শূন্যতম বোধের খিলান

মনোতোষ আচার্য



এক.

আলো যেন মায়াময় স্বপ্নঘেরা নম্র উঠোন
দুয়ারে ক্ষতের ছায়া মেঘ ভরা রৌদ্র উপাসনা
পাড়াগুলি উপবাসী ছায়া তার আদিখ্যেতা পাথর-প্রতিমা
সন্তান ব্রতের সন্ধে বুড়ো বটপাতাটির মতো
নেমে আসে মাটির গভীরে
তুমি ঠিক বলেছিলে বিগত জন্মের কথকতা
ক্লান্তিহীন হিমশূন্যতায়...


দুই.

মনখারাপের ঋতুর ভেতর বেড়ে ওঠা অভ্যাসের কাছে
তিন প্রজন্ম ঋণ রেখে গেলাম
সহস্র যাপনবিধি চিবোতে চিবোতে আয়ু ক্ষয়ে গেল
আত্মপ্রচারের পালিশ ধুয়ে গেল
তবু কি কখনো পাথরকুচির হিমায়িত স্তব্ধতা আয়ত্ত করিনি
আজ বুকের কাছে দেনার পাহাড় উঁকি দিচ্ছে
স্পষ্ট ইঙ্গিতে জ্বলজ্বল করছে শব্দ-শ্রমিকের প্রেতচ্ছায়া...


তিন.

মৃত্যু মেখে তোমার দুয়ারে খুঁটে নিচ্ছি স্বপ্নের ভাত
দু'মুঠো আগুন দাও শুদ্ধ হই চেতনার কাছে
এ-ই ছেলেখেলাময় দিনরাত শুধুই গোপন কথা বলে
একাকী নিঃস্বভূমি বনে বনে জ্বলে ওঠা লোভ
ঘাসে ও পাতায় জানি রেখে যায় কালের স্বাক্ষর...


চার.

নোঙর পড়েছে দেখি হৃদয়ের মোহনায় আজ
সন্ধ্যার সিঁদুরমাখা
প্রিয়তম অনার্য আকাশ
এই জন্ম পরম্পরা দুঃখের পাঁচালি মাখা রাত
আহারের সন্ধানে কেটে যায় পর্ণমোচী বেলা
সময়ের সারাগায়ে ফুটে ওঠা উপদংশগুলি
সম্পর্কের গোপন অসুখ বলে লোকে...


পাঁচ.

সারাপাড়াময় ক্লান্তির অণুরেণু মেখে
তুমি মেঘময় দেবতার থানে নৈবেদ্য সাজিয়ে একাকিনী
দূরে দূরে জ্বলে ওঠা উল্কার আগুন
হৃদয়ে ধারণ করে শুয়ে আছো ঝরণার পারে
আলোক অন্বিত সন্ধ্যা গাঢ় হয় শঙ্খধ্বনি
দু'চোখে আঁধার নেমে করে রাখে আমরণ ঋণী...


ছয়.

কবিতার কাছে খুলে বলা যায় কথা ---আত্মমগ্ন
জলের ওপিঠে ছাদ, আকাশের গাঙে জ্বলে ওঠা চির-চাঁদ
কখনো আড়ি কখনো জমাটি ভাব
কবিতার কাছে খিদে খিদে অভ্যাস বলে ফেলা যায় ধানাইপানাই ছেড়ে
মজা অক্ষরে ধ্বনি বিলাসিতা আর ফসলবিহীন উদ্ধত সংলাপ
কবিতার গাছে পাতাখসা রোদ্দুর দশকে দশকে রূপবতী ছন্দেরা
চেতনার ঋণে জড়িয়ে মাত্রা-লয় থেমে গেছে তার দুর্মর অব্যয়

গার্হস্থ্য অক্ষরে জাগে স্মৃতিলেখা অনন্তসম্ভবা বুদবুদ
সময় বিমুখ হলে বেঁচে থাকে জীবনের আকন্দ হলুদ।


অলংকরণঃ কল্লোল রায়

ফেসবুক মন্তব্য