তিনটি কবিতা

রুমা ঢ্যাং অধিকারী



১/ শুবাদ্


ভেনাসকক্ষে আলোড়ন ফেলে এসে
কীভাবে বলব কুসুমকাননের মেদহীন আহ্লাদের কথা?

তোমার অগম্য দেশে একে একে
ভেঙে যাচ্ছে মেঘের মুকুট

গুটিপোকা যন্ত্রে গ্রীবা পেতে
তুলে ধরছি সুতোর হাহাকার

একদিন অস্বস্তির বেলতলায় কারা যেন ভিজিয়ে গেছিল
পাথরের দরজা, কালো বেড়ালের চরকি কেটে

তারপর থেকে জরা শীর্ণ করে
বসে থাকে তীর্থের কাক, ঝিম ধরা জানু নুইয়ে

সমস্ত তিরপ্রসঙ্গে তবু ইচ্ছে করে
ধুতরোগাছের নিচে গেঁথে রাখি স্পর্শকাতর

এই আমার স্পন্দনশীল মাটির হৃদকমল
কলোরাডোর ধারে ডাঁই করে রেখে
ভুলে গেছি... ভার নামানো মগজের আয়ুকাল



২/ নৃসঙ্গহীন


এর থেকে অনেক বেশি গুনেছি জলের শ্বাস
একা শূন্যতা সেখানে বৈরিভাবাপন্ন

তবু ফতুর নিয়তি জেনেছে
উৎসবের মর্জি ফুরানো ফুলের মেলা সমাপ্ত হয়
পোড়া মতলবের কাছে

দূরত্ব দিয়েই ওরা যদিও আমাকে নগ্ন করেছে
পাত্তাড়ি গোটানোর কথা ঘূনাক্ষরেও প্রকাশিত নয়

থামের পাশা খেলায় এমনিই স্পর্শকাতর
লুট হয়েছে মহার্ঘভাতায়
আমি তাকে পরার্থে চিনেছিলাম

অর্ধেকতম আয়াস থেকে সেদিন
গা ঝাড়লাম, নড়েনি কোথাও তৃণাদ ঠোঁট

কারণ পুবদিকে ছিলাম বিভূতিভূষিত

প্রথমবার মড়িঘরে
দীর্ঘ সহবাসে
স্বঅঙ্গ নিধনযজ্ঞ... আরও পাকাপাকিভাবে



৩/ মজলিশের দক্ষিণমেরু


সান্দ্রসজ্জার বিকেল মূকগণ্ডিতে আবদ্ধ

পাঁচিলের দিকে মিটিমিটি চেয়ে বেড়াল, সেই এক মাছলব্ধ
সহজমতে ঝুঁকে থাকা তার চোখ

পুরনো স্ক্রাবার রগড়ানো পথে, ফিরে আসছে উত্তরাস্য পিদিম
প্রিয়জনের শব্দের সামনে চাগিয়ে ধরি লাউমাচা

হে নির্বাক, ষোলোয়ানায় ভেঙে দাও বঁইচি বাগান
দুয়ারে শ্যাওলা যোগ সাধনার্থে

এইখানে দ্যুতি জ্বেলে সসেজ পোড়ে। এসো, পূর্ণ বরাবর
হাঁটি ঝিঙেখেতের আলে

শুনতে পাচ্ছ মাটির গান
যেখানে থিতিয়ে পড়েছে একগ্লাস আপেল শরবত?

সন্ধ্যাতারা... ঈষৎ সরে গেল কি
আর মজলিশের দক্ষিণমেরু!

অলংকরণঃ কল্লোল রায়

ফেসবুক মন্তব্য