বিবাহ বার্ষিকী

শিবাজী সান্যাল

অনেক চেষ্টা করেও দীনেন আটকাতে পারলো না। ছোটো মেয়ে সঞ্চারী আশাপূর্ণাকে নিজের কাছে নিয়ে গেল। বললো,“মার একটু বিশ্রাম দরকার,আমার কাছে মাসখানেক থাকবে।” কিন্তু গেলে কী হবে? সকাল বিকেল দীনেন ফোন করতে লাগল কখন আশাকে ওর প্রেসারের ওষুধ, কখন ডায়াবেটিসের ওষুধ দিতে হবে। ওরা যেন ঐ পিজা বা পাস্তা ওকে না খাওয়ায়। ওর পাতলা ঝোল-ভাত খাওয়াই ভালো।
ঠিক ষোলো দিনের মাথায়, সবাইকে অবাক্ করে দীনেন মাঝরাতে মেয়ের বাড়িতে পৌঁছে গেল। সঞ্চারী বললো, “বাবা তুমি মাকে ছেড়ে একদম থাকতে পারো না ---”
ঘরের দরজা বন্ধ করে দীনেন আশাকে টেনে মেঝেতে বসালো। বললো,“কী করে যে এসেছি! ট্রেনে রিজার্ভেসন নেই, গার্ড পুলিসে দেবে বলছিল।”
“বেশ হত, তোমার জেলে যাওয়াই উচিত। এভাবে কেউ আসে!”
“তারপর বদলের ট্রেনও চলে গেছে, তখন একটা ট্রাকের ওপর বসে তবে এলাম। না এলে চলে? আজ যে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী গো ---”
দীনেন ব্যাগ থেকে চুপি চুপি কেক বার করল। মোমবাতি জ্বালালো, গন্ধধূপ লাগালো। তারপর একটি ইমিটেশন ডায়মন্ডের হার বার করে ওকে পরিয়ে দিল। ওরা ফিস্ ফিস্ করে বললো, “হ্যাপি অ্যানিভার্সারি।”
দীনেন ওর কোলে মাথা রেখে শুয়ে বললো, “মনে আছে সেবার বাড়িতে অনেক লোক, বৌদিকে বলে ওঁর ঘরে আমরা ঢুকলাম লুকিয়ে। বৌদি বাইরে থেকে খিল লাগিয়ে দিল। হঠাৎ জেঠিমা ঘরে ঢুকে চালের টিন খুঁজতে গিয়ে আমাদের খাটের নীচ থেকে টেনে বার করলেন।”
ওরা দুজনেই হাসতে লাগল।
আশা বললো, “আমি তখন আর কোথায় লুকোবো খূঁজেই পাইনা। কী লজ্জা, কী লজ্জা!” ও দুহাতে মুখ ঢাকলো।

ফেসবুক মন্তব্য