শুধু_কি_বয়ে_গেছে

তনিমা হাজরা

কতো যে
পায়ের ছাপ পড়েছে রাস্তায়,
পাহাড়ে চড়ে, ঢালুতে নেমে যায়,
মাঠের সবুজ মেখে ধূলোতে থিতিয়ে যায়,

কার পায়ের নীচে কতটা জমি নিরাপদ,
কার কানের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে শ্বাপদ,

নক্সীকাঁথার মাঠে,
কে যেন জমায়েত হতে ডাকে,
শহরের আলো জ্বলে,
সারারাত,
আমাদেরই ভেতরে ভেতরে আলো নিভে আসে একে একে।

কে যেন বন্ধু ছিল অনেক দিন আগে,
তারপরে, পর হয়ে গেছে,
রয়ে গেছে তার স্পর্শ, ঘ্রাণ, ছবি
পাঁজরের এপাড়ে ওপাড়ে,
এখনো দাঁড় টেনে দেখি,
নদীতে তো নাব্য জল আছে,

তবে কেন ভাঁটা এলে বালির ওপরে,
মরা মাছ ভাসে,
ঠুকরে খেয়ে যায় সন্ধানী চিল,
এখনো রোদ ওঠে,
পাড়ের গাছ ঘেঁষে,
এখনো সকলে চান করে যায়,
গ্লানি ধুয়ে, নগ্নতা ডুবিয়ে,

স্নিগ্ধতা ছাড়া আর কি দিতে পারি,
চানের অভিপ্রায়ে সবাই স্নিগ্ধ হয়ে মলিনতা জমা দিয়ে গেছে,
এ স্রোতস্বিনী জল, মনে তার রাখেনি কিছুই,
শুধু বয়ে গেছে, শুধুই বয়ে গেছে।

পাড়ের ধারের মাটি কখন ক্ষয়ে গেছে,
এ স্রোতস্বিনী জল যেতে যেতে চুপিচুপি কুরে কুরে খেয়ে গেছে,

পলির ভেতর ভেতর লুকোনো স্মৃতিকথা পরতে পরতে আজ পাথর হয়ে গেছে।
নদীর দীঘল স্রোতের তলায় একা একা একান্তে একাধিক সংখ্যক শ্যাওলা গায়ে মেখে যুদ্ধসাজ সেজে অচেনা হয়ে গেছে।

ফেসবুক মন্তব্য