বিবেকের কামড়

কল্লোল রায়




এক

অতি সন্তর্পনে মাস্টার-কিটা দিয়ে মেইন দরজাটা খুলে ভিতরে ঢুকে তাহির বুঝলো যে সে ভুল ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়েছে। খবর ছিল পাঁচশো দুই নম্বর ফ্ল্যাটে বেশ কিছু মালকড়ি, মানে গয়না ক্যাশ রাখা আছে। দুপুরের দিকটা এই ফ্ল্যাট খালি থাকে। কিন্তু মনে হচ্ছে লিফ্টে ভুল করে চার নম্বর সুইচ টিপে দিয়ে পাঁচশ দুই-য়ের জায়গায় দিব্যি চারশো দুই-য়ে ঢুকে পড়েছে। এখন কি করা। বাইরে করিডরে লোকের আওয়াজ। এক্ষুনি বেরনো যাবে না। তাহির ভাবলো ততক্ষন দেখাই যাক না এই ফ্ল্যাটে যদি কিছু পাওয়া যায়।

পনেরো বিশ মিনিট আতিপাতি করে খুঁজে কিছুই পাওয়া গেল না। আলমারি, সুটকেস, ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার ভোঁ-ভাঁ। ব্যাটা করে কী! অফিস পাড়ার প্রফেশনাল ভিখারী নাকি! ঘরের চারপাশে না কাচা লুঙ্গি, তোয়ালে আর আন্ডারওয়ার ঝুলছে। দু-একটা খালি মালের বোতল সোফার পিছনে লুকিয়ে রাখা আছে। এ-তো ইংরেজি ব্র্যান্ড বলেই মনে হয়। তাহলে বোধয় ভিখারী নয়, ব্যাচেলর ট্যাচেলার হবে।

খুঁজতে খুঁজতে হটাৎ তাহিরের চোখ গেলো আলমারির লকারের পিছন দিকটায়। একটা ছোটো কাঠের বাক্স। বাক্সটা বেশ পুরোনো আমলের বলেই মনে হয়। ভিতর থেকে একটা সুন্দর গন্ধ আসছে। খুলে দেখে একটা সোনালী রঙের চকচকে জিনিস। নিশ্চয়ই দামি কিছু হবে। বাইরে প্যাসেজে লোকজনের আওয়াজ কমে আসছে। সেই ফাঁকে তাহির ছোট বাক্সোটা পকেটে পুরে টুক করে ফ্লাট থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির কাছে চলে এল। বুঝল লোকজনের ভিড় এখন উপরে পাঁচতলায় গেছে, কথাবার্তার আওয়াজ আসছে। যাই হোক এখন পাঁচশো দুই-এ যাওয়া যাবে না। তাই তড়িঘড়ি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে তাহির রাস্তার ভিড়ে মিলিয়ে গেলো।



দুই

একটু রাত হলে, ঝুপড়ি ঘরে দরজা বন্ধ করে স্ট্রিট লাইট থেকে টানা লাইনে অল্প পাওয়ারের বাল্ব জ্বালিয়ে তাহির সন্তর্পণে বাক্সোটা খুললো। আট বাই আট ফুটের ঘরে নয় নয় করে গোটা দশেক ছেলে বুড়ো নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে। বাক্সোটা খোলার সঙ্গে সঙ্গে একটা মিষ্টি কিন্তু তীব্র গন্ধ সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়লো। তাহির একটু ভয় পেলো, এতো সুন্দর গন্ধে বাকিদের ঘুম না ভেঙে যায়।

বাক্সের ভিতরে জিনিষটা আঙ্গুল লাগিয়ে পরখ করে দেখল। অদ্ভুত জিনিসটা। দেখতে এক্কেবারে একটা সোনার তাল। অথচ আটার গুলির মতো তুলতুলে নরম, চটচটে, আঙুলে আটকে যায়। বাক্সো থেকে বার করে হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে দেখলো, সত্যি যেন একটা নরম সোনার গোলা। সন্তর্পনে ওটাকে বাক্সে রাখতে গিয়ে দেখলো বেশ কিছুটা হাতের তালুতে লেগে গিয়েছে, চাদরে হাত ঘষলেও হাত থেকে যাচ্ছে না। সে যাক গে, পরে দেখা যাবে। তাহিরের হটাৎ ভীষণ ঘুম ঘুম পেতে লাগল। কিছুতেই চোখ খোলা রাখতে পারল না। কোনোমতে বাক্সোটাকে তোষকের তলায় গুঁজে দিয়ে পা থেকে মাথা অবধি চাদর দিয়ে ঢেকে তাহির ঘুমিয়ে পড়ল।

