আরব্য উপন্যাস

বল্লরী সেন



আরব্য উপন্যাস লেখা হবে আজ| সে বারান্দায় এসে দাঁড়ানো মাত্র কাঠবিড়ালীর চিড়িক ডাক পড়ে গেল গাছের মগডালে| শিউলি রঙের মনখারাপ ছেয়ে আছে ভোরের দরজা ধরে, কপাটে হুড়কো| বাগানে তখন হাঁড়িচাচা আর বাবুই এর দৌরাত্ম্য| সে একমনে ছায়া তৈয়ের করছে তার পাশের বাড়িটার| তার চাহনিতে লাল কাঁকড়ার একটি শৃঙ্গার সপ্তাহ এবার বেগমবাহার ফুলের পরাগে জেগে উঠছে, শীতের অষ্টপ্রহর নামগানের মধ্যে রাত্রি যখন মাঘ মাসের কোকিলস্বরের মতো গুমো আঁচে চড়ানো, তখন তার মুখ ভেসে আসে আরবসাগরের কোনো এক বন্দরে| তার তলার মুখে যে অধর সাঁটানো,তা আমার ভ্রূসন্ধির| তার কর্ণকুহরে আমারি ওষ্ঠের গোলাপ লাইল্যাক ক্রিমসন| যুগান্তের পাখনায়, মেহের আলির সব ঝুট হ্যায় এর পাশে মৌটুসি পাখিদের ঠোঁটে যখন রুদ্রপলাশের লিপস্টিক লেগে যায়, তখন থেকে সীতাকুণ্ডের জলে তার নাভিমূল লুকানো ছিল| জঠরে সমিধফুল, তাকে স্তন্য দিয়ে পাতানো বুভুক্ষায় সে আমার সখা, সে আমার আজন্ম শাগির্দ| আমি তার দরশন ভিক্ষায় আজ কত মাস কেবল একমনে মাছের কানকো, পিত্ত, কফ মাংসের মতো ঘাঁটছি...

বন্দরের ওদিকে দিগন্তরেখা আঁকছে এ্যামোনিয়া প্লান্টের উত্তাল ধোঁওয়া| রামধনু রং ছুঁয়ে সাগরের জলে ভাসছে সূর্যাস্তের বজরা| আনমনা হয়ে যাচ্ছে একটা বিকেল| ঈগলের ডানায় শুয়ে আছে প্রথম চাঁদের জোয়ার আলগা আলোর রশ্মি| একটা রুমাল, রুমালের নাভি থেকে উঠে আসা গন্ধ আমাকে ধরে আছে| ওর পরনে সাদা স্কুল শার্ট আর গ্রে ট্রাউজার্স| জেভিয়ার্সের লোগো কেমন উন্মুখ চেয়ে আছে বুকপকেটে| কোঁকড়ানো চুলের মধ্যে মুখ লুকিয়ে থাকা যায় এত ঘন| গাভীর গায়ের ওপর কিছু জলভারাবনত মেঘ| চোখের পাতা ফেললেই আমার কেমন বিভ্রম ধরে যায়, ফ্রকের লাইনিং দেওয়া লেস প্রজাপতি, ঈগলচক্ষু, তার পাটোলবরণ হাতের তালু, পায়ের গোড়ালি... স্বাদু মরিচে ভেজা| চেম্বুরের সামান্য দূরে দেওনার|ওখানে সার কারখানার টাউনসিপে বাবা কাজ করেন| সামুদ্রিক কাঁকড়ার গ্রীবা জড়িয়ে টুকটুকে ব্রীড়া যখন কেলি মাধুরী ছড়িয়ে দেয় বাতাসময়, ট্যালকম পাউডারের গন্ধ তার চামড়ার তলায় একটা মদ্যপ মেয়ের শলাকা ভরে তোলে| কত দূর অব্দি সেই গাভিন মদিরা মিশে আসে, তার জানলায় একটা সবুজ পর্দা দুলছে ছেলেমানুষের মতো|

বালির ওপর অনেক মাছের শুঁটকি হচ্ছে| দেওনারের রাস্তায় তার মেরুন টাই উঁকি মারলেই, আমি আমাদের বাসের দরজা ধরে অপেক্ষা করে থাকি| যদি আজকে চাক্ষুষ হয়| একটিবার| মহালয়ার ভোরে টোপোশিটের মতো যদি একবার ও মানচিত্র বদলে নেয়, এক্স এর সঙ্গে ওয়াই ও অপিরিচিত হয়ে যায়| দেওনারে তখন আঁশটে মাছের ভেরি নামছে মনখারাপের মতো মাথা নামিয়ে|

