সাহসী বারান্দা

দূর্বা চট্টোপাধ্যায়

'মল্লিকা বসুর ফিগার তো ঠিক তুমি যেমন প্রেফার করো তেমন নয়?'
অংশু সাথে সাথে উত্তর দিতে পারল না।
-কি দেখে ভালো লাগলো, বলো?
-আমরা কথা বলতাম অনেক। মল্লিকা বলত ওর জীবনটা নাকি একটা খোলা বারান্দার মতন। ওর ফ্ল্যাটের বারান্দাটা দেখতে যেতে বলেছিল।
- সেদিন কি হয়েছিল শুরু থেকে বলো?
- ও বলল ডায়মন্ড প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আর রাজীবও কিছুদিন ধরেই আমার সাথে অনেক কথা বলছিল। মল্লিকা যখন বলল, রাজীব বাড়িতে আছে, আড্ডা হবে, আমার সন্দেহ হয়নি। গাড়িতে তুলে নিলাম মল্লিকাকে। তালা খুলে ঢুকতে দেখেও সন্দেহ হয়নি যে বাড়ির ভিতর কেউ নেই।'
দম নিল অংশু। আমার দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল আমার মনের ভাব। ওর এই গল্প হজম করার ক্ষমতা আমার আছে কি না সেই নিয়ে যে ও খুব দ্বিধায় আছে বুঝতে অসুবিধা হয়নি আমার৷
আমরা বসে আছি একটা রেস্তোরাঁয়। লাঞ্চ খেতে খেতে নানান গল্পকথার মাঝে উঠে এসেছে মল্লিকা বসুর কথা।
আমি তাকিয়ে ছিলাম অংশুর দিকে। আমার অংশু। ওর চিবুক, গলা, টিশার্টের প্রথম বোতামটা খোলা আর তার ফাঁক দিয়ে দেখা যাওয়া রোমশ বুক - আমি চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিলাম। আমাদের বিয়ে হয়নি এখনও। চাইলেই ছুঁতে পারিনা যখন তখন। হাতের মুঠোয় হাত রাখা, ভাগ্য খুব ভালো থাকলে ঠোঁটে ঠোঁট। মনে মনে অসহ্য রাগ হলেও তাই ওর ঘামে চকচকে কানের লতি আর গালের দিকে মনোযোগ দিলাম আমি।
মল্লিকার এই গল্প আমি আগেও শুনেছিলাম। অংশুর টেনশনে অনাবশ্যক ঢোক গেলা দেখলে অসহ্য লাগে আমার। তবু আমি কি জানি কি কৌতুহলে আবারও শুনতে চেয়েছি এই গল্প আজ।
বললাম, তারপর? কি করল মল্লিকা?
- সোফায় বসালো। আমি জিজ্ঞেস করলাম রাজীব কোথায়? বলল, বেরিয়েছে, ফিরে আসবে। পরে বুঝেছিলাম রাজীব অফিসেই ছিল। পুরোটাই মল্লিকার প্ল্যান ছিল।
- ড্রেস পালটে এসেছিল তোমার কাছে?
-না, না! বাইরের ড্রেসেই -
- বেডরুম অব্দি নিয়ে গেছিল?
-না, সোফাতেই...
আবার চুপ করে গেল অংশু। গল্পের এমন সময়ে ওর চুপ করে যাওয়া দেখে আবারও রাগ হল আমার।
- কি কি করেছে অংশু? বলো না প্লিজ?
- ওই চুমু টুমু, প্যান্টের জিপ...
-পুরোটা?
-না, না! পুরোটা খুলতে পারেনি। আমি বাধা দিয়েছিলাম। আমার মন ছিল না ব্যাপারটায়।
- কেন? বন্ধুর বউ বলে?
- হ্যাঁ তাই! কেন জানতে চাইছ এসব?
- আমার আসলে জানতে ইচ্ছে করে আমার সমবয়সী মেয়েরা, বা বিবাহিত মহিলারা কিভাবে পুরুষদের সাথে কথা বলে, অ্যাপ্রোচ করে।
- তুমি যেমন আছ তেমনই থাকো। কিচ্ছু জানতে হবে না তোমায়।

লাঞ্চ শেষ হয়ে গেছিল। লিফটে আমি জড়িয়ে ধরলাম অংশুকে। কামড়ে ধরলাম ওর ঠোঁট। অনেকক্ষণ ধরে ইচ্ছেটাকে আটকে রেখেছিলাম। চারতলা থেকে দোতলা - আট সেকেন্ড মতন স্থায়ী হল চুমুটা।
রাতে ফোনে কথা হচ্ছিল। অংশু উচ্ছ্বসিত। আমাকে এতো অ্যাগ্রেসিভ ও আগে কখনও দেখেনি। আমি বললাম, ঠিক বলছ? সত্যিই আগে দ্যাখনি? 'না! কোনওদিনও না', জোর দিয়ে বলল অংশু।
খুব খারাপ হয়ে গেল মনটা। আমিও তো একটা সাহসী বারান্দার স্বপ্ন দেখতাম কিশোরীবেলা থেকে। যে বারান্দায় আমার বেলীর চারা থাকবে। আমি আকাশ দেখতে দেখতে চুমুক দেব হাতের গ্লাসে। যে বারান্দায় অন্তর্বাস শুকোতে দিতে পেটিকোটের আড়াল খুঁজতে হবে না। রোদে শুকোবে রঙবেরঙের অন্তর্বাস।
আমি আসলে ভিস্যুয়ালাইজ করছিলাম তোমাকে, অংশু। সোফায় তোমায় জোর করে শুইয়ে দিয়ে কেউ আদর করছে ভেবে আমার উত্তেজনা হচ্ছিল। মল্লিকার কথা আমি ভাবিনি। কিন্তু তোমার কথায় ভাবতে বাধ্য হলাম, আমার টপ লেভেলের অ্যাগ্রেশনের জন্য শেষমেষ মল্লিকা বসুর কাছে ঋণী থাকতে হল নাকি?

অংশু আসছে। ওকে এস এম এস করেছি। আমি বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসে। বাইরের দিকে মুখ, হুইস্কির নেশা চড়চড়িয়ে বাড়ছে। আমার বারান্দা হেরে যাবে না মল্লিকার বারান্দার কাছে। কিছুতেই না।

ফেসবুক মন্তব্য