স্মরণিকা

মণিকুন্তলা গুপ্ত



স্মৃতি আঁকে ঝরা বকুল। ছায়াময় যে পথটি একদিন নিজের ছিল তা আজ ঝরা বকুলে যেন ঢাকা পড়ে আছে।
স্তুপীকৃত বকুলের পরত সরিয়ে নির্জনে হঠাৎ কে জিজ্ঞেস করল, কেমন আছ?
অচিন এক পর্দা সরিয়ে, যেন ঝাপসা কুয়াশায় তার দিকে চেয়ে বললাম, ভালো আছি।
কিন্ত ভালো যে আছি তারও তো প্রমাণ নেই কিছু! সে বললে আমি আপনার গত বছরের স্মরণিকা।
আমি বললাম, সেদিন আপনাকে চৈত্রশেষের ক্যানভাসে নটরাজের নান্দনিক পেলব. মুদ্রায় দেখেছিলাম দুই হাতেই সৃষ্টিকে বিরল মুন্সীয়ানায় ধরে রাখতে। কোন কথা না বলে হাসলেন শুধু আপনি। বুঝেছিলাম, ওই হাসিতে তিল পরিমাণ হলেও আমার একটু জায়গা আছে। চৈত্রশেষের বাসন্তিক দখিনা বাতাস তার আঁচল দুলিয়ে চলে গেল। গায়ে লাগল মৃদুল বাতাসের ছোঁয়া!
বুঝলাম ওই বাতাসের হিল্লোলেও আমি আছি। ব্যস ওটুকুতেই আমার বেশ চলবে।
সুবাতাসের সুঘ্রাণটুকুই তো আমার অবেলার ধন।
ওই ঐশ্বর্যের অহংকারেই তো আমি বারে বারে ঝরা বকুল হয়ে ফিরব। এ'সময়। এই সময়ে!

ফেসবুক মন্তব্য