সাইকো

বুদ্ধদেব হালদার


সাইকো ২৩

তুমি কি সত্যিই ক্ষমার যোগ্য ছিলে? ভাবতে ভাবতেই গোটা দুপুর
অন্ধকারে নামে, এইসব শীতের দিনে সারাবেলা একা হয়ে বসে থাকি,
সন্ধেপুজোর ঘন্টা বাজে দূরে। টায়ার পোড়ার গন্ধে ভরে ওঠে অষ্টআশি
হারাণচন্দ্র লেন, আমি কি ভুলতে চেয়েছি তোকে বার বার? তোমার
প্রণয় ও শত্রুতাচরণ লইয়া দারুণ একখানা দলিল লিখিতে ইচ্ছে হয়
বস্তুত তুমি কি সত্যিই ক্ষমার যোগ্য ছিলে কখনও? এসব ভাবতে
ভাবতেই আমার পেটব্যথা বেড়ে যায়। দু-একবার বমি করি।
কয়েকবার মরে যাই। পৃথিবীর রোদের ভিতর বসে কবিতা লেখার
চেষ্টা করে আমার রোগা ভূত। অতঃপর তুমি কি সত্যিই ক্ষমার
যোগ্য ছিলে? কোনোদিনও?


সাইকো ২৮

বছর ঘুরে এলো, এখন তোমার জিভ ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে
আসছে নিভা, বস্তুত জিরাফের মতো মুখ তুলে তোমাকে
দেখছে কালো ঐতিহাসিকের দল। আমাকেও একে একে দেখে
রাখছে বিখ্যাত দুঁদে কবির চোখ। নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে সকলেই
টেনে বের করতে চাইছে আমার পেটের কথা। এবং তুমি
হয়তো জানো, একসময় দুবেলা ঠিকঠাক ভাত জুটত না
আমাদের, এতটাই গরিব ছিলাম যে আজ আমার এই
কবিপ্রতিভাকে অনেকেই অস্বীকার করে ফেলেন অনায়াসে।
অর্থাৎ, টাকার সঙ্গে সৃজনশীলতার বরাবরই একটা সম্পর্ক
রয়েছে এই পশ্চিমবাংলায়। এবং ছেলেবেলায় আমার দুপায়ের
একজিমা ঘা দেখে অভিজিৎ মামী একবার বমি করে উগরে
দিয়েছিল পেটভর্তি ভাত। তখনও আমি লেখার কথাই ভাবতাম,
খিদের কথা...

ফেসবুক মন্তব্য