বিরহ নামাবলী

অনিমেষ গুপ্ত



বিরহ ১)

জ্বর গায়ে ভিতরে যাচ্ছে
ধুলোগন্ধ মেখে আবার
বসে পড়ছে ধুসর রাস্তায়
গভীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে গা।

পাগল তবু বুঝছেনা কিছু
মেরুদন্ড ছুঁয়েছে আর যাচ্ছে না কোথাও
ওখানেই স্থির হয়ে থেমে আছে জ্বর

দেখতে দেখতে সে নিজেই
গলে যাচ্ছে তীব্র উত্তাপে...
এবং ভাবছে বিরহ বিনা এ শরীর তো শূন্য
যে ঘর ছুঁল না সে, সে ঘর শ্মশান হয়ে এল

মনে মনে পাগল তাই চাইছে সেই ভালো
তাই হোক তবে...
এখন শুধু অপেক্ষা কখন
জ্বর তার ব্রহ্মরন্ধ্র ছোঁবে!


বিরহ ২)

দখিণা বাতাস বয়ে রমণকর্তার
ভর এসে লেগেছে শরীরে
অথচ দ্যাখো কেমন...
পড়ে আছি স্থবিরের মতো

ভাবছি এখন ঝাঁকি দিয়ে
কে জাগাবে আমায়
কেই বা যত্ন করে বুঝিয়ে সুজিয়ে
ডেকে আনবে সুবেশা রতিকে!


বিরহ ৩)

জড়িবুটি না চিনেই গুনিন কিংবা
রোজার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছ
জঙ্গলে জঙ্গলে...

চেলির কাপড় পরে ইঙ্গিতে
বোঝাতে চাইছ কী সুন্দর আর
মোলায়েম এই পোশাক
যেন রাজবেশে বসেছেন মালিক

অথচ পাগল এসে বলে...
এখনই কাপড় ছিঁড়ে মাথায় জড়াও
বেঁধে নাও পাগড়ির মতো
লজ্জাস্থান ঢেকে নাও ধুলোট কম্বলে

সেই সেই সাজে সাজো
যা তার পছন্দের হবে।

ফেসবুক মন্তব্য