তিনটি কবিতা

গোপাল লাহিড়ী



জন্মবীজ

আর কোনো বিশ্বাস নেই
জলে ভেসে যায় জন্মবীজ, স্মৃতি ও শব্দমালা।
জানালার কাঁচ মুছে দেয় গোধূলি।

যখনি ছিটকে যাই একেবারে মূলস্রোত থেকে
যখনি রক্তাক্ত হযে ওঠার ইচ্ছে গুলো রাঙিয়ে ওঠে,
তখন প্রকৃতই জানতে পারি না বিবর্তনের সেই গোপন রহস্য।

অসীম শূন্যে কিছু কি হারায়।

মানুষের প্রতারণা, তরল তাচ্ছিল্য, আঁকশির গোপন টান।
যেখানে অশ্রুপাতের পর অক্ষত থাকে না কিছু
যেখানে অন্ধকারের পাশে থাকে কেবল প্রতিহিংসা,
বিদ্যুতের শাসানি, তুলে আনা
কিছু না লেখার অনুরোধে লেখে স্বপ্ন সারাজীবন।

আস্তে আস্তে পৃথিবী দখল করে নেয় ধুসর পাথর
আস্তে আস্তে নদীর ঘোলাজলে দেখে নিতে হয় মুখচোখ,
আস্তে আস্তে হারিয়ে যায় বেঁচে থাকার ইচ্ছে -

আজ অস্বীকার করে সবকিছু নিষ্ঠুর ইতিহাস।


কোলাহল

এক এক করে জ্বালিয়েছি স্বপ্নের জাল
দূরে দূরেই।
জেতার বদলে হেরেছি।

সকাল সন্ধ্যা বোঝবার উপায় নেই
অন্ধকার যেন ঠোঁটের অক্ষর, শরীরের শব্দহীন ভাষা
অনেক বেশি ধারালো মনে হয়.
মেলামেশার গল্প।
এখন যাব না বাইরে, ভিতরেই থেকে যাব চিরকাল।

আমাদের
ঘুমের মধ্যে ভেসে আসা জাহাজের শব্দ
জলের মোহরছাপ,
আমি ডুবে যেতে পারিনা, পিছিয়ে আসি বারবার।

আলোর টুকরো যে কতরকমের বুঝতে পারি না
অবনত হয়ে পেয়েছি শূন্যতা
যতটুকু সহজভাবে আসে নিতে থাকি,
রাতিরে ঝোড়ো হাওয়া সৃষ্টি করে কোলাহল
পবিত্র হতে পারিনা।

কিছু কি নেই নিজস্ব যা স্বপ্নের দিকে চলে যায়
ঘর থেকে বেরিয়ে কোনদিন যদি হাঁটি সেই দিকে
বুনো ঘাসের মাঠে।

কেউ কথা বলতে আসে নিরিবিলি সময়ে
মানুষ সম্পর্কে এক অসাড় ধারণা জমে ওঠে
আনন্দ পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যায়
শেষ রাতের গভীর ঘুমের মধ্যে।


মুঠো খুললেই

আমরা যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই।

ছায়ামুখী মানুষ ঘুমোতে চায়
বুকের ক্ষত এমনই।
রাত্রি পাঠালো রূপালী আগুন।

বৃত্ত থেকে বেরিয়ে
ফিরে আসে কালো অক্ষর।
প্রাণের বদলে কিনেছে ভোরবেলা।

অপেক্ষা এমন এক, কেউ বিদায় নিতে গেলে
কিছুক্ষণ থমকে থাকে হাওয়া
জলের ইশারা।

কথা নেই দীর্ঘ শ্বাস আছে
আগুন আর কালো পাখির ইতিহাস
বুঝেছে ক্লান্তি ও হতাশা।

মুঠো খুললেই এক গুচ্ছ কবিতা
অনুবাদ করেছে,

আমরা শান্তি চাই না যুদ্ধ চাই।

ফেসবুক মন্তব্য