তামাদি

অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়





ফোনটা আপিসেই এসেছিল।

নাম্বারটা যে সৌমিত্রর নামেই সেভ করা রয়ে গেছে, এতদিন পরেও, সেটা আবিষ্কার করেই মিলির আশ্চর্য লাগলো। সবকটা পুরনো ডায়েরী কুচিকুচি করে ছিঁডেছে, অ্যালবাম থেকে একটা একটা করে ছবি বেছে, ঠিক যেগুলোতে সৌমিত্র উঁকি দিচ্ছে সেগুলো ছিঁড়েছে। হালের মোবাইলের ছবিওগুলিও রেহাই পায় নি, সাগর, পাহাড়ের কত সুন্দর দৃশ্যেরা নির্মূল হয়ে গেছে - সৌমিত্র সেইসব দৃশ্যের অংশ স্রেফ এই অপরাধে।

পলাশফুলকে আর ভাল লাগানো যাবে না, মার্চের দুপুরে মাথেরান যাবার পথে নেরল স্টেশন-চত্বরের একটা পলাশ গাছের পড়ে পাওয়া আগুনরঙ সবার সামনে তার হাত-খোঁপায় বসিয়ে দিয়ে সৌমিত্র নিজেই হইহই করে বলেছিল, দেখলে না তো, লাল আর কালোয় যে গোলমাল বাঁধিয়েছে।

নাক-উঁচু পলা ঠোঁট উল্টে বলেছিল, আহা, আদিখ্যেতা! কিন্তু এখন আর সেসব মনে এল না, শুধু ভেসে এল সেই গোলমাল শব্দটাই। আর গোলমাল, বদলে যা গোলমাল তুমি দেখিয়েছ, সেই বিশ্বরূপের ঠেলায় এখনো... কিন্তু নির্বোধ সিম, কী বলে তুই একটা তামাদি কনট্যাক্ট এখনো ফোনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিস! নিজের উপর অন্ধ রাগে মিলি ঠিক করে ফোন ধরবেই না। অনেকক্ষণ একলা বেজে যায় ফুর এলিসে।

শেষ পর্যন্ত্য ফোনের নেই-আঁকড়াপনার কাছে হার মেনে মিলি হাতে তুলে নেয়, হাত ঘুরিয়ে কাঠ কাঠ গলায় বলে, আবার কী! তাড়াতাড়ি বলে ফেলো।

ওধার থেকে অস্বস্তিকর নীরবতা।

এবার একরাশ ধৈর্য্যহীন বিরক্তি ফোন লক্ষ্য করে ছুটে যায়, দেখো, আমার কাজকর্ম আছে, ফোন করেছ কেন বলতে হলে বলো, আমাকে প্র্যাঙ্ক কল দিয়ে কোন লাভ নেই, তুমি জানো, নাম্বারটা সেভ করা আছে আমার কাছে... কাছে বলতে গিয়ে শেষমুহুর্তে, "আমার ফোনে" বললো।

-মিলিদি, আমি, মণি।

একপ্রস্থ নীরবতা। কিন্তু যেই মিলি ঝাঁঝিয়ে উঠে বলতে যাবে, কী দুঃসাহস, অমনি অন্যধার থেকে অপ্রত্যাশিত শান্ত গলাটা ভেসে এলো আবার, আমি তোমায় ডিস্টার্ব করতে চাই নি, বিশ্বাস করো। কিন্তু সৌমিত্র ভাল নেই, হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।

- কী হয়েছে?

- একটা একসিডেন্ট করেছে। পোলাডপুরের কাছে। মুম্বাই গোয়া হাইওয়েতে। আমিও ছিলাম বাইকে। কিন্ত আমার কিচ্ছুটি হয় নি... মণির কি গলা ভেঙে আসছে?