অণুশক্তিনগরের ক্লাবঘরে খোলা পর্দায় রাজ কাপুরের ছবি আজ| আমি ওকে ডাকতে এসে সাড়া পেলাম না| আমার রাগ হচ্ছে, অভব্য রাগ| একাই যাব ভেবে পা বাড়ালাম| বাইরে ভিড়, ভয় করছে, না এলেই ভাল হোত| আর কে স্টুডিওর পাশ দিয়ে যেতে এতবার ওকে দেখিয়েছি... আর আজ কিনা টোপোশিট করছে বলে গেল না| কাল আমি একাই না হয় মারাঠা মন্দিরের নুন শো যাব, ওকে নেব না| দেখি কি করে|

~ ইঙ্গিতে বললো, নাকি ও সরি| আর হবে না| একটা কাগজে লিখলো| লিখলো, মন খারাপ| দেখি, চোখ ভর্তি| ছড়ে যাওয়া হাঁটু আর টানছে না, ওর হাফ প্যান্টের জিপ ঈষৎ হাঁ, প্রমাদ গুনলাম| তাকিয়ে আছি সেদিকে, কান দিয়ে আগুন বেরুচ্ছে| আমি নধর একটি দীর্ঘবাক্যের ওপর আমার আঙুল বুলিয়ে জিপ টেনে দিলাম| বললাম, সরি| আর হবে না কোনদিন| বললাম না, মাসুমিয়াত্ রইল না| আজ থেকে শব্দের গায়ে বিবেক লাগানো শুরু হল মানু| এবার কেবল তুমি তুমি তুমি|

চোখে কম দেখি বরাবর| না খেয়ে ফিরে যাচ্ছো তুমি, মটরশুঁটি দিয়ে ভালো চালের দেরাদুন রাইস|আমারও হুঁশ নেই, কাকবউ কুটো নিয়ে বাসা বুনে চলছে একটা গোটা দিন| পাকা গুটি, কিন্তু ঘরে উঠলো না| হাঁচি টিকটিকি সব আলুনি| বালতির জলের তলায় তোমার চশমা লুকিয়েছি, সারা বাড়ি তোলপাড়, পেলে না| পাবদা মাছের পেটে কত রং এলোমেলো শুয়ে আছে চুপ করে, কানকোতে লাল, পিত্তি রং ফ্রকের বোতামে রিফু করা মেঘ আর বৃষ্টি| তোমার বর্ষাতি তো আমার কাছে| ভিজে বাতাস লাগিয়ো না আজ, ঠান্ডা লাগবে| রাত্রিকালো জিন্সের কাছে চুলের ফিতে বাঁধা দিয়ে একটা কিশোর পল্লবিত কটাক্ষ আমাকে কাছে টেনে নিল| বললাম, এসো| সকাল হও| তুমি বললে, না| বললে, যাও... আসবো না| বলামাত্র ঝুঁটি লাল সেপাই বুলবুল বসলো কার্নিশে| বদলা নিল শাড়ি| শাড়ির ভাঁজে তোমার মুখ সম্পূর্ণ ভোঁতা করে চোখের মণিতে আমার শুঁড় এসে তোমায় যার পর নাই আদর শুরু করলো| জেনে রেখো, জ্যামিতির পাঠ শেষ হয় নি| টোপোশিটের একটা চক্র ইনকমপ্লিট| রহস্য খুঁড়ে দেখবো তোমার অযাচিত ভূখণ্ডের ইমিগ্রেশন| ডায়রি নেই| কেবল খড়কুটো| হংসপুরুষের স্কার্লেট চরণদুটি আমার চুম্বনে কুঠারের ফলা হয়ে উঠছে, ক্রমশ তোমার ঘাড় হাত মণিবন্ধ তালা পড়ছে, দেখবে না, শুনবে না, আসমুদ্র অবয়বের ওপর আমার নীল গাঢ় অধরের শ্বাস শুষে নেবে সমস্ত চোখের অসুখ| তোমার আসক্তির নাম কনজাংটিভাইটিস্|

