চারটি কবিতা

তৈমুর খান




একুশ শতকের এই ক'টি দিন



নিজেকে নিজেই ডেকে নিয়ে যাচ্ছি
বাড়িটি অতিবাস্তব
শূন্যতায় আত্মাগুলি ঘোরাফেরা করে
জলপানের শব্দ হয়, অতিচেতনার শ্বাসপ্রশ্বাস শুনি
এক একটা আলোর মাছ দৃশ্য থেকে অদৃশ্যে যাওয়া আসা করে

দাঁড়িয়ে থাকলেও সচল মনে হয়
উলুধ্বনির শব্দগুলি পেছন পেছন হাঁটে
মাঝে মাঝে উড়ে আসে শাড়ির আঁচল

একটি সভ্যতা এখনও জেগে আছে?
নিরুত্তর বাতাসে কারও কাঁকন বাজে
আলো-আঁধারের ছায়ায় কোনও কাহিনি
আমাদের বিশ্বাস অর্জন করতে চায়

নিজেরই হাত ধরে পার করি একুশ শতকের
এই ক'টা দিন
আর রাত
আর নিজস্ব জানালায় ম্লান হয়ে ঝুলে পড়া
নিঃস্ব চাঁদ


লজ্জা চেয়ে ফিরে যাচ্ছি



গোপনে গোপনে আসি
জীবিত হই
তোমার টিউবওয়েলে জল পান করি

সমস্ত রাস্তায় রোদ
অনন্ত দুপুর
আমাকে হাঁটায় শুধু একা একা নিঃস্ব প্রলাপ

চোখের কাজলে চোখ লেপ্টে গেছে
কবরী খুলেছ শান্ত পুকুরের জলে
আজ নম্র স্নানে তুমি মানবী হয়েছ

হেলাফুলের কাছে আমিও ভিখিরি
লজ্জা চেয়ে ফিরে যাচ্ছি
গ্রীষ্মকাল, আমার কোনও ছাতা নেই

পুরোনো সাইকেলটির মতো আমিও একাকী


পরজন্ম



পথ গুটিয়ে থাকুক
গুটিয়ে থাকুক পথ
তস্তরিতে পাণ্ডুবর্ণ আলো
আবছা ভবিষ্যৎ

মুঠোয় জোনাক রাখি
জোনাক রাখি মুঠোয়
সঞ্চয় এটুকুই
পিপাসা থাকুক কলসির ফুটোয়

দুয়ার আগলায় চোখ
চোখ আগলায় দুয়ার
নিঃস্ব ইচ্ছাগুলি বাঁচে
বাঁচিয়ে রাখে খোঁয়াড়

জলছবিতে সূর্য
সূর্য জলছবিতে
পরজন্ম এঁকে রাখি
নিসর্গ নিশিতে।


রক্তাক্ত চাঁদ



মেঘ বিনা বজ্রপাতে আমরা দৌড়ই
যেদিকে ঘণ্টার ছুটি ছোটে
পুজো দোলে কাশের হাওয়ায়


সব বেমানান সুরে ময়ূরের খেলা
নাচে না, নাচায় সংসার
সমীহকে দেয় অবহেলা

পথের দূরে নিঃশব্দে ক্লান্ত হাঁটে
দস্যুতার পর বন্ধুত্ব যে পায়
সেই আলো অন্ধকার রঙের হয়

একবার আবেশ মাখো দেখি
সন্ধ্যার পর্দা উড়ে গেলে রক্তাক্ত চাঁদ
আমাদের দুর্যোগ উঠোনে দেয় উঁকি

অলংকরণঃ অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়

ফেসবুক মন্তব্য