গন্ধ

চয়ন ভৌমিক


১)

অদৃশ্য
এবং ইন্দ্রিয়পরায়ণ এই দূষণ।

তার চেরা জিভ, অশরীর প্রেতরূপ চোখে
নীলাভ ধ্বংসলোলুপতা...

আমাদের প্রতিরোধ শক্ত অবশ্য
ইকো ফ্রেন্ডলি -

বেল্টে সবুজ তরোয়াল বেঁধে
উদ্ভিদেই রেখেছি তাই... সহজ আস্থা।।

২)

খুব মিষ্টি
এক নেশার মতো ঘিরে ধরে এই রেশ...

চৈত্র-বোশেখের আম্রমুকুল, যেমন
যতনের দুধ-ফুল

ওরা ঠিক তেমন আদরের বোল
সন্তান স্নেহ তোরা
বেঁচে থাকার নতুন সন্দেশ।।

৩)

তার শরীরে মনের ঠিকানা
অথবা মনে শরীরের আশ্রম।

তাই, ওদিক দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া এলে
বিভ্রম কেটে যায়,
মায়াজাল ছিঁড়ে, আকাশে
ওড়ে রোদ-সুর- ফেরবার ডানা ...

আসলে সাতপাক এক কষে বাঁধা গিঁট

আর মশা মারার ধুপ
রোজকার অগ্নিসাক্ষী।।

৪)

এই মাটি পড়লো কাঠামোতে। বুকের মধ্যে হু-হু সঙ্গীতের “লং প্লেয়িং” বাজিয়ে ঘুড়ি উড়ে গেল নীল আকাশে। দু-পশলা বৃষ্টির পর ঝকমক করে উঠলো পেয়ারা পাতার শরীর।
এমন শাপলা ফোটার দিনে, রেল লাইনের ধারে কাশফুলের সমুদ্র, সাদা মেঘের ঢেউ। এসময় কে বলোতো গেয়ে ওঠে “বলো কি, আছে গো, তোমারই আঁখিতে”। কে ষড়যন্ত্র করে সন্ধ্যার আকাশে এঁকে দেয় আশ্চর্য কমলা বানভাসি।
ওই দেখো অপুর দৌড়। চক্ষুদান। নীলকন্ঠ পাখির জ্যামিতি ডানা। দু-বেনুণীর পদ্মফুল।

এক আশ্চর্য আনন্দে ম-ম করছে চতুর্দিক।
মা আসছে।


৫)

শুঁকে শুঁকে চিনেছি প্রিয়জন।

এখন তফাৎ করছি -
বাঘ, আঁশগন্ধ ও রজনীগন্ধায়।

ফেসবুক মন্তব্য