চারটি কবিতা

তৈমুর খান



আকর্ষণীয়া

কার আশ্চর্য সংকেত পাই
নিসর্গনাভির ঘোর
সাঁতারের সম্মোহন
উন্মুখ পয়োধরার বাঁশি
কিছুরই বিকল্প বুঝিনি

ক্লান্ত হইনি কখনও
নিবিড় ভরসার উচ্ছ্বাসে
রচিত হয়েছে কাহিনি

বোধের মাস্তুলে পাখি
অনুভূতির ডানায় রঙ্ মাখে
নীরবতা ভাষা তার
ভাষায় স্বপ্নের পরাগ লাগে

দূর দূর ছুঁয়ে যায়
কালের হিল্লোলে মাজা দোলে
আমাকে শেখায় বিনয়…


ঐশ্বর্য

ছ ফুট দু ইঞ্চি ঘর
বারান্দায় সন্ধ্যা নামে তার
পড়শিরা উলুধ্বনি দিলে
সে ঘরও হেসে ওঠে বিবাহমঙ্গলে

দরজায় কানাকানি
হাত ধরে টানে পড়শিনি

ইচ্ছাকুসুম ফোটে, কুসুমে সংরাগ
ঝরা চুমু কুড়িয়ে তুলে রাখি
আহা স্নেহের পরাগ!

মধ্যবিত্ত

যে দ্যাখে দেখুক
তোমাতে আমাতে আজ নেমেছি পথে
আমরা অক্ষরবৃত্ত, আমরা লবণযুক্ত মোটাভাতে

মধ্যবিত্ত পথ, কাঁচাপাকা, বিপজ্জনক
মাঝে মাঝে গর্ত আর সংঘাত
আগে পিছে কুকুর ডাকে
কুকুরের ডাকনামে আমাদেরও ডাকে

ঝিনুক খুঁজতে আসিনি
ময়লা পোশাক কেচে নিতে
এসেছি সাগরের ঘাটে
ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছে মূল্যবোধ
কীভাবে সম্মানীয় ভাবব আজ?

সূর্যের দিকে হাত — আলো দাও
রাষ্ট্রের দিকে হাত — শান্তি দাও
চারিদিকে সমাজ সমাজ…
সম্পর্ক কী করে রাখব?

তোমাতে আমাতে মাঝামাঝি
আমৃত্যু হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছি।


ৠতুমতী

আবার হেমন্তকাল এল
গাছের পাতায় লেখা
তোমার চিঠিগুলো
উড়াল বাতাস


আমি নীরবতা ভঙ্গ করিনি
কথা এসে ফিরে গেছে
কুবাক্য চতুর বাক্য কেউকে ডাকিনি

শুধু জলের ছায়ায় নিজেকে দেখেছি
কবে আমি জল হব? কবে?
তোমাকে আমার কাছে ডাকব চুপিচুপি


ৠতুতে ৠতুতে তুমিও ৠতুমতী
ধুয়ে নিচ্ছ শরীর তোমার
চুল শুকোচ্ছ আকাশের ছাদে…

ফেসবুক মন্তব্য