আকাশ কুসুম

অপরাজিতা ভট্টাচার্য


ব্যালকনিতে প্রতিদিনের মতই বসে আছে অঙ্গনা। জ্যৈষ্ঠের গড়ানো বিকেল। বিকেলের রঙ হলুদ হয় কিনা জানেও না তেমন, অঙ্গনার সব ঝাপসা লাগে। রাস্তার দুপাশের বড় বড় গাছগুলো দিয়ে তৈরি বুলেভার্ডটা ক্রমশঃ আবছা হয়ে আসছে। ব্যালকনি থেকে শুধু চিকন কালো রাস্তার ওপর দিয়ে ছুটে চলা গাড়ির আলোগুলো দেখা যাচ্ছে। গাছগুলো যেন অবিস ভূত। অঙ্গনার অন্ততঃ তাই মনে হয়।

আজ তিন দিন হল অঙ্গনার বর জয় ট্যুরে গেছে। থাকলেও অফিসেই থাকত। এই সময়টায় একটু ব্ল্যাক কফি খায় অঙ্গনা। জয় কম বেশি পারফেকশানিস্ট, খুব প্র্যাক্টিক্যাল ছেলে। কিন্তু অঙ্গনাকে ভালবাসে বলে মনে হয় না অঙ্গনার। কেমন যেন বাঁধাগতে করে যায় সবকিছু।
হ্যাপেনিং লাইফের খুব শখ অঙ্গনার। বেশ তাক লাগানো ব্যাপার স্যাপার থাকবে। আর সেখানে এই গড়পড়তা থোর বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোর জীবন। অসহ্য লাগে থেকে থেকেই।

হঠাৎ করেই মনে পড়ল কিছুদিন আগে খবরের কাগজে পড়া দানা মাঝির কথা। স্ত্রীর মৃতদেহ নিজে বয়ে নিয়ে গেছিল লোকটা। তারপর তো সবটাই খবর। কত পাবলিসিটি, কত ফুটেজ। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেল দানা মাঝি আর তার মৃত বউ।

ইশশ! যন্ত্রবৎ জয় যদি তাকে এমন ভালবাসত। সে মরে গেলে জয় তাকে এভাবে বয়ে নিয়ে যেত।

কফি মাগে আর দু চুমুক মত কফি পড়ে আছে। আকাশে ততক্ষণে স্পষ্ট চাঁদ। রোজের মত আজকেও অঙ্গনার মনে হচ্ছিল ব্যালকনিতেও একটা এসি হলে ভাল হয়। ফ্যান চললেও গরম লাগে অঙ্গনার। জয় ফিরলে ব্যালকনির জন্য একটা এসি আর একটা আই ফোন কিনেই ছাড়বে।

(২০১৬ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর, উড়িষ্যার কালাহান্ডি জেলার উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত দানা মাঝিকে অ্যাম্বুলেন্সের (বিনামূল্যে প্রাপ্য) অভাবে স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে বয়ে দীর্ঘ প্রায় তেরো কিলোমিটার পথ হেঁটে বাড়িতে আনতে হয়েছিল)


ফেসবুক মন্তব্য