-আচ্ছা, হসপিটালটার লোকেশনটা আমাকে হোয়াটস্যাপ করে দে তো, দেখি যত তাড়াতাড়ি পারি, আমি যাচ্ছি।

নিজের গাড়িটার একটু ক্লাচের ইসু আছে....সেটা নিয়ে বেরনো ঠিক হবে না। মিলি তাপসকে ফোন করে গাড়ির ব্যবস্থা করতে বললো, আধঘন্টার মধ্যে বেরতেই হবে।

তাপসকে একটা ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের কৈফিয়তও দিয়ে দিল, যদিও না দিলেও হত। তাপস সৌমিত্ররও পুরনো বন্ধু... জোয়ার এবং ভাটার দিনের, যাকে বলে অল ওয়েদার সুহৃৎ।




পোলাদপুর... সতনাম ধাবা... কেউ যদি একটা প্রায় অর্ধেক পড়ে-ফেলা না-পসন্দ বইয়ের আবার প্রথম দিকের একটা পাতা জোর করে মেলে ধরে চোখের সামনে, তাহলে যেমন লাগে, খানিকটা সেরকম তেতো হয়ে আছে মুখটা।

তেতোই তো! সতনাম ধাবার খাটিয়াতে বসে রুমালী রুটি-তড়কা দিয়ে লাঞ্চ হচ্ছিল তাদের। সঙ্গে বীয়ার, সর্দারজী বলছিল, বীর। সৌমিত্র জোর করে তাদের দুজনের জন্যই আনিয়েছিল। কিন্তু একটি বার চুমুক দেবার পর তিতকুটে সেই পানীয় গলাধঃকরণ করার কোন ইচ্ছে মিলির ছিল না। বম্বে থেকে মহাবালেশ্বর যাবার প্রাচীন পথের উপর এই ধাবাটায় ওরা আগেও বেশ কয়েকবার থেমেছে, হাত-পা ছড়ানোর জন্য, মালাই চা-বিস্কুট। লাঞ্চ ব্রেক সেবারই প্রথম।

সৌমিত্রর এনফিল্ড বুলেট গর্বিত সিংহের মত সাইড স্ট্যান্ডে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। শুধু তার দুই হাতলে দুটো রেশমী ঝুমকা দেখে ধাবার অন্য আগন্তুক অতিথিদের মুখে কৌতুকের স্মিত হাসির আভাস এসেই মিলিয়ে যাচ্ছিল।

সৌমিত্র খাটিয়ায় আধশোয়া হয়ে দেখছিল সমস্তটা, যেন সে এই দৃশ্যের অন্তর্গত নয়। কে বলবে একটু আগেই, সে অস্বস্তিতে প্রায় মাটির মধ্যে ঝাঁপ দিতে যাচ্ছিল যখন মিলি সেই দোকানটার সামনে দাঁড়িয়ে দুটো পরান্দার মত দেখতে ঝুমকো পছন্দ করছিল। দুহাতে সে-দুটো তুলে নিয়ে মুখের দুপাশে ঝুলিয়ে বলেছিল, আমায় কেমন দেখাচ্ছে!

প্রায় সব ধাবার পাশেই এরকম একটা দুটো দোকান থাকে, রেশমী ঝালর, সিন্থেটিক ফুলের হার...ঝিনচাক রঙের ব্যপারস্যাপার...সৌমিত্ রর ভাষায় কিৎস না কিচ্ কি যেন। একবার তাকিয়েই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল। সৌমিত্রর পেটানো চেহারা, চামড়ার বাদামি জুতো আর মানানসই মোটরবাইক দেখলে এখানে অনেকেই তাকে উর্দিধারী বলে ভেবে নেয়, হয়ত একটু অতিরিক্ত সম্ভ্রমপূর্ণ ব্যবহার করে থাকে। ধাবার মালিক কাজের ফাঁকে লক্ষ্য রাখে, কী লাগবে-টাগবে খোঁজ খবর করে... অথচ ভেতরের মানুষটা যে আদৌ পুলিশি শৃঙ্খলায় অভ্যস্ত নয়, বরং একটু অগোছালো, বেপরোয়া... সে আর কী করে জানবে সে। সৌমিত্রও যেন নিজের ইমেজ বজায় রাখতে একটু বেশিই সচেতন।

-কী হল? বললে না তো কেমন দেখাচ্ছে?

