স্পেস-টাইম

অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়

স্পেস-টাইম ১

ডাইমেনশন ব্যপারটা বেশ গোলমেলে। দুইমাত্রার চাকতি থেকে তিনমাত্রার শঙ্কু বানাতে কিছুটা কেটে বাদ দিতে হয়।
তেমনি একটি বর্গক্ষেত্রকে ঘনক বানাতে ছেঁটে ফেলতে হয় তার এক তৃতীয়াংশ মত।
দেখা যায়, অন্য মাত্রায় যেতে হলে সর্বদা কিছু ছেড়ে যেতে হয়।

বিন্দু মাথা নেড়ে বললো,উঁহু, আমাকে তো কিছু ছেড়ে যেতে হয় নি রেখা হয়ে উঠতে! জুড়তে জুড়তে সরলরেখা হয়েছি, বক্ররেখা হয়েছি, বৃত্তও। ক্কচিৎ কখনো।


স্পেস-টাইম ২

দুমড়ে-মুচড়ে থাকার ব্যপারটা এইভাবেও বলা যায়: পাহাড়ি বাসার মত।
পিকেট ফেন্স পেরিয়ে, বাগানের ঘাসে পা ফেলে তোমার নিজস্ব এই ঘরে আসা যেত, ক্রিকেট বল কুড়িয়ে নিতে কতবার এসেছি।
কিন্তু বারান্দার দিক থেকে সেখানে যেতে অন্তত চারটে সিঁড়ি ভাঙতেই হবে। কুড়ি বছর লাগলো এই দুমড়ানো স্পেসটুকু পার হতে। আছো এখনো?


স্পেস-টাইম ৩

আমার পায়ে সময়। মোরামের নরম আওয়াজ। বাবার ছবির দিকে তাকিয়ে নিজের ভিতরে এক নদী, টের পাই। পাহাড় মুছে যায়। মুছে যায় বুক চিরে ছুটে যাওয়া জাতীয় সড়ক।
লোণা খাড়ি, গরাণের বন, ছায়াচ্ছন্ন গ্রাম জেগে ওঠে। রূপোলী জলের শীর্ষে নৌকা দোলে। ছই দেওয়া। বাড়িটার শ্বাস পড়ে বুঝি।

ফেসবুক মন্তব্য