একবার লিখে রেখো ও আরো দুটি

সবর্না চট্টোপাধ্যায়



১. একবার লিখে রেখো

কতবার বলো কাঠামোয় ঢেলে দেব রঙ
এইতো প্রহর। আলো হোক। কার মুখ ভাসে
এসেছ কুসুম? সূর্য ডোবার অবকাশে!

শীতের বন্ধ্যা শহর। কাজললতায় পাতি সুখ।
এত যে ঝরছে রাত। বারবার ফিরে যাও তবে?
মনে কি এখনো আছে, আমাদের শেষ দেখা কবে?

ছেড়েছি সময় যত, বোঝাপড়া ঠিক করে দেখি
আসলে আমার কিছু। আসলে তোমার বোঝাবুঝি
এইতো প্রহর বলো। তোমার ফাগুন চোখ খুঁজি!

হাত রাখো জল। কাঁদিয়েছ, বেশি রাত জাগা হলে
বসন্ত জাগুক। যতবার চুম্বন মজেছে ঠোঁটে
মনে আছে সখা, ততবার পলাশ শরীরে ফোটে!

মনে আছে ঠিক কতবার ছাড়াছাড়ি দূরে দূরে
কতবার কাছে আসাআসি। শ্রাবণ বাইরে দ্যাখো
আমাদের সুখী কথাগুলো, একবার লিখে রেখো!


২. লালদাদু

সকাল রোদে ঝকঝক করত তাঁর হাসিমুখ।
কতবার, জড়ো করা ধুলো হাওয়াই চটিতে
উড়িয়ে ফুল এনে দিচ্ছেন দিম্মার জন্য।

উপরের ঘরে চিৎ হয়ে শুয়ে কেটে চলেছেন একটার পর একটা কবিতা।
সিগারেটের ধোঁয়ায় স্পষ্ট হচ্ছে লেলিনের শক্ত চোয়াল। পার্টিঅফিস তখন আগুন।

তাঁর রক্তক্ষয়ী শব্দেরা আসে ঘুমের ভেতর।
সেজে ওঠে রেললাইন।
গাছে জল দিতে দিতে ভিজে যায় সাদা পাজামা,
অর্ধেকটা তুলে ‘খেঁকি’ কে খেতে দেন মাংসের হাড়।
তারপর এক শীতে,
রোদ্দুর খুঁজতে খুঁজতে তিনি চলে গেলেন সোকেসের ভেতর। ধোঁয়া ধোঁয়া, ঘুরে বেড়ান চারপাশে।

তবে মাংস হলেই প্রতি রোববার
ডানপা’টা ছড়িয়ে
লালদাদু খেতে বসেন গরম ভাত!


৩. বৈশাখ

যতবার ফিরে আসে জল
ঘিরে ধরে শিমুলের ছায়া
তুমি আরও চেপে ধরো আমায়...

ভালো লাগে।
সে নিঃশ্বাস ভালো লাগে বড়ো।
আরও ঘন হয় নাভির আগুন।
বুঝবে না কেউ… বলবে পরকীয়া!

যাকে ঈশ্বর ভেবে ছেড়েছি এ গ্রাম
সে তো ধোঁয়া ওঠা ভাতে মায়ের ছোঁয়া
সে তো লাল ঝুরো মাটি
ফাগুন বাতাসে বিরহীর মিলন

স্নানঘরে গরম জল রাখি...
রজনীর মালা টেবিলের কাছে
জ্বলজ্বল করে ওঠে চারখানা ধূপ
আসলে, ঠাকুরের জন্ম তো এ মাসেই!

ফেসবুক মন্তব্য