ঘুমের মধ্যে অনেকগুলো ছবি চোখের সামনে ঘুরপাক খেতে লাগল। আজ অবধি যত লোককে ঠকিয়ে সে টাকাপয়সা হাতিয়েছে, তাদের সবার লম্বা, গোল, ফরসা, কালো মুখগুলো একে একে চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল। এই সব ধান্দায় আসার আগে কিছুদিন ও একটা গ্যারাজে কাজ করত। বেশ ভালোই চলছিল। মালিক ওকে পছন্দ করত। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তাহির চুরিচামারি আর লোক ঠকিয়ে পয়সা হাতানোর কাজ শুরু করে দিল। জানতে পেরে মালিক একদিন আলাদা করে ডেকে বলেছিল, “দেখ ভাইজান, ওই ধান্দায় পয়সা হয়তো আছে, লেকিন সুকুন নেই। ছেড়ে দে ওসব ধান্দা।” কিন্তু ততোদিনে তাহিরের মনে টাকার নেশা ধরে গিয়েছে, ও গ্যারেজে কাজ ছেড়ে দিল।

একবার তাহির স্বপ্ন দেখলো যে অনেক লোক ওকে রাস্তায় তাড়া করেছে। ও ছুটছে হাতে সেই কাঠের বাক্সো। হটাৎ হুড়মুড় করে পড়ে গেল মুখ খোলা একটা ম্যানহোলের গর্তে। ম্যানহোলের ঢাকনাটা কিছুদিন আগে তাহিরই চুরি করে বেচে দিয়েছিল এক স্ক্র্যাপ ডিলারের কাছে। গর্তটা ভীষণ গভীর। নিচে পড়ে যেতে যেতে দেখে চারিদিকে শুধু দমবন্ধ করা অন্ধকার আর পাঁক। ঠিক সেই সময় ধড়ফড় করে ঘুমটা ভেঙে গেলো। বিছানায় উঠে বসে দেখে যে দর দর করে ঘামছে।

ব্যাপারটা ঠিক কি হয়েছে তা বুঝে উঠতে ওর একমিনিট সময় লাগল। একেই বোধয় বলে বিবেকের কামড়। বিছানার তলা থেকে কাঠের বাক্সোটা বের করে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে এলো। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে পুলিশ স্টেশনে পৌঁছতে হবে। রাত তখন আড়াইটা কি তিনটে।


তিন

বিপদে পরে সবথেকে আগে সমীরের মাথায় যে নামটা এলো সে হলো ওর অফিসের কলিগ গৌতম। গৌতম সামনের এপার্টমেন্টে থাকে। দুজনেই মাঝ বয়সী, ফোর্সড ব্যাচেলর। নিয়মিত একই সাথে অফিস আসা যাওয়া করে। সমীর বাড়ি ফিরে দেখে তালা খোলা, দরজাটা হাতের অল্প ধাক্কায় আপনিই খুলে গেল। কী সর্বনাশ, তাহলে কি সকালে তাড়াহুড়োতে দরজা লক করতে ভুলে গিয়েছিল! তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে লাইট জ্বালিয়ে সমীরের বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল। বুঝল, একটা অঘটন ঘটে গিয়েছে। বসার ঘরে জিনিসপত্র লন্ডভন্ড। দৌড়ে বেডরুমে গিয়ে দেখে আলমারি হাট করে খোলা। জিনিসপত্র এলোমেলো, মাটিতে ছড়ানো।

ফোন পেয়ে ফ্ল্যাটে পৌঁছতে গৌতমের সময় লাগল তিন মিনিট। গৌতম আবার খুব ঠান্ডা মাথার মানুষ। সমীরকে শান্ত করে সোফায় বসিয়ে বললো “আগে দেখো, কী কী খোয়া গিয়েছে। তারপরে নাহয় পুলিশের কাছে যাওয়া যাবে।”

“বাড়িতে আছেটা কী, যে খোয়া যাবে? আমি ভাবতেই পারছিনা যে শেষ পর্যন্ত আমার ফ্ল্যাটে চোর ঢুকেছে!”