ফুসুন আর কেমাল

যমজ ঠোঁটের পর পর পান খিলি আদর| গুংগা বলে কি তার বয়ঃসন্ধি হতে নেই| কুইন্স নেকলেসের মতো তার থুতনি কেমন রোমসঙ্কুল, আর্দ্র ও অনাবৃষ্টিজনিত| উচ্চগ্রীব এ্যাডাম্স এ্যাপল| ঢোক পর্যন্ত টের পাই তোমার| মেরি জান,জান ন কহো| তেষ্টা পায় তোমার, আমি সেই চুরি করা চাহনিকে আঙুল কামড়ে নজরটীকা দিই, বলি... সিন্দ্রি সোসাইটির কেউ জানবে না, কিছু জানবে না কেউ| জানবে না, ঐ কোঁকড়া চুল, পাতলা গোঁফ, ফুলের পরাগরেণু সব নেব| তোমার তাবিজে খোদাই আমার ডাকনাম আইভিলতার মতো বাতাস বেয়ে মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে উঠছে| যে পুরোহিত হোটেলে রূপোর থালিতে দিত, তার জন্য আমাদের অনেক বছর অপেক্ষা|

বললাম, আমি চলে গেলে কী নিয়ে থাকবে তুমি| হাত নাড়লে, না| বলছি, যাবো| পুরোহিত হোটেলে সদ্যবিবাহিতের মতো কোনদিন আমরা আসবো না| ফুসুন চলে যাবে| ৪,৫,৬ বছর দেশ ছেড়ে চলে যাবে কিছু না বলে| তখনো আমার গায়ে তোমার ঘামবিন্দু অভ্রের ছায়া, কপালে রুমাল, রূপো রঙের তাজ নিয়ে পূর্ণিমায় ঝুলন সাজাতে তুমি, তোমাকে মনে মনে কতবার স্নান করাতাম সাবান মাখিয়ে|

ভাবতাম, ভেবে শেষ হোত না| ক্লাস নাইনে তুমিও কি বায়োলজির পাতায় কারো অবয়ব নিজের হাতে গড়তে, ছাঁচ ভেঙে, নব কলেবরে| এ দ্যাখো, কানলতিতে আমি ধুলো, চুলে আমার গন্ধর্ব বিবাহ, গোঁফে নামছে সাড়ে সাতটার ট্রেনের হুইসল| তারার একটি আলো টেম্পরারিলি সুইচ্ড অফ| গোটা ট্রম্বে আজ আমার পুলকে আবিষ্কার করছে যে, মুসুরডালের মতো ত্বকে চপ্পলটা আমার| পকেটে ব্যাটারির মতো চিরকুট| নীল জাহাজের গায়ে আমাদের বোবা হাত নিশপিশ করছে তাকে পেতে| সেই শেষ| শেষ দুয়ারের নাম দুঃখ|

শুনছো এই যে~
কেবল কয়েকটা বিন্দু সমেত অপেক্ষা প্রহর গুনতে গিয়ে প্রহরান্ত হলে আরো একটা কনে দেখা আলো থুবড়ে পড়ছে শহরের জলে| তখন পানকৌড়িদের ফেরার সময়| নিস্তব্ধতার শব্দ ঝরছে মৌমাদলের পরে, ঘ্রাণ নিচ্ছি| সময় ঠাহর হয় না আর| কেবল চুপে ফুলের পড়ন্ত পাপড়ির গা থেকে অবাক চেয়ে থাকছে ব্যর্থ রেসের ঘোড়া| ঘোটকীর অভিমানে সেদিন জোনাকিরা ও আলো জ্বালায়নি| দূর পাকদন্ডি ভাসুর দেওর চৌরাহের সীমার শেষ যতদূর, কম পড়লো তার কান্না| গুঞ্জনের যমজ বাই ওয়ান গেট ওয়ান এর হিসেবে আমি আবার ডি পি বদলাই|

মনে হয়, তারপর আবার মাদুর বিছানোর শব্দ| চপ্পলে পা গলানো মনখারাপ এবার আর ডাকবে না ঐভাবে| মাঘীপূর্ণিমা আলাদা হয়ে গেল আমাদের, দু বেণীর মতো দুটো একে অপরে তাকিয়েও দেখে নি কোনদিন|

তোকে শুধু ভালো থাকতে দেখতে চাই|

লেখামাত্র রোদ উঠলো| নাইন ও ক্লকের গা বেয়ে লবটুলিয়া বৈহার জাগছে একটা কোনো ঘাসের ডগায়, দুব্বো রঙের মেয়ে লতিয়ে উঠছে পুঁইপালঙের সওয়াল জবাবে| একটা গরম করার মেশিন, একটা গোলাপ পাতার ইন্ডিল পিন্ডিল তুই তোকারি চুমু রাখা আছে দেরাজে| ব্যবহার কোরো, আমি না থাকলে|

তোকে হয়ত মেসেজ করি না, ফোন ও... ভাবিস না ভুলে গেছি, ভাবিস না আরব সাগরে অনেক
দূরপাল্লা ঢেউ আছে বলে, এখন সরে যাচ্ছি দূরে... টানা ৭দিন যদি বেঁচে থাকি তোতে আমাতে টানা একদিন কুশের আগায় তোর কান বিঁধিয়ে দেব বলেছিলাম তুই মাকড়ি পরে আয়না দেখবি, আমি তোর দুই ভ্রূ বিঁধে দেব একটা নাইন ও ক্লক তুলে...

