলঙ্কারের বাহারি বাক্স;

যার ক্যাপ্টেন এক ঝড়ের রাতে
তোমাকে দীর্ঘ চিঠিতে লিখে গিয়েছিল
কম্পাস খারাপ হয়ে যাওয়ায়-
সে দিকভ্রষ্ট;

এক প্রাচীন ও করুণ প্রবাদ,
ঠিক এ'ভাবেই, জন্ম নিচ্ছিল
মহাজীবন ধরে...


অলংকরণঃ কল্লোল রায়

ফেসবুক মন্তব্য