মৃত্যু-পরবর্তী প্রার্থনা

উত্তম দত্ত

কথা দিয়েছিলে তুমি এই শ্রাবণের শেষরাতে মানুষের অগোচরে নলি কেটে হত্যা করবে আমাকে। তারপর লুকোনো চোখের জলে ধুয়ে নেবে রক্তমাখা হাত।

তোমার পুরোনো প্রেমিকেরা এসে আমার মৃতদেহ টেনে নিয়ে যাবে অন্ধকার সমুদ্রের দিকে। বালি চাপা দেবে। গোল হয়ে বসে মদ খাবে, উদাসীন বালির উপরে। তারপর সিগারেটের আগুনে একটু একটু করে পুড়িয়ে দেবে বর্ণমালার দিব্যি, আমাদের একমাত্র সন্ততি ----- রোগা, কালো, আদিবাসী মেয়েটির মতো, জন্ম-অভিমানী।

কাগজ-পোড়ার গন্ধে ধবল প্রাসাদ থেকে নেমে আসবে পাথরের পরি। পরির ডানার শব্দে ঝরে পড়বে স্বাতী নক্ষত্রের জল। তারপর আমাদের আধপোড়া শিশুটির মাংসপিন্ড ঠোঁটে নিয়ে সারারাত সমুদ্রের আকাশে ডানা মেলে ছড়িয়ে পড়বে হাজার হাজার এলবাট্রস পাখি।

আমাকে হত্যার জন্য শোচনা করবে কুয়াশা-ঘেরা শ্যামল পাহাড়, নিঃসঙ্গ ঐরাবত, রাতের দোলনার শব্দে ঝাউবনে ঢুকে পড়া শেয়ালের পদশব্দ।

এই নীচু মফসসলে ফেলে যাওয়া আমার প্রতিটি অক্ষরের জন্য বালির উপরে হাঁটু মুড়ে বসে একদিন প্রার্থনা করবে তুমি, আর তোমার নিরক্ষর নতুন প্রেমিকেরা।

ফেসবুক মন্তব্য