সেদিন ২৮-এ, আমাদের মনখারাপের জন্মদিন হবে...

৭মিনিট পর আলো জ্বলছে জলের ঢেউয়ে, নিঃশব্দ ঝিলিক উঠছে ফোয়ারায়, সেন্ট এ্যাগনেস স্কুলের পাশে গীর্জায় ঘন্টা বাজবে| বাড়ি ফিরছি| ও রাগ করে একটাও কথা বলছে না দেখছি| এত জোরে যাচ্ছে, আমার পা সৈকতের ঝিনুকে কেটে যাচ্ছে| এখন জোয়ার আসছে, সাগরে যেন টান আসছে জলের| তদ্বির করছে বাতাস| মুখ ফিরিয়ে সব পাখিদের ঝাপসা আলো দেখছি আর দৌড়তে হচ্ছে| পয়মন্ত একটা ছমছমে ভয় বুকে ওঠানামা করছে সমানে| ওর পায়ের গোড়ালি কী সুন্দর, সরু দাগ দেওয়া শঙ্খ আঁকা যেন| সমুদ্র ফিরে গেলে যেমন দাগ রয়ে যেতে চেয়ে মিলিয়ে যায়, তেমনি| আমার কপালময় সেই পায়ের তলার বালি আর ঘুমন্ত নাবিকের শ্যামপেন| কেউ ছিপি খুলে ঢালছে, একটা শ্যাওলা রোমশ পায়ের গোছে স্কুলের টাই লুটিয়ে আমি ওর স্পর্শ তুলে নিয়ে এসেছি| আরতির আলোর মতো ওর মুখ, সে আলোর ওপর আঁচলের খুঁট ঘুরিয়ে দেবতার আশীর্বাদ স্টক করলাম| পায়ের তল, পাপড়ি... পাপড়ির বহুতলে জারুল ফুল| পাখালির ডানায় লাগা রক্তের দাগের মতো আমি ওকে দাগিয়ে দিলাম| পা ছোঁওয়ামাত্র সূর্য হুস করে চললো তেপান্তর|

আমার চোখে সূর্য ডুবে যাওয়া আসলে চাঁদের উঠে আসা| আমি ওর দুই জানুর মাঝ বরাবর চাঁদের দপদপে জেগে ওঠা দেখি আর ভাবি, একটা ক্রস আছে মধ্যিখানটায়| ঐখানে ওর গ্রে হাফপ্যান্ট দুটো বিন্দু থেকে এসে এক জায়গায় মিলেছে ত্রিভুজে, মাথা নীচু করে আরো কিছুটা এগিয়ে গেলে বুঝি দেখা যাবে কৃষ্ণচূড়ার পরাগদণ্ডটি প্রকৃত কেমন দেখতে| আমি মুখ নামিয়ে নিই, ঘাড় ধরে যাচ্ছে| ধরে আছে ও আমার কোমর আর নোয়ান ফেলে আমার রেলা চলছে| পায়ের পাতার ওপর গড়িয়ে দিলাম চশমা| নাক থেকে গলিয়ে দিলাম জুতোর ওপরে| নর্থ স্টার জুতোর ওপর নাক ঠেকাবো, উঁ... প্লিজ প্লিজ| না| কিছুতেই না| বারণ করেছি না... মার খাবি|

যেমন বলা,ওমনি কাজ| আমি যুগান্তের শেষ পৃষ্ঠায় কেবল টানা অস্তরাগ লেখা কলমে নাক যেন চামচের মতো পেয়ালার তলানি থেকে ডুবে যাওয়া বিস্কুট তুলে নিচ্ছি আর তুমি চাইছো না চাইছো না না না... কিছুতেই না| এই আমাকে তোমার এ হেন না চাওয়া দিনলিপির শুরু|

