দুটি কবিতা

উজান উপাধ্যায়

চারটে তেরোর শব্দেরা

এখন প্রায় ভোর। চারটে তেরো বাজে। দেওয়াল ঘড়িতে। গুনে যাচ্ছি, ঠিক এসময় কতরকম শব্দ হতে পারে‌। কিচেনে, বারান্দায়, ভোলাদের বাগানে, আমাদের কলতলায়, শবরীদের শোয়ার ঘরে, কলকাতার অজস্র নিয়নবাতিতে, এগরায়, লেনিন সরণীতে, হোজাই শহরে।

বার্লিনে, প্যারিসে, সানফ্রানসিসকোয়-

কত রকম পোকা আওয়াজ করে, কত রকম পাখি! ফুলফোটার শব্দ, তারা ঝরার শব্দ, চোরেদের গা ঢাকা দেওয়ার শব্দ।

প্রেমিকাদের বিছানায় বারবার দলামচড়া হওয়ার শব্দ, সোশ্যাল সাইট আর হোয়াটসএপএ নোটিফিকেশন ঢোকার শব্দ।

মাথার ভিতরে শিশির নামার শব্দ!

খসখস খসখস, টাইম ইম্মেমোরেবল- ফ্যান্টাসি আর বকবকম, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা পায় পাখি, ফুল আর নদীরা ঠিক এসময়।

পলিটিসিয়ানস আর ধর্মগুরুরা এসময় লাশের মত নাক ডাকে - জেগে থাকে কিছু পেশাদার চোর যারা রাজনীতি করেনা আর কিছু নিপাট খচ্চর কবি, যারা তেল মারতে জানেনা।

শুধু উন্মাদ লোকের জন্য দেওয়াল ঘড়িটা রোজ ভোরে চারটে তেরো বাজায়-

গন্ধে গন্ধে পৃথিবীর সমস্ত নারী এসময় একবার পাশ ফিরে শোয়।


অমৃত

আরতি শেষে পবিত্র ধোঁয়ায় আর শান্তিরসে আমাকে ধুইয়ে দিয়ে, প্রেমিকা ঘুমিয়ে গেল। আমিও তখনই আমার আদিগন্ত বাঘছাল খুলে ফেলে, পিতার ঔরসে জাল দিই সন্তানের প্রতি রাখা অমৃত, সস্নেহ।

ওর চুলে মমতা রাখি, মায়ের আদর ঢালি, ওর প্রতি স্নায়ু ও পেশিতে ঢালি আমার পিতৃত্ব।

প্রতিটি নারীর চোখে অতৃপ্তির মানবিক জিভ, সেখানে গাছের ঠোঁট রেখে বুলিয়েছি বিশল্যকরণী মায়া-

ধ্বংস আর মৃত্যুর চুল্লিকাঠে আমার পাঁজর গুঁজে দিই, বিছিয়ে দি অনন্ত প্রচ্ছায়া।

উনুনে যে স্তনপুষ্প অনিঃসীম কড়াই পোড়ায়, সেখানে আমার আত্মা জাগে, আর শ্রবণে নিঃস্ব এক নৌকাযাত্রায়!

" বাবা" - বলে ডেকে উঠে প্রেমিকা কেঁদে কেঁদে সংজ্ঞা হারায়!

ফেসবুক মন্তব্য