থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার

উত্তম দত্ত



দুবেলা অন্ন গিলছি মুঠো মুঠো
পাথর মেশানো
স্নান করছি অপরিচ্ছন্ন জলে
তারপর মধ্যরাতে কঙ্কালের ঘরে শুয়ে
সোনার পৈঠায় লিখে রাখছি পান্ডুলিপি
মদ-রঙা মেয়েটিকে নিয়ে।

এই নিষিদ্ধ পল্লীতে তোমার কোনও ঘরবাড়ি নেই।

সারাদিন ভিক্ষে করি, খালিপায়ে হেঁটে যাই
দীর্ঘতম পথ, তীক্ষ্ণধার ব্লেডের ওপরে।
জানলা খুলে শিস দিই সাঁই সাঁই বাতাসের মতো।
ধুলো কাদা ঘেঁটে মাটি দিয়ে মূর্তি বানাই
কাগজ-কৌটোয় তুলে রাখি রূপবতী অক্ষরের জাদু।

ভাবি, সমস্ত শহর আমাকে গরম বমির মধ্যে
ছুড়ে দিয়ে, পেছনে কুকুর লেলিয়ে
আহ্লাদে ঘুমোতে গেলেও
জেগে আছে সেই এক অলৌকিক দরজা-খোলা নদী।
যার জলে ডুব দিয়ে উঠে এলে
আদিগন্ত রূপকথায় ভরে যায় ভিখিরির ঝুলি।

রণপায়ে চড়ে কুতূহলী আমি ভোররাতে
তার চিলেকোঠার ঘরে উঁকি মেরে দেখিঃ
পলাতক বকুলশাখায় ভরে গেছে সারা ঘর
পাপোশে ছড়ানো পতঙ্গের এক লক্ষ টেলিগ্রাম
দেয়ালে শিখন্ডী-পুরুষ বসে আছে
নির্বোধ উল্লাসে, খুব পাশাপাশি।
সমস্ত কার্পেটে, সোফা ও বিছানায়, জলের গেলাসে
সারারাত ভেসে যাচ্ছে বকুলের মৃত ডানা।

আমি নেই কোনোখানে।

ফেসবুক মন্তব্য