দুটি কবিতা

শাশ্বতী সরকার



অন্ধকারের ভিতর প্রসন্ন হয়ে এল রাত

বাসমতী জ্যোছনা ফুটেছে
পায়েসের গন্ধে ভেসে যাচ্ছে পাড়া-বেপাড়া
তোমার পায়ে বিঁধে যে লাল তীর
তার বিষকণ্ঠের আকুল ডাক
মনে করিয়ে দিচ্ছে
আজ পূর্ণিমা, খেলা শেষ
যেটুকু থাকল পড়ে রাত্রির অমা-মুখে
খেয়া পারাপার, দু'একটা জুঁইফুলের অলৌকিক উদ্ধৃতি

নিজেকে কোথায় রেখে যাব?
শমীগাছে, বরফনদীতে?
খাগড়ার বন কখন যে আছাড়িপিছাড়ি, কখন যে অকারণ দাউদাউ!
আজ জলে ঘুমায় দ্বারকা
রাত্রির প্রসন্ন আনন




কোথায় কুলুঙ্গির মধ্যে রোদ উঠেছে, কোথায় অনেক রোদ উঠেছে একদিন, কোথায় সফেদ?
সন্ন্যাফুলের নিচে তোমার হাত সই
–রাঙানো শাদায়
সারাদিন ঘুরেফিরে দেবীর বাঁওড়ে, যারে পেলে
নীলাভ কপাল নিয়ে মান্দাসে একা
সিথানে কেবল তার,
ঝরে পড়া সজিনাকুসুম
ঘাটেঘাটে জলের কুমীরদেহ, শ্যামলশরীরে
আজ কোনও গান নেই
বিদ্যুৎে স্পষ্ট শুধু রুপোর কৌতুক
কেবল দংশনদাগ, কেবল জলের কাছে জলের গোঙানি

ঠেলা দিতে খুলে যায় পাতালবাগান, জোনাকিরা সঙ্ঘবদ্ধ জ্বলে, পুনর্বার যদি এসে দাঁড়াও, আঁধারে–
সমুদ্রের মৃত মৎস্য, কী জীবিকা তার?
ঠোঁটে তার খয়েরের অবশ রক্তিম, রক্তে তার জেগে ওঠা কোটালের বান
কবেকার দিনে তার সজিনাফুলের ভ্রমণ

ফেসবুক মন্তব্য