জন্মদিন

মেঘনা চট্টোপাধ্যায়

তখন অনেক রাত, পৃথিবী গভীর ঘুমে।
গির্জার ঘড়িতে ঢং করে একটা বাজলো।
মা তড়িঘড়ি ডেকে তুলে মুখে মধু দিলেন
দুহাতে অন্নজল, কর্মফল, প্রার্থনা আর
মহানাম ভরে চাপিয়ে দিলেন ডিঙিতে।
গভীরে দাঁড়িয়ে ছিল জাহাজ –
আর সতেরো মিনিট পর ভোঁ পড়লে
শেকলের বাঁধন ছিঁড়ে ফেলে
নোঙর উঠিয়ে চললাম নোনাজলের নিরুদ্দেশ যাত্রায়।
পাড়ে দাঁড়িয়ে মন্ত্রোচ্চারণের সুরে মা বলে যাচ্ছিলেন,
“হিমশৈল, সুনামি, জলদস্যু বা সমুদ্রদানব –
শুধু নাম জপো, নাম জপো, নাম ............।
সমুদ্রের সৌন্দর্যে ভুলনা কখনো,
ভুলনা মৎসকন্যার অলীক ডাকে।
চোখ রেখো বাতিঘরের দিকে।
চারিদিকে নোনাজল, তবু একফোঁটা ছুঁয়োনা তার;
তোমার তৃষ্ণার জল ভিস্তিতে রেখেছি”।
মার স্বর আর দিগন্তরেখা ফিকে হয়ে এলে
একবুক আলো আর অন্ধকার নিয়ে
না দেখা বন্দরের দিকে ভেসে চলি আমি।
কত ঘাট আর আঘাটা, নগর ও বন্দর,
পাপপুণ্য, হাসিকান্না, রাত্রিদিন পার করে করে
আমার সামান্য নুনের জাহাজ আদিগন্ত জল কেটে চলে।

ফেসবুক মন্তব্য