আদিপুরুষ

পূবালী রাণা

ছেঁড়া ছেঁড়া কিছু শব্দ অভিমানী কবিতা হয়ে ঝরে পড়ছিল আমার বুকের ভিতর থেকে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের জলছবিতে তোমার প্রতিচ্ছবি খুঁজতে গিয়ে বার বার হারিয়ে যাচ্ছিলাম তোর্ষার জলস্রোতে।আমার পায়ের নূপুর নিক্কন ছন্দ হারিয়ে অসংখ্য যান্ত্রিক শব্দের প্রতিধ্বনি তুলেছিল।
তুমি দিশেহারা হয়ে উঠছিলে!
তোমার প্রতিটি আঙুল জানে আমার গোপন ফেরিঘাটের ঠিকানা। তবু কেন রোদহীন করিডোরে হারিয়ে ফেলছিলে আমার রঙিন বর্ণমালা!
তোমার মুগ্ধ স্বপ্নাবেশ হঠাৎই টেনে নিয়ে যায় কোনও অমুগ্ধকর চোরাস্রোতে।
এক নিষ্ঠুর শূন্যতা গিলতে আসে আমাকে!
প্রতিটি ছদ্মবেশী আলোর গাছ শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে এক একটি অন্ধকার কুঠুরি।
কেন যেন মনে হয় সেই গোপন ও অন্ধকার কুঠুরির মধ্যে আমি ঘুমিয়ে রয়েছি শতাব্দীর পর শতাব্দী। কেন যেন মনে হয় কোনও এক স্বপ্নকুমার সাতটা মরুভূমি পেরিয়ে আমাকে খুঁজতে আসবে, আর তারপর তার সেই গুপ্ত সোনারকাঠির ছোঁয়ায় আমাকে জাগিয়ে তুলবে! সমস্ত গল্পই তো এমনভাবে ঘুমিয়ে থাকে হাজার-হাজার বছর। সমস্ত গল্পই এমন একটা জাদুকাঠি খোঁজে।
আমিও সেই জাদুকাঠি ছোঁয়ার অপেক্ষায় উপেক্ষা করি মৃত্যুবেদনা, উপেক্ষা করি সামাজিক হেমলক। জানি, কেউ একজন আছে, আছেই কেউ একজন, যে-কিনা সূর্যসম্ভার নিয়ে একদিন ঝরে পড়বে আমার মুখে। আর আমি শতাব্দীর ঘুম ভেঙে আড় ভেঙে জেগে উঠে দেখব, মুছে গিয়েছে সভ্যতার অহংকার, আমি বনসভ্যতার বুকে শুয়ে আছি, আমার মাথাটি রয়েছে সেই আদিপুরুষের কোলে।

ফেসবুক মন্তব্য