আত্মস্তুতি

পূবালী রাণা



চাঁদের মুখ থেকে জ্যোৎস্না ছিঁড়ে এনে যে মেয়েটিকে বানিয়েছ উদভ্রান্ত বালিকা --

তন্বী জলস্রোতা হয়ে সেও একদিন আগুন ঝরিয়েছে কৃষ্ণচূড়ার বুকে।
একদিন ডাকপিয়ন সমস্ত ভালোবাসার চিঠি হাত হাতে সঁপে বলেছিল-
ঠিকানা হারানো প্রেমিকেরা আজও তোমার বেণীতে খুঁজছে পথ।

যে মেয়ে
অজস্র জন্মের তৃষ্ণা বাক্সবন্দী করে ছুঁড়ে ফেলেছে
উত্তাল সমুদ্রের বুকে,
তাকে রাতের কলকাতায় খুঁজতে আসেন স্বয়ং কামদেব
নিয়নের আলোয় দেহের রূপোলী বুদবুদে দৃষ্টি হারায়
সব রিপু বিপর্যয়ের মানুষ...

তুমি হয়তো জানো না--!
নির্দ্বিধায় বলা কথা সংশয়ের বারুদ মাখতে মাখতে
একদিন ঠিক ফিরে আসে আদিগঙ্গার ঘাটে।
বাতাবিলেবুর গন্ধ গাঢ় হয়ে ওঠে অশরীরী বর্ণমালার ভাঁজে।
দুর্বিনীত কুয়াশার পর্দা সরিয়ে রচিত হয় একটি নতুন নক্ষত্রবলয়।

আর রাতের শেষ প্রহরে স্বর্গীয় একটা সাদাঘোড়া-টানা দৈবরথ
মেয়েটিকে দেবতাদের স্বয়ম্বর সভায় জন্য নিতে আসে।

ফেসবুক মন্তব্য