পউস

মানবেন্দ্র সাহা

আসমানের নীল তাওয়ায় পিঠে সেঁকছে এক বুড়ি। মাটির দাওয়ার উপর আপনমনে, চালগুঁড়োর সাথে একটু একটু আবেগ মিশছে ভাঙা বাংলাদেশ থেকে গড়িয়ে আসা সমুদ্র কান্নায়। হ্রস্ব-ই দীর্ঘ-ঈ। তোবড়ানো গালের মত নরম, ফোকলা হাসি হেসে একটা রূপকথার মাদুরে চড়ে উড়ে যাচ্ছে আমাদের বর্তমান আমাদের ভবিষ্যৎ। আর পউসের শেষবেলায় বহুদূরগামী কোনোএক সূর্যাস্তের গ্রামে, যেখানে লুণ্ঠিত কৃষিক্ষেতের উপর ধোঁয়ার চাদরে ঘুম জড়িয়ে আসতো চোখে। সেখানে নলেনগুড়ের হাঁড়ি থেকে ঝুলন্ত বাংলাভাষার চোখে চোখ রেখে আমিও ভণ্ড সাধু সেজেছি আজ। ধুম জ্বর গায়ে আগুনের মালসা মাথায় বহুদূর হেঁটে এসে সেও আমার পাশে বসেছে অবোধ শিশুর মত। তারপর দুই ভায়ে মিলে অজস্রবার বালিঘড়ি উল্টেছি। আর নতুন চালের পিঠের সুগন্ধ থেকে একটু একটু করে খাঁটি বাংলা রোদ্দুর যেন পার্ক স্ট্রিটের আলোয় পথ হারিয়ে ফেলেছে বাড়ির। তবুও সারারাত্তির জেগে জেগে আসমানের নীল তাওয়ায় আপনমনে পিঠে সেঁকে চলেছে এক বুড়ি।

ফেসবুক মন্তব্য