গৃহযুদ্ধ ও মন্বন্তর

উত্তম দত্ত

তখন পাঁচটাকায় পেট ভরে ভাত খাওয়া যেত না
কিন্তু দু'টাকায় পাওয়া যেত ইচ্ছেমতো সঙ্গম ও সিফিলিস
তখন আদিবাসী যুবতী লেম্বো প্রত্যেক সন্ধ্যায়
শায়ার দড়ি খুলে আমাদের দেখাত তার
কালো মহাদেশ, একমুঠো খই খেতে পাবে বলে

তখন বেশ্যাপল্লীর ভিতর দিয়ে আমাদের যেতে হত
ব্রাহ্মমন্দিরে
গলির ভিতরে সারারাত বসে থাকত এক রোগা সম্পাদক
প্রুফ দেখত মাথা নীচু করে
ভোররাত্রে ফিরে আসত ঘরে,
তার কালিপড়া চোখে জেগে থাকত মায়াবী অঞ্জন

তখন অশ্লেষা ছিল আমাদের ঘরবাড়ি
তখন হ্যারিকেনের আলোয় আমরা পড়তাম
চর্যাপদ -- অন্ধকারযুগ -- মেয়েলি হাতের লেখা চিঠি
তখন দশ টাকা ধার করে সারাদিন আত্মহত্যা
করা যেত

তখন মন্বন্তর ছিল বাবার প্রেমিকা
মায়ের প্রেমিক ছিলাম আমি
এক একদিন দুপুরে মা আমাকে তাঁর ঘুমন্ত স্তনের
গৌরবময় ইতিহাস শুনিয়ে
চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলতেন
কলমিশাকের বিনিময়ে সাদাভাত খেতে দিতেন
বাগদি মেয়েটিকে
যাত্রাসিদ্ধির থানে বসে রামাই পণ্ডিতের
গান শুনতে শুনতে আমি যার নাম রেখেছিলাম :
রঞ্জাবতী
খেতে বসে সে বলত : অ মা, মাগো, নুন নাই? নুন?

গৃহযুদ্ধ শেষ করে বাবা সীমান্তে চলে গেলে
তাঁর প্রেমিকাকে নিয়ে ফুটবল খেলতাম আমরা
পোস্টকার্ডে তিনি লিখতেন : খেলাটা শেখো ক্যাপ্টেন
লেফট-কর্নার থেকে কিক করে ভেঙে ফেলো
দক্ষিণের গোদা গোলপোস্ট...

আমাদের বামপন্থী বাবা কার্ল মার্ক্স নামের দাড়িওয়ালা লোকটিকে অন্ধের মতো
বিশ্বাস করে একদিন
একমুঠো চাল আর একটা পুরোনো বন্দুক নিয়ে
খালিপায়ে সীমান্ত পার হয়ে চলে গেলেন।

ফেসবুক মন্তব্য