দুটি কবিতা

উত্তম দত্ত

(প্রতি সংখ্যায় 'নির্মাণ খেলা' বিভাগে থাকবে আমাদের পছন্দের কোনো কবির একাধিক কবিতা এবং তাঁর কবিতা নিয়ে লেখা অন্য লেখকের গদ্য। এই সংখ্যার কবি উত্তম দত্ত। প্রকৃত অর্থেই প্রচারবিমুখ এই কবির এখনো পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি কোনো কাব্যগ্রন্থ। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতে নিজের কবিতা পাঠানোর ব্যাপারেও বাংলা সাহিত্যের এই অধ্যাপকের অপার আলস্য। অথচ, শুধুমাত্র ফেসবুক ও তাঁর নিজস্ব পেজের মাধ্যমেই তিনি জয় করেছেন অসংখ্য পাঠকের মুগ্ধতা। তাঁর দুটি কবিতা ও পল্লব গাঙ্গুলী-র লেখা একটি প্রবন্ধ নিয়ে এবারের নির্মাণ খেলা। )

স্বর্ণডিম্ব

যে স্বর্ণডিম্বটি দেখে
একদা ভালোবেসে হাত রেখেছিলাম
তোমার গ্রীবায় ও সোপানে
সম্প্রতি জানা গেল সেই অলৌকিক ডিম্বটি
তোমার ছিল না --
অতখানি ডিম্ব প্রসবের মতো সচ্ছল গুহামুখ
তোমার নেই।

আহাম্মক আমি, সেকথা বুঝি নি --
তাই আহ্লাদে আট টুকরো হয়ে
হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে পড়েছিলাম তোমার নন্দনে।
দেখেছি আত্মহারা উন্মত্ত গণিকারা তোমাকে চুম্বন করছে।
কামরাঙ্গা অন্ধকারে --
ছিঁড়ে ফেলছে তোমার পলিথিনের অন্তর্বাস,
কুড়িয়ে পাওয়া সোনার কলম,
আর গঞ্জের মেলা থেকে কেনা তিন পয়সার বাঁশি ।

রাশি রাশি সাদা ও সমকামী মানুষের ভিড়ে
আমার কালো মাথা ও কাটা চিবুক
তুমি দেখতে পাও নি।
তবু একটি মাত্র স্বর্ণডিম্বের লোভে
এতকাল ক্রীতদাস হয়ে আছি।
সম্প্রতি জানা গেল
উল্লিখিত মায়াডিম্বটি তোমার ছিল না ...


অলম্বুশের পাঁচালি


শরীর ছুঁয়েছ তুমি, সিংহাসনে বসাব না আর
ইচ্ছেমত লাথি মারব, চেপে ধরব ক্রীতদাস-টুঁটি
মধ্যরাতে শুষে নেব চন্দ্রাহত ননীর ভাণ্ডার ।

শরীর ছুঁয়েছ বলে নও তুমি প্রীতিভাজনেষু --
নিছক পুরুষ এক, বসন্তের মদির প্রান্তরে
ঋতু-গন্ধে ছুটে আসা তুমি এক আরণ্যক পশু ।

শরীরে নেমেছ তুমি মায়ামুগ্ধ পিছল পুরুষ --
মনেই পড়ে না আর কবে ছিলে জলের দেবতা,
যেন শহরে এসেছে রূপমুগ্ধ প্রিয় অলম্বুশ ।

তোমাকে খুঁজি না আর অঘ্রাণের দেবদারু-মূলে
শরীর দিয়েছি বলে শুষে নেব সুদে ও আসলে ।

ফেসবুক মন্তব্য