স্বাধীনতা-পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য আন্দোলন

তুষ্টি ভট্টাচার্য

আনুমানিক খ্রিষ্টীযঠ¼ নবম শতাব্দীতে বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনার সূত্রপাত হয়। খ্রিষ্টীযঠ¼ দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত বৌদ্ধ দোঁহা-à¦¸à¦‚à¦•à¦²à ¦¨ চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। প্রাচীন ও মধ্যযুগীযঠ¼ বাংলা সাহিত্য ছিল কাব্যপ্রধà¦Â ¾à¦¨à¥¤ হিন্দুধর্ম , ইসলাম ও বাংলার লৌকিক ধর্মবিশ্বা সগুলিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এই সময়কার বাংলা সাহিত্য। মঙ্গলকাব্à ¦¯, বৈষ্ণব পদাবলী, শাক্ত পদাবলী, বৈষ্ণব সন্তজীবনী, রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবতের বঙ্গানুবাঠ¦, পীরসাহিত্à¦Â ¯, নাথসাহিত্য , বাউল পদাবলী এবং ইসলামি ধর্মসাহিত্ য ছিল এই সাহিত্যের মূল বিষয়। বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূত্রপাত হয় খ্রিষ্টীযঠ¼ অষ্টাদশ শতাব্দীতেॠ¤ ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের যুগে কলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। এই সময় থেকে ধর্মীয় বিষয়বস্তু র বদলে মানুষ, মানবতাবাদ ও মানব-মনস্তà¦Â ¤à§à¦¤à§à¦¬ বাংলা সাহিত্যের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর বাংলা সাহিত্যও দুটি ধারায় বিভক্ত হয়: কলকাতা-কেনà  §à¦¦à§à¦°à¦¿à¦• পশ্চিমবঙ্à¦â €”ের সাহিত্য ও ঢাকা-à¦•à§‡à¦¨à§à¦¦à §à¦°à¦¿à¦• পূর্ব পাকিস্তান-ঠ¬à¦¾à¦‚লাদেশের সাহিত্য। বর্তমানে বাংলা সাহিত্য বিশ্বের একটি অন্যতম সমৃদ্ধ সাহিত্যধার া হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে।
রবীন্দ্র-পৠà¦°à¦­à¦¾à¦¬à§‡à¦° সময়েই কল্লোল নামের একটি সাময়িক পত্রের মাধ্যমে একদল তরুণ কবি-সাহিত্ঠ¯à¦¿à¦•ের হাতে পাশ্চাত্য আধুনিকতার পত্তন হয়। অন্যান্য সাময়িক ও সাহিত্য পত্রেও এই আধুনিকতার অগ্নিস্পরৠà¦¶ লাগে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ োত্তর কালে ১৯৩০-এর দশক কল্লোর যুগের সমার্থক। কবি বুদ্ধদেব বসু এই নবযুগের অন্যতম কাণ্ডারী। যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব তখন বাঙলা সাহিত্যের দিগন্ত সর্বকোণে কবি রবীন্দ্রনà¦Â ¾à¦¥à§‡à¦° প্রভাবে প্রোজ্জ্বà¦Â ²à¥¤ কল্লোল যুগের নাবিকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে সাহিত্যের একটি মৃত্তিকাসà¦â €šà¦²à¦—্ন জগৎ সৃষ্টি করা। ১৯২৩ খ্রিস্টাবà§Â �দে প্রবর্তিতà¦â€ ¢à¦²à§à¦²à§‹à¦² পত্রিকার কর্ণধার ছিলেন দীনেশরঞ্জঠ¨ দাশ ও গোকুলচন্দà §à¦° নাগ। কল্লোল পত্রিকার আবহে দ্রুত অনুপ্রাণিà¦Â ¤ হয় প্রগতি, উত্তরা, কালিকলম, পূর্বাশা ইত্যাদি পত্রপত্রিà¦â€ ¢à¦¾à¥¤ অন্যদিকে আধুনিকতার নামে যথেচ্ছাচাঠ°à¦¿à¦¤à¦¾ ও অশ্লীলতার প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে এই রকম অভিযোগ এনে শনিবারের চিঠি পত্রিকাটি ভিন্ন বলয় গড়ে তোলে মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, নীরদ চৌধুরী প্রমুখের সক্রিয় ভূমিকায়।
কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত তাঁরা হলেন কবি সুধীন্