এক পশলা

বল্লরী সেন

রোদ্দুর পড়ে আসছে বিকেলের| সে গারদের মতো জানলা ধরে দূরে জোনাকির মতো পিট্ পিট্ করে জ্বলে| তুমি শুধোও জানতে চাও, কেন সে আসে নি আজ| সে তাকায়| তোমাকে কোথায় বয়ে নিয়ে যায় সন্ধ্যার দুপুর| জেটিতে ভোঁ বাজে,এবার বাড়ি যাবার পালা| তুমি লালুর রোমশ মাথাটা কাছে টেনে মুখ নামিয়ে নিলে| পশ্চিমে লাল আর ফিরোজা মিশে গেল| সাইকেলের চাকায় রাঙা মাটির ওপর তোমার জুতোর দাগ পড়ে রইল| আহ্নিকের গতিতে তুমি তার জানলাকে ঘিরে পাক দিলে| হেমন্তের ভাঙা মণ্ডপের মতো তোমার ছেঁড়া ছেঁড়া মনখারাপ উস্কে দিল শেষ আলো| মেঘের পরে মেঘ এলে একদিন উড়িয়ে নেবে তাকে, বা সাইকেলের সামনে বসিয়ে সূর্যাস্তের সঙ্গে পাল্লা দেবে, তার কেশগুছির সুবাস চকমকির মতো আগুন হানবে, অন্ধকারে তুমি চোখ বন্ধ করে কেবল চুপ করে সয়ে নেবে রথের চাকার দাগ| সাহস করে না হয় যাও... গিয়ে তাকে ডাকো... যে ডাক শুনলে নন্দিনী জেগে ওঠে তোমার মধ্যে সেই ডাক ডাকুক সে| তোমার ডাকনাম ধরে|

ফেসবুক মন্তব্য