বছর পরে...

ঝর্না বিশ্বাস



মেরিন বীচে আজ একটুও খালি নেই... ছাতা সব নীচু হয়ে আছে। জয়ি ও দীপ এখানে অনেক বছর পর...
- চলো, ওইখানটায় বসি...

সকাল থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি... এখন খুব জোর হয়ে এল...

- কি করে এলে?
- কেন? রাস্তা তো সেই একই আছে। জায়গা চিনতে ভুল হয় না আমার, জানোই তো!

একটা ঝালমুড়িওয়ালা তখন চপচপ ভিজে হয়ে এগোচ্ছিল। জয়ি ডাক দিল। তারপর তাকে দাঁড় করিয়ে,
- ভাইয়া, আচ্ছে সে দো বনাও...এক বহত তীখা, অর এক বিনা প্যাঁয়াজ কা...
- এখনও মনে আছে জয়ি?
- থাকবে না আবার! নাক চোখ লাল করা সেই দিনগুলো ভুলি কি করে বলো!

পাশাপাশি বসতে গিয়ে একটা সাদা চুলে টান পড়ল দীপের...
- যাহ্‌ ওটা বোধহয় ফস্কে গেছে জয়ি। দেখ, পুরো মাথাটা আজ কালো করে এসেছি...

শুনে জয়ি হাসল। খুব হাসল সেই আগের মতন। বৃষ্টি আরো জোরে হলো... তোলপাড় করা সমুদ্র তখন আর এই জায়গাটা মনে করাচ্ছিল অনেক কিছু...

তবে এতদিন পর দেখা করতে এসে মন খারাপ করা চলবে না... জয়ি তাই বায়না ধরল,
- এই তারাপুর যাবে?
- ওখানে তো বাচ্চারা যায়। বড় বড় মাছগুলো কেমন হাঁ করে তাকিয়ে বুরবুরি কাটে, ওসব আমার ভালোলাগে না...

কিন্তু জয়ির আবদারের কাছে আবারও দীপকে হার মানতে হল... আর ওখানেই তো শেষ দেখা... তারপর এতদিন কেবল দু জনে ঘরকন্নাই করে গেছে...

মাছঘরে ঢুকতেই ভেতরটা গুমোট অন্ধকার... তার ওপর মাছগুলো কেমন বৈজ্ঞানিক নাম নিয়ে বেশ করে সেঁটে আছে দেওয়ালে...

জয়ি সব মন দিয়ে দেখছে... কাচের গায়ে লেখা “ডোন্ট টাচ্‌” শব্দগুলো বড্ড সেকেলে... তাই আরো শক্ত করে ধরে থাকল দীপের হাতটা... ওপাশে একটা বুড়ো কচ্ছপ তখনও মুখ গুঁজে আছে... হয়তো বা অভিমানে, ওর কোনও দীপ নেই...

জয়ি তাই হাসছে, টোকা দিচ্ছে মাছগুলোর গায়ে... আর বাইরেতেও অন্ধকার হয়ে এল...
- কী করে ফিরবে জয়ি?
- মেয়ে আসবে। পাঁচটায় কলেজ শেষ। বলেছি গেটেই থাকব...
- আর তুমি!
- আমি সোজা ট্যাক্সিতে... একা মানুষদের কি কেউ নিতে আসে সোনা...!

অলংকরণঃ কল্লোল রায়

ফেসবুক মন্তব্য