বলো

অপরাজিতা ভট্টাচার্য



যেই না বলব ‘প্রেম করবে? প্রেম?’

ওমনি ভয় পেয়ে যাবে। চমকে গেলেই ছিটকে যাবে তুমি। জানি।

আর ঠিক তখনই বলব ‘এসো না আমার এখানে, ডোবা নৌকোর জেগে থাকা গলুই দেখব দুজনে। আমার বাড়ির কাছের খাঁড়িতে। নদীর মতই প্রশস্থ ও গভীর। নদী তো নেই কাছেপিঠে। নিমেষে ভাতের ফ্যান গেলে দে ছুট। শুধু যদি দুজনে মিলে জেগে থাকা গলুইটা দেখা যায়।‘

কার কী বা আসে যায় যদি সারারাত,

রাত লেখার খসড়া ভেবে রেখে ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ প্রথম আজান শুনি। এভাবে কি প্রেম হয়? হয় না যে তুমিও জানো। আমাদের বাস যে পৃথিবীর দু-প্রান্তে।

স্মাজড লিপস্টিক, কিছু তিলের স্থানাঙ্ক, লাভ বাইট, বা আঁচড় বা নিদেন পক্ষে কিছু চিঠি বা ফোনের কথোপকথন এসব সিন্দুকে জমা না হলে যে প্রেম হয় না তা কে না জানে?

তাই তো বলছি যদি কাশ্মীরের হজরত বাল মসজিদের সুবিশাল চত্বরে তোমার পাশে বসতে ইচ্ছে করে, কাঁধে মাথা দিতে নয়। তাকে কি প্রেম বলে?

বিষোদগার নয়, নীরবতার ফণায় মরে গেল তোমার আলেয়া জীবন। ফিরে এলে আষাঢ়ের মেঘ হয়ে স্থবির। পুরুষ্টু হয়েও জলদের মত ঝরে পড়তে পারলে না।

মনে করো, বাঁধিয়ে রাখার মত কিছু একটা লিখবো। পেন খাতা ছাড়া সে মুহূর্তে কিছু নেই সম্বল। রেফারেন্স যোগান দিলে যেন অভিধান। লজিক বুঝিয়ে দিলে জটিলতাটুকু ভিতরে রেখে।

আমার ইচ্ছেতে তোমার বাড়িতে তুমি শুনলে আমার পছন্দের সুফি গান যার দুকলি আমি তখন বিছানায় আধশোয়া হয়ে লিখে রাখলাম আমার খাতায়

“জিত গয়ী তো পিয়া মোরে,
যো ম্যায় হারি পিকে সঙ্গ।“

নিশ্চিন্তে থেকো তুমি। আমার এসব ইচ্ছে, কথা আর অচল পয়সার মধ্যে কোন তফাৎ নেই।

রেটরোগ্রেসিভ মেটামরফোসিস বুঝিয়ে দিলে ধরো। জানলাম কোন কোন প্রজাতিতে পূর্ণাঙ্গ রূপ থেকে ভ্রূণে ফিরে যাওয়া যায়। ইচ্ছে হল ভ্রূণ হতে। নতুন করে যদি শুরু করা যায়। একে কী প্রেম বলে?

তুমিই বলো?

ফেসবুক মন্তব্য