শঁ জে লিজের সমারোহ ছাপিয়ে নীশ শহরের বন্দরে এখন সুরা উৎসব| ভূমধ্যসাগরের জলে কিনারাহীন মাদকতার ক্যারাভ্যান চলছে| ভোর থেকে শিউরে উঠছে শ্যামপেন বনাম চুম্বনের বকেয়া মেটানো| একাধিক কলেবর তার| কখনো কাক ভোরে সী গালদের দ্বীপে নারী পুরুষের অধরাভাষ তল পায় না, একটি চুম্বন বাজেয়াপ্ত করে প্রেমিকের ঘুম শুধরে দিয়ে ফিরে যায় অস্ত শয্যায়| সন্ধ্যা নামে নি, ডেকের ওপরে আপনি বোভায়া পড়ছেন| আর ইতি উতি চেয়ে ডানা সমেত নেমে গেলাম সবুজ নীল অরণ্যসাগরে| জলের তলায় রোদের যোনি শোয়ানো, আমি পায়ের গোছে ছিটকে আসা মুখর ঝাঁঝি সরিয়ে পাতালে ফিরনির মতো কোরালনগরী ছুঁয়ে দেখছি| ইচ্ছে হল দৌড়ে একবার দেখে আসি উদ্দামিত দেহের চাতালে ওষ্ঠবর্ণের স্পর্শ কী রূপ| যাযাবর ছেনালি আমার অঙ্গে অঙ্গে বর্গ ধাতু আর উচ্চারণ শিখিয়েছে, সোনালি চুলে গড়ানডাঙা মেলামেশার গল্প আমাদের বয়ে নিয়ে যেতে চাইল| আপনি বুঝি কানে কু দিয়ে জাগালেন|

স্পন্দন যেন সমাপ্ত| কাহিনি না লেখা অভ্যাগত হয়ে আসঙ্গলিপ্সায় ভেরোনিকার রুমাল হয়ে আছে, খৃস্টের বিদায় যাত্রায় আমি আর কাউকে দেখছিলাম| সেই অভাগা সংলাপে আপনার তুই বলে আমাকে চমকে দেওয়া... তখনিই ভেসে উঠল খৃস্টের মুখ, জলের রুমালে| আবহাওয়ার নিষেধ না মেনে চললাম মনাকো কিংবা গ্রাস| সুগন্ধনগরীর জামেওয়ার বোহেমিয় কারখানায় কি আমার শরীরহ্লাদের লাজবাসা পাবে, অমুক রং উল্লাসকে পান করি আসুন...| জাহাজ ছাড়লো এবার...

দেখা হওয়ার পর অঞ্জলি ভরে গেল না পেরনো চোখের জলে| হাত ধুইনি| খাওয়া হয়নি, স্নান হয়নি কিছু| তোয়ালে মোড়া চলে যাওয়া তখন একটা হা ঘরের এক গ্রাস অন্নভোগ| আমি রোজ স্নান চুরি করতাম, কাউকে বুঝতে দিইনি কতদিন অভুক্ত হয়ে আছি, কত যোজন কত মাইলের পর মাইল স্নান নেই, এভাবে বিরুদ্ধযাপন| প্রতিটা দিন, মনে হয় আজ হয়ত বুঝতে পারবে, আজ হয়ত দূরান্তের পাহাড়শলাই একা জেগে উঠবে অলিভের গলুই সরিয়ে, রাসের চাঁদ পথ দেখালে সে নিশ্চয় জানতে পারবে, এও কেমন ভালো থাকা... কেকের পরতে পরতে রাত্রি নেমে আসে, আলো মোছে না| কোথায় যেন হসন্ত লেগে থাকে সরল জানাজানির টানেলে| চোখ বুজে থাকি, চোখের ভেতর ফোটে দৃশ্যের খামার, আমি কাঙাল হাতের মই বেঁধে শব্দকে বিলম্বিতে ধরে থাকি, নিজেকে প্রতারণা করি, বলি সব মিথ্যে| সব সত্যি নয়| মতিচ্ছন্ন হসন্ত তার দাগ লাগিয়ে চলে যাবে বলে আমি আর কখনো চলমান রাস্তায় সেই নাভাঙা উপমহাদেশ লিখি না, আমার কোনো প্রতি নজর নেই, সম্বোধন নেই, ঘাইকলসের ডুব্ ডুব্ জলাচার আমাকে কিশোরত্ব ধুনে দিচ্ছে| আমি সে মার খাচ্ছি| মাথা পেতে| যোনির অন্য প্রান্তে তখন অপুষ্ট কান্নার মতো কিছু ক্রমাগত রেফ ভাঙছে, গুমরে উঠছে সুখের শ্বাপদ, চারপায়ী চামড়াগুলো ছুঁড়ে ছুঁড়ে আমার বাজনা তৈয়ের হচ্ছে আগামীকাল, বলছি তোমাকে... এই যে... দেখা হলে বোলো, সুধা তোমাকে ভোলেনি|

ফেসবুক মন্তব্য