ইতিবৃত্ত

অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়


সরহপা তুলছিল শব্দের বাগান ঘেরা বাড়ি,
বাংলার একান্ত নিজের
টগরফুলের গাছে ঠেস দিয়ে ওঠা
অপরাজিতার
উদ্ধত কেতনে নীল
মুগ্ধ করেছিল তাকে? সন্ধ্যাভাষা বেয়ে
অজানিত, দিয়েছিল পাড়ি?


সরহপা তুলেছিল বাংলার নিজ বাস্তুবাড়ি।


বারোসের মানচিত্র কবেই তামাদি হয়ে গেল,
ইঁটের পাঁজর খুলে ভেসে গেল কীর্তিনাশায়
বে-আব্রু অলিন্দ যত টিন-ক্যানেস্তারা দিয়ে
পরিত্রাণ, কষ্টেসৃষ্টে মরুর ওপার থেকে এনে
তারই মাঝে জেগে ছিল ভাষার সন্তান।


জেগেছে যে নবভাষা, ঘরে তার নিত্য অনটন,
মাধুকরী করে, বেচে কৃপার শাস্ত্রের প্রবচন,
ক্রমে তার সৌধ হল, হল অভ্র-চুম্বিত শিখর।
তবু মরে বারবার, রাষ্ট্র-বিপ্লব, মন্বন্তর
নিরাশ্রয় করে দেয়,
ভাষা ত্বাষ্ট্র অস্ত্র হয়ে যায়
মাঞ্জার দাঁতের মত কিচকিচে ধার
স্বপ্নেরও অগোচর ছিল যাহা সরহ-সিদ্ধার।
হাজার বছর পরে ফিরে এলে,
সজোরে মাটিতে ঠুকে বাম গুল্ফ বলতেন,


"ভাষা আর বাড়ি নেই – তীক্ষ্ণ-ভল্ল উদ্যত ঘাতক
ফট, সব অপসৃত হও, কুক্কুরী-জাতক!"



কবিতা জন্মেছিল মড়কের দিনে,
কবিতা যুবতী হলে, ভারি হল বুক,


কবিতা বুড়োলো তাড়াতাড়ি।
শব্দের বাগানে ঝুঁকে
চেঁছে তোলে পারিজাত মালী,
এরি মাঝে জন্মালো, শেষ হল নশ্বর কবিতা।


যারা দেখেছিল
তাহাদের কেউ কেউ বলে উঠেছিল, আহা!


শুধু এক অন্ধ হতাশ,
খরনখে জ্যোৎস্না আঁচড়ে বারবার
বিষব্রণ ঘেঁটে দিয়ে
কী হল, কী হল বলে হাহাকার করে উঠেছিল।

ফেসবুক মন্তব্য