পরপর দুবার জিজ্ঞেস করার পর উত্তর দিল, নিতান্ত দায়সারাভাবে, নাকি নিছক ব্যঙ্গে ঠিক বোঝা গেল না।

-একদম মধুবালা! হয়েছে? এখন এসো। বলেই একটা খাটিয়ার দখল নিয়েছিল। তারপরে খাবারের অর্ডার দিয়েছিল। দুটো লন্ডন পিলসনারও। ততক্ষণে মিলি ঝুমকো দেওয়া ঝালরদুটোর দাম মিটিয়ে সেদুটো বুলেটের দুই ধারে লাগিয়ে দিয়ে মহারাজ্ঞীর মত গটগট করে গিয়ে সৌমিত্রর পাশে বসলো, যেন কিছুই হয় নি।

খাবার চটপটই এসে গেছিল। রান্নার স্ট্যান্ডার্ড বেশ ভাল, কিন্তু ঝাল। মিলির এত ঝাঁঝালো রান্না খাওয়ার অভ্যেস নেই, হেঁচকি উঠতে লাগলো। বীয়ারের বোতলটা তুলে তার মুখের সামনে ধরেছিল সৌমিত্র-ট্রাস্ট মি, ম্যাডাম, আর একঢোক গলায় পড়লেই হিচকি চলা যায়েগা।

মিলি মুখ বিকৃত করেছিল।

-বিশ্বাস করলে না তো ম্যাডাম, করলে ঠকতে না। তারপর সেই ক্ষোভেই বোধহয় আবার বীয়ার অর্ডার করলো। খাটিয়ায় চিৎ হয়ে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে তারপর আরও তিন-চারটে বোতল খালি করে ফেলল সৌমিত্র। তার আপত্তি সত্ত্বেও।



সত্যিই হয়তো মণির তাকে ফোন না করে উপায় ছিল না।

মণির এখনো ছেলেমানুষ ভাবটা যেন যায় নি। তিরিশের ওধারে হলেও তাকে অনায়াসে চব্বিশ-পঁচিশ বলে চালানো যায়, অন্তত যেত, বছর তিনেক আগের শেষ সাক্ষাতের স্মৃতি তাই বলছে। যারা মিলি আর সৌমিত্র দুজনেরই বন্ধু ছিল তারা ঘটনাপ্রবাহের আকস্মিকতায় একটু আলগোছ হয়ে গেছে। দুজনকেই এড়িয়ে চলে। কিন্তু আজন্ম কলকাতায় লালিত মণি যেখানে গেরস্তালি পেতেছে, সেখানে কখনো কখনো পাশাপাশি দুটো ফ্ল্যাটে সারাজীবন বাস করেও অনেকে প্রতিবেশিকে চেনে না। আর এই তেপান্তরের মাঝখানে বিপদে আপদে সে আর কার কাছেই বা যাবে! বম্বেতে চাকরি করতে আসার সময়ও তো সে মিলিদিকেই শুধু জানতো আগে থাকতে।

গাড়িতে বসে তাপসকে সে কথাই বলছিল মিলি। তাপসকে শুধু গাড়িটা যোগাড় করে দিতে বলেছিল মিলি, সঙ্গী হতে বলার কথা ভাবেও নি। কিন্তু যথন আপিসের সামনে এসে দাঁড়ানো গাড়িতে উঠতে গিয়ে দেখে তাপসও বসে আছে।

-ভাবলাম পুলিশ কেস-ফেস হয়ে আছে, তোমাদের কাজেই আসব । চিন্তা কোরো না। তাছাড়া আমি তো তোমাদের দুজনেরই শুভাকাঙ্ক্ষী। কতদিন একসঙ্গে ছিলাম।

