পিছুডাক

অপরাজিতা ভট্টাচার্য


সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আছে ট্যাক্সিটা। কলকাতার আকাশে আভাসে আয়োজনে সন্ধ্যার সন্ন্যাস। আকাশে লালচে ছাই আর পাঁশুটে হলুদের ঘোর। গ্র্যান্ড হোটেলের স্ফীত থামগুলোকে মেরুদণ্ড করে রকমারি বেচাকেনা চলছে। আর পাঁচটা শহরের মত কলকাতাও ভিড়ের মধ্যে একা হতে সুযোগ দেয়।
আর ঠিক তখনই থামের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে ধবধবে সাদা চুল বুড়ি, কুঞ্চনেও উজ্জ্বল চোখ, ডান গাল ফুলে উঠেছে এক খিলি পানে,পাতলা ঠোঁটে খয়েরের লাল। কাঁপা হাতে ধরা ছোট গামলায় নিজের নাভি ধোয়া জল, দূর্বা, করমচা।
সবুজ আর হয় না সিগন্যাল। নড়ছে না গাড়ির লাইন। জানলা খুলে দিয়ে মুখ বাড়াই। ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছে। কোথাও তো বৃষ্টি হচ্ছে... বয়ে আনছে তৃপ্তির হাওয়া…
নাকি ষষ্ঠীর দিনে নতুন হাত পাখার হাওয়া...
ষষ্ঠীর ষাট ষষ্ঠীর ষাট ষষ্ঠীর ষাট... চৌরঙ্গী ভেসে যাচ্ছে নিরাপত্তার ষাটে

সিগন্যাল সবুজ হতেই মিলিয়ে গেল রূপোলী চুলের বুড়ি... নিমেষে সংবিৎ ফেরে... ঠাকুমা

দিল্লির বড়া খাম্বার পিছন থেকেও একবার উঁকি তো দিয়েছিলে তুমি। জ্যৈষ্ঠ নিদাঘের তাপ সেদিন শুষে নিয়েছিল তুমুল তুফান। সে এক জুন সন্ধ্যা, হন্যে হয়ে অটো খুঁজছি। তুফানের ভয়ে কেউ যেতে চাইছে না।

নিশ্চিত তুমিই সেদিন থামের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে বলেছিলে ষষ্ঠীর ষাট ষষ্ঠীর ষাট ষষ্ঠীর ষাট ... ছিটিয়েছিলে করমচা দূর্বা ছোঁয়ানো নাভিজল... কনট প্লেস ভেসেছিল… আমার ভেতরে অটো না পেয়েও থরথরানি প্রবল হতে পারে নি, ভয় করে নি তেমন।

আর সেই সেই বার... সেও তো এক জুন অপরাহ্নের তৃষ্ণামুখ। অতি ভারি বৃষ্টির হাই অ্যালার্টে কফির শেষ চুমুক ছেড়েই লিওপোল্ড কাফে থেকে বেরিয়ে পড়লাম আমরা বন্ধুরা। অনেকটা পথ ফিরতে হবে। বৃষ্টি শুরুও হয়ে গেছে। ট্যাক্সি থামছে না যে উঠব। সেদিনও কাফের সামনের থামের আড়াল থেকে উঁকি দিয়েছিলে... নিশ্চিত।

ষষ্ঠীর ষাট ষষ্ঠীর ষাট ষষ্ঠীর ষাট... মুম্বইয়ের কোলাবা কাফ প্যারেড ভেসেছিল
শহর বদল হয়... বদলে যায় থামের স্থাপত্য... তোমার শুধু থামের আড়াল চাই...

ফেসবুক মন্তব্য