দুটি কবিতা

জগন্নাথদেব মন্ডল

মেঘের ভিতর অক্ষতযোনি সিংহী

হে আরবপুরুষ, তোমার ব্যক্তিগত প্রাণীসংগ্রহে উট নেই, নেই কুমীর, চিতাও ছিল না।
শুধু ধুঁকতে থাকা একটি সার্কাসের সিংহী।
কাছেই বালির ভিতর আশ্চর্য কুয়ো, কদম্ববন।

সিংহী দেখলে মনে হয় বর খেদানো ক্লান্তবিষণ্ণ মেয়ে।
চুল আলুশাকের চেয়েও নরম।
রাতে অই কেশ বেয়ে সাতটি বেঁটেবৃদ্ধ কুলীন পাত্র উঠে এসে উকুনের মতো নাচে।

মেয়েসিংহের একা লাগে।
তার মনে হয় বাঙালি বধূদের দেখি।
এই খাঁচার চেয়ে খারাপ পাড়া শ্রেয় ছিল বুঝি!
একখানা বটগাছ বিয়ে করলেও হতো।

এই আক্ষেপের ভিতর তথাগতর শান্ত আঙুলস্পর্শ বাতাস হয়ে বুলিয়ে দিচ্ছে চুল।

এবার দেখে দুঃখী মেয়ে নয়,সিংহীও নয়,
সুন্দর চিরকুমারী অথবা উজ্বল হেমবর্ণ সুজাতার মতো লাগছে!

প্রণাম হে প্রাণীসংগ্রহশালা!
নমস্কার এই বেঁচে থাকা

গরলের দেশ,উপশমের দেশ

রাষ্ট্রযন্ত্র ঠিক করিয়াছেন এবার সে ঠান্ডা গাড়িতে চড়ে গাঁয়ে গাঁয়ে যাবে।
পায়ে হেঁটে ঘুরবে শীতল আঙিনা, নিমগাছ, গোয়ালের চর্তুদিক!
হ্যাঁ, সত্যি বলছি পায়ে হেঁটেই ভ্রমণ!

জমিতে জমিতে কৃষকভাইদের পায়ে যাতে সাপে ঠোকর দিয়ে কিছু করতে না পারে
তাই দেওয়া হবে গামবুটের মতো শক্ত সুরক্ষা কবচ।

এতে আনন্দিত পরিবার, কৃষকভাই, স্ত্রীসকল।

কতো চন্দ্রবোড়া, আলকেউটে, খড়িশ ব্যর্থ হল।
হাসপাতালে কমে গেল কিছু ভিড়, মনসাথানেও।

তাই গণতন্ত্রের দেশে ভোটদানের দিন চাষি পরিবার হাতে হাতে নিয়ে যাচ্ছে দুধভান্ড, চাঁপাকলা।
ওরা ভোটদান পুজো ভাবছে,
বলিও হয়।

শরীর বাঁকিয়ে বিড়বিড় প্রার্থনা করছে গ্রাম্যলোক-হে দেবী, এবার যেন গাছ, টিপকল ও মানুষগুলান আনন্দে বাঁচে!

ফেসবুক মন্তব্য