তিনটি কবিতা

বিদিশা সরকার




একমুঠো মেঘ

এই যে আমি ছদ্মবেশী
রোজ উপোসী
বৃষ্টিধারায় কান্না সারি
পথ হারিয়ে আবার পথে
চিনতে শেখার আকাশকালীন
এক বারোমাস
এই যে আমি বলতে বলতে
আবার থেমে নতুন করে পাঠক্রমে
মন বসানোর ধানাই পানাই
হচ্ছে না আর।
পাশের বাড়ির খবর শুনে মন খারাবির
মেঘলা ড্রয়ার
ব্লটিং পেপার
ঝাপসা কাঁচে বাষ্প মুছে তোমায় দেখি
এক পরিবার যৌথ খামার
এই যে আমি বলতে গিয়েও
পারছি না তো
রোজ পালানোর সেই বাহানা
চলিত সাধুর নীলচে জমাট
কালশিটে কার জন্য লুকাই
পারছি না তো
এই যে তুমি একমুঠো মেঘ
পাগল পাড়ায় রোজ বেচো খুব সস্তা দরে
আমায় ভেজাও একমুঠো মেঘ
আবার ভেজাও সস্তা দরে
আমি যে রোজ কান্না সারি
আজও যেমন
একমুঠো প্রেম সর্বনাশের।


পাঁকজন্ম


জাফরিকাটা ঘরে ঢুকে পড়ে
অসম্ভব ছাট
নৌকো তো ভাবনাবিলাস
ভাটিয়ালি ট্রানজিস্টারে বাজে
আবহ রচনাবলী ভুট্টা সিরিজে

ভোগের প্রসাদে কার তুলসী চন্দন
অভাজন একাই সমস্তটুকু
একাই ব্রজন!

সোনার কদর বেশি কম শোনে যারা
সাহারায় পুঁতে আসে বীজের পিতাকে
গর্ভ বাড়ে দিনে দিনে
রাত্রি ইতস্তত

টুনি জ্বলে ছাদে ছাদে বলিহারি যাই
কিছু সত্য টুকে রাখা বাকিটুকু কাহিনি বানাই।


রিইউনিয়ন

এ মেঘ সে মেঘ নয়
অন্যমেঘ অন্য চারুকেশ
কে এলো কে ফিরে গেল
সুতনুকা তুমিও জানো না

কার চোখে কাকপক্ষী
টেরও পেল না নিত্য আসা যাওয়া
সেই, মাধুরী ফার্মেসি আধা সাটার নামানো
আর ভিক্স ভেপোরাব, সোফা মালিস ভিজিট

এ মেঘ সেই বৃষ্টি জানে
বৃষ্টি মানে নোটবই খোলো
সেটাও লুকিয়ে রাখা
ড্রয়ারের তৃতীয় নম্বরে

হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে সে
নৌকার বিকল্পে এক অন্য ধারাপাত
স্টেথো ভেসে চলে যায় জলের ধাক্কায়
তুমি মেডিকেল কলেজের রিইউনিয়ন


অলংকরণঃ কল্লোল রায়

ফেসবুক মন্তব্য