উৎসবের মরশুম, আনন্দের মরশুম

অর্ঘ্য দত্ত

বছরের এ সময়টা যেন উৎসবের মরশুম। মেলার মরশুম। আনন্দের মরশুম। মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেনগুলোয় ভীড় অপেক্ষাকৃত কম। রাস্তার ধারে ঠেলাগাড়িতে রাশিরাশি কমলালেবুতে ঠিকরে পড়ছে সোনালী রোদ। জীবিকার জন‍্য বাইরে থেকে এই মায়াশহরে এসে বাসা বাঁধা মানুষজন এসময়ে লম্বা ছুটি নিয়ে ফিরে যাচ্ছে যার যার ফেলে আসা শিকড়ের কাছে। তাদের মুখে আনন্দের হাসি। শহরতলির এখানে ওখানে রঙিন তাঁবু খাটিয়ে বসে পড়েছে হরেক রকম মেলা। হ্যান্ডিক্র্যাফ্ট, কাপড়-চোপড় থেকে মালবানী আহারের বাহার লেগে গেছে। এসে গেছে পরিযায়ী সার্কাসের আধপেটা খাওয়া অলৌকিক কুশীলবরা। তারা সকালের রোদে তাঁবুর বাইরে বসে কাটিং চা খেতে খেতে পরষ্পরের উকুন বেছে দিচ্ছে। হাসি মুখে। শুধু ব‌ইমেলা বলে এ শহরে কোথাও কিছু হয় না। প্রকাশিত হয় না কোনো পত্রিকার উৎসব সংখ্যা! হলেও টের পাই না।

অথচ বঙ্গ থেকে এতো দূরে বসেও ওখানকার ব‌ইমেলাগুলোর টের পেয়ে যাই। আজ বর্ধমান তো কাল পুরুলিয়া। পরশু কল্যানী তো পরেরদিন কুচবিহার। নতুন নতুন ব‍ই-পত্রিকার গন্ধ ভেসে আসে। আর সেই সব মিলনমেলা থেকে যখন আমাদের মোবাইলে বা কম্পিউটার পর্দায় ভেসে ওঠে প্রিয় কবি বন্ধুদের, পাঠকদের, কবিতার, গল্পের, খোস গল্পের, ভালোবাসার, বুকে জড়িয়ে ধরার রঙচঙে টুকরো-টাকরাগুলো, আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়! আমরা নিজেদের আরো ডুবিয়ে দিই আন্তর্জালের সম্মোহনে। প্রকাশিত অগুনতি কাগুজে ছাপা পত্রিকাগুলো হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করার সুযোগ না পেলেও নেটের দৌলতে আমরাও মেলার আনন্দ, নতুন লেখার সান্নিধ্য খুঁজতে থাকি নিত্য নতুন প্রকাশিত ও পরিচিত ওয়েব ম্যাগের মাধ্যমে। ভৌগোলিক সীমানা অগ্রাহ্য করে যারা মুহূর্তে ছড়িয়ে যায় দিগবিদিকে। এখন তারাই বয়ে আনে উৎসবের আবেশ। আর সেই উৎসবে শামিল হতে আমরাও করে ফেলি আমাদের‌ উৎসব সংখ্যা। আমাদের আনন্দ সংখ্যা!

এই সংখ্যায় এমন অনেক প্রবীণ ও নবীন কবির কবিতা আছে, যাদের লেখা বম্বেDuck-এ এর আগে ছাপা হয়নি। তার মধ্যে তিন জন কবির যার যার নিজের হস্তাক্ষরে লেখা কবিতা স্ক্যান করে রেখেছি 'নিজস্ব কলমে' বিভাগে। এছাড়াও 'ফিরে পড়া' বিভাগে অন্যত্র প্রকাশিত আমাদের ভালোলাগা একটি গল্প ও কবিতা এখানে আবার প্রকাশ করলাম আমাদের প্রিয় পাঠকদের জন্য।
উৎসবের সময় এতে যদি পাঠক পাঠ-স্বাদে কিছু বৈচিত্র পান!

আর একটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে, কদিন আগেই দেখছিলাম একটি ওয়েবম্যাগ প্রকাশিত হওয়ার সাথেসাথে কেউ বা কারা যেন বারবার সেই পত্রিকার নামে মিথ্যা রিপোর্ট করে তার প্রকাশে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল। এমন ঘটনা অন্য পত্রিকার ক্ষেত্রেও এর আগে চোখে পড়েছে। এসব বন্ধ হোক। বাংলা সাহিত্য চর্চার এই নাতিবিশাল পরিসরটিতে পারষ্পরিক সহনশীলতা, শান্তি ও সৌহার্দ্য বিরাজ করুক।

কলকাতা আন্তর্জাতিক ব‌ইমেলা আবার এসে গেল। গতবছরের মতোই এবারও বেরোচ্ছে কাগজে ছাপা ব‌ইমেলা সংখ্যা। সৃষ্টিসুখ প্রকাশনা থেকেই ছাপা হচ্ছে এবছরও, অনেক বেশি লেখা নিয়ে। বন্ধুদের, পাঠকদের সহযোগিতা চাই গতবারের মতোই।

বম্বেDuck-এর পক্ষ থেকে সমস্ত কবি-লেখক বন্ধু ও প্রিয় পাঠকদের জানাই উৎসবের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। সবাই ভালো থাকুন, ভালোবাসায় থাকুন। বম্বেDuck-কে সঙ্গে রাখুন।

ফেসবুক মন্তব্য