“তাহলে আর চিন্তার কী? দেখো, চোর হয়তো ফ্ল্যাটে ঢুকেছিলো ফ্রিজের ঠান্ডা জল খেতে।” গৌতম সোফায় একটু গা এলিয়ে বসল।

এবার বোকা বোকা মুখে সমীর বললো “সবই ঠিক আছে, শুধু ওই একটা বাক্সো ছাড়া।”

“বাক্সো? তা বাক্সে কি ছিলো, গয়নাগাঁটি, টাকাপয়সা?”

সমীর ভীষণ লজ্জিত মুখে বলল,“না ওসব কিছু না, ছিল আমার বিবেক।”

এবার গৌতমের হাসির পালা, কিছুক্ষন হা হা করে হেসে নিয়ে বলল, “দোস্ত, সরকারি অফিসে কাজ করে আজকাল নিজের বিবেক কেউ নিজের বাড়িতে রাখে নাকি। জানো না কত ধরপাকড়, ইনকাম ট্যাক্সের রেইড চলছে? আমি তো সেই কবে থেকে আমার বিবেকটাকে ব্যাংকের লকারে রেখে দিয়েছি।”


চার

থানার সাব ইন্সপেক্টর বিকাশ হাজরা। অসম্ভব দাপুটে পুলিশ অফিসার। এলাকার যত ক্রিমিনাল, পকেটমার, চোর জোচ্চোর, ডাকাত, তোলাবাজ, চিটিংবাজ সবাই ওনাকে সমঝে চলে আর ঠিক মাসের এক তারিখ থানায় গিয়ে মাসহারার টাকাটা জমা করে দিয়ে আসে। সেই ইন্সপেক্টর হাজরার আজ সকাল থেকেই মনটা ভালো নেই। কেমন যেন একটা উদাস উদাস ভাব। তাহির এলাকার এক নম্বরের চোর জোচ্চোর। ব্যাটা গতকাল রাতে থানায় এসে কেন যে হটাৎ একগাদা কনফেশন করে একটা কাঠের বাক্সো ওনার কাছে রেখে গেল, সেটা তিনি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

ভোর রাতে বাড়ি ফিরে ঠান্ডা জলে স্নান করে বিকাশবাবু বাক্সোটা নিয়ে খাটের উপর বসলেন। ঢাকনা খুলে ভিতরে একটা সোনার তাল দেখলেন, তারপর একটা সুন্দর মিষ্টি গন্ধ নাকে এল। নরম জিনিসটা হাত দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করতে করতেই চোখে ভীষণ ঘুম এসে গেলো এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়লেন।

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তিনি ছোটবেলার আর কলেজ জীবনের অনেক সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখতে লাগলেন। বন্ধুদের সাথে কাদা মাঠে ফুটবল নিয়ে মাতামাতি, নদীর পারে পিকনিক, ছাদের উপরে ঘুড়ির লড়াই আরও কত কত ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল। তারপর পরীক্ষা দিয়ে একদিন পুলিশের চাকরি জুটে গেল এবং তার সাথে সব ভালো লাগাগুলো জীবন থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে লাগল। স্বপ্ন দেখলেন যে অপরাধীদের ধরতে গিয়ে নিজে ক্রমশ অপরাধ জগতের অন্ধকার গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাচ্ছেন, কিছুতেই আর পথ চিনে ফিরে আসতে পারছেন না। ওনার কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগল। হটাত প্রচন্ড বিবেক দংশনে বিকাশবাবুর ঘুম ভেঙে গেল। কিছুক্ষন বিছানায় থম মেরে বসে থেকে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, অনেক হয়েছে আর নয়। আজই লালবাজারে গিয়ে বড় বসের কাছে সবকিছু স্বীকার করে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে দেবেন।


পাঁচ



এর মাস ছয়েক পরের ঘটনা।

সন্ধ্যে প্রায় আটটা, টিভিতে খবর শুরু হবে। সিরিয়ালগুলো শেষের মুখে। হটাৎ করে ঘোষণা করা হলো যে, সিরিয়াল-টিরিয়াল সব বন্ধ। এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে একটা বিশেষ ঘোষণা করবেন। সমস্ত চ্যানেলে সেটা টেলিকাস্ট করা হবে। দেশের লোকজন একটু নড়েচড়ে বসলো, আবার কি ঘোষণা হবে রে বাবা। কয়েক বছর আগে টিভিতে এইরকম এক সান্ধ্য ঘোষণা অনেকের অনেক রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল।

“আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা। আজ আমাদের দেশ এক গভীর সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সঙ্কট মানে প্রায় এমারজেন্সি সিচুয়েশন। আমাদের দেশবাসীর বৃহত্তর অংশ এক অতি জটিল ও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এখন তা মহামারীর রুপ নিয়েছে।। এই অসুখ শরীরের নয়, বাসা বাঁধছে সবার মনে। দেশে সবাই একসাথে সত্যি কথা বলতে শুরু করে দিয়েছেন।

আপনারা হয়তো খবরের কাগজে আর টিভিতে দেখে থাকবেন যে এই কয়েক মাসে ফ্যামিলি কোর্টগুলোতে লাখে লাখে ডিভোর্স ফাইল জমা পড়েছে। কারণ স্বামী ও স্ত্রী সবাই বিবেকের তাড়নায় নিজের নিজের জীবনের গোপন সত্য প্রকাশ্যে বলতে শুরু করে দিয়েছেন। তার ফলে দেশ জুড়ে বৈবাহিক সম্পর্কগুলো একে একে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। পলিটিশিয়ান, আমলা আর বিজনেসম্যানরা বিবেকের তাড়নায় নিজেদের জীবনের যাবতীয় কেচ্ছা কেলেঙ্কারি, স্ক্যান্ডল, পার্টিফান্ডের সিক্রেট একাউন্ট প্রেসের কাছে ফাঁস করে দিচ্ছেন। তার ফলে পাবলিক রাস্তাঘাটে ওনাদের দেখলেই ব্যাপক গণধোলাই দিচ্ছে।

বন্ধুগন, আমি ঠিক জানি যে এটা আমাদের শত্রু দেশের চাল। ওরা সুকৌশলে বিবেকের কামড় নামে এই ছোঁয়াচে রোগ ছড়িয়ে সারা দেশে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ওদের উদ্দেশ্য ইন্ডিয়ার সমস্ত সিক্রেট খবর ফাঁস করে দিয়ে দেশকে উইক করে দেওয়া। সুতরাং এটা এখন আমাদের জাতীয় সংকট। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন। লোককে আর সত্যি কথা বলতে দেওয়া যাবে না।

তাই আমরা ডিসিশন নিয়েছি যে, আজ মধ্য রাত্র থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য দেশ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে।” এতো কথা একসাথে বলে প্রধানমন্ত্রী এক ঢোক জল খেয়ে নিলেন।

“আমার প্রিয় দেশবাসীরা, আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের সাইন্টিস্টরা সত্যি কথা না-বলার ভ্যাক্সিন বাজারে নিয়ে আসবেন। ব্যাস তারপরেই আমরা এমার্জেন্সি তুলে নেবো। এর মধ্যে আপনাদের সবাইকে আমার অনুরোধ যে আপনারা নিজের নিজের বিবেক কৌটোয় ভরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকারি ব্যাঙ্কে জমা করে দিয়ে আসুন। এই মাসের ত্রিশ তারিখের পরে নিজের বিবেক সঙ্গে রাখা ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য করা হবে। সুতরাং বিবেক হটান, দেশ বাঁচান। আসুন আমরা সবাই মিলে এক বিবেকহীন দেশ গড়ে তুলি। জয় হিন্দ।”

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষ হতেই সমীর, তাহির আর বিকাশ হাজরা নিজের নিজের বাড়িতে টিভিগুলো বন্ধ করে দিয়ে প্রায় একই সঙ্গে বলে উঠলো, “যত্ত সব ফালতু বকোয়াস।”

গত পাঁচ-ছয় মাস হল চাকরী বাকরি আর পুরনো ধান্দা ছেড়ে দিয়ে ওরা তিনজনেই নিজের নিজের এলাকায় তিনটে অনাথ বাচ্চাদের নিয়ে স্কুল শুরু করেছে। বাচ্চাগুলোর সাথে হইচই করে আজকাল ওদের বেশ ভালো সময় কেটে যায়। কচিকাঁচাদের হাসি মুখগুলো দেখলে মনটা হাল্কা লাগে। আজ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে গিয়ে বাচ্চাগুলোর কাছে পৌছতে বেশ খানিকটা দেরি হয়ে যাবে। রাত হয়েছে। ছোট ছেলে মেয়েগুলো নিশ্চয়ই এতক্ষনে খুব খিদে পেয়েছে, আর শুকনো মুখে বসে আছে সমীর, তাহির আর বিকাশ বাবুর আসার অপেক্ষায়।

অলংকরণঃ কল্লোল রায়

ফেসবুক মন্তব্য