এর উত্তরে আর কিই বা বলা যেত।

মহাকালী কেভসের পাশের গ্যারাজটা আর একটা ঝোপড়পট্টি পেরোলেই যে একটা দুটো ফ্ল্যাটবাড়ি...তারই একটা বাসাভাড়া করে থাকতো দুই বন্ধু। একজন চাকরী করতে করতে সি এ পড়ছে....অন্যজন ছবি আঁকে, স্টুডিও পাড়ায় ঘোরাঘুরি করে। ঠিক কাঠবেকার না হলেও, অনিয়মিত রোজগার। মিলিরাও তিন বান্ধবী থাকতো কাছেই, প্রায় সকালেই তাদের দেখা হত একই বাসে। ক্রমে বন্ধুত্ব....একসাথে আড্ডা, নাটক দেখতে সেই রঙ্গশারদা কি পৃথ্বী থিয়েটার... ঘনিষ্ঠতা।

সি এ পাশ হয়ে যাবার পর তাপস যে পার্টি দিয়েছিল সেখানেই প্রথম বাকি সবাই জানতে পেরেছিল তাদের সম্পর্ক একটা মধুর পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। তাপস অবশ্য জানতো। ইতিমধ্যে সৌমিত্রর নতুন বাইকের সওয়ার হয়ে তারা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে এদিক ওদিক। গ্রীষ্মের সপ্তাহান্তে সেই মহাবালেশ্বর... খোপোলি... বর্যায় লোনাভালা। সেইসব চট-জলদি ভ্রমণের সবুজ কিছু কিছু তার ক্যানভাসে ধরা পড়েও গেছে... আ উওম্যান ইন রেইন... যদিও মিলি ভালরকম শাসিয়ে রেখেছিল সৌমিত্রকে... আমি কিন্ত ডোরা মার নই। সেরকম উলটোপালটা আঁকলে তোমার ক্যানভাসে কিন্ত আড়াআড়ি ছুরি চালিয়ে দেব।

সৌমিত্রও ছাড়বার পাত্র নয়... হাহা হাসিতে ঘর ফাটিয়ে ফেলে বলতো, ধরে মার দেবে বলছো? পিকাসো কিন্তু নাম উল্লেখ করেছিলেন... আমি যে তোমার ছবিই আঁকছি কে বললো?

ছবিটা অবশ্য গাজদার পরিবার কিনেছিল, বেশ ভাল দামেই।



-তুই জানতি যে ও ড্রিঙ্ক করেছে, তাহলেও ড্রাইভ করতে দিলি কেন! তাও আবার বাইকে! তাছাড়া এখন তো অনেক হোটেল হয়েছে... কোথাও ঢুকে পড়লেই তো ল্যাঠা চুকে যেতো!

মণি ফোঁপাচ্ছিল। সামনে রাখা কফি কখন হিম হয়ে গেছে।

সৌমিত্রকে বম্বের একটা বড় হাসপাতালে আনা হয়েছে। এযাত্রা বড় বাঁচা বেঁচে গেছে সে। ডাক্তাররা তাই বলছিলেন... মামুলি কিছু মাসল টিয়ার আর একটি ভাঙা হাড়ের ওপর দিয়ে ফাঁড়া কেটে গেছে। তাপস থাকাতে কিছু সিদ্ধান্ত সময়মত নেওয়া গেছিল... হাসপাতালের কফিশপে বসে ছিল মিলি আর মণি। সৌমিত্র হয়ত কাল বা পরশু ডিসচার্জ পেয়ে যাবে।

-ও কি আমার কথা শোনে?

-তুই বলেছিলি?

মণির হ্যাঁ বলার মিনমিনে ধরন দেখেই মলি যা বুঝবার বুঝে গেল। জীবনে কোনদিন কোন সিদ্ধান্ত মণি নিয়েছে বলে মনে হয় না। আহ্লাদীপনা আর খানিক অবুঝ ছেলেমানুষীই কি মণিকে টেনে নিয়ে গেছিল সৌমিত্রর দিকে? নাকি সৌমিত্রই একটা ঝোঁকের মধ্যে এসে বেসামাল করে দিয়েছিল একটি বালিকাহৃদয়?

আপাতত, মুখের রেখা একই রকম রেখে মিলি বললো, তাছাড়া এই রাস্তা দিয়ে যাবার দরকারটাই বা কী? এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ওয়াই পঞ্চগনি হয়ে গেলে তো অনেক আগেই পৌঁছে যেতিস।

-কী জানি, ওর কতগুলো পাগলামো আছে, ওই রাস্তাতেই যেতে হবে... একটা পার্টিকুলার ধাবাতেই লাঞ্চ করতে হবে... বারবার গিয়ে একই হোটেলে উঠতে হবে... জানোই তো!

মিলি উৎকর্ণ হয়ে ছিল, কোন ধাবা বললি?

-ওই তো, সতনাম না কী যেন! ঠিক তিনটে সাড়ে তিনটেয় লাঞ্চ করতে বসবে, একগাদা বীয়ার খাবে... তারপর আবার রাস্তায় নামবে। কিছু বললেই বলবে, জাস্ট ট্রাস্ট মি ম্যাডাম, কুছ নহি হোগা...

-এই শোন, ওসব আমার জানা আছে বুঝলি।

মণি এই আকস্মিক রুক্ষতার কারণ বুঝতে না পেরে চুপ করে যায়। মিলি মণির নতমুখের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল, ...কেন বার বার বিশ্বাসহীনতার অনুযোগ করে সৌমিত্র? কে তার বিশ্বাস এভাবে ভেঙে দিয়েছে যে প্রতিটি সম্পর্কের প্রতি তার একই অভিযোগের আঙুল উঠে আসে?

কেন বার বার সৌমিত্র নতজানু হয়ে বলে, বিশ্বাস করো, কিচ্ছু হবে না, আমাকে বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে নিরাপদে পৌঁছে দেব... লোহার বাসরেও কি একদিন কালনাগিনী এসে ঢোকে নি? একমাত্র মৃত্যু ছাড়া জীবনে কিই বা নিশ্চিত করে বলা যায়?

তাছাড়া তোমারই বা বার বার কেন একই রাস্তায় , একই বিপন্নতার মধ্যে দিয়ে গিয়ে আশ্বস্ত হতে লাগে? কে তোমাকে এই বিশ্বাস দিয়েছে যে আমরা একসঙ্গে থাকলেই আমাদের কিছু হবে না।

মিলির সঙ্গে সেই ধাবায় লাঞ্চের পরে মিলি আপত্তি করেছিল আবার বাইকে চাপতে। মিলি উপেক্ষা করেছিল। সে মদ্যপ সৌমিত্রর সাথে যেতে অস্বীকার করেছিল। ভাগ্যক্রমে মুম্বাইযের একটা মেয়েদের কলেজের বাস সেই ধাবায় দাঁড়িয়েছিল, মহিলা খেলোয়াড়দের নিয়ে বাস ফিরছিল মুম্বাই। তাদের নিজের বিপন্নতার কথা বলে সে তখনই উঠে পড়েছিল বাসে। সৌমিত্র দুচোখে আধো অন্ধকারে কী দেখেছিল আজ আর মনে পড়ে না।

মণির ফোন বেজে উঠলো। সেই ফুর এলিসে... হয়ত সৌমিত্রই করেছে। এটা সৌমিত্ররও প্রিয় পীস। যে এলিজাবেথের জন্য বীথোভেনের এই রচনা তিনি আসলে যে কে তা নিয়ে জল্পনার আজও শেষ নেই... কোন অবিশ্বাসিনীকে সৌমিত্র বারবার খুঁজে যায় ক্যানভাস হাতড়ে, বারবার জীবন তছনছ করে, কে জানে। কিন্ত মিলির আপাতত দায়িত্ব এই সামনে বসে থাকা বালিকাটিকে আগলে রাখা, ও ফুর এলিসে তাদের কারও জন্য নয়।

ফেসবুক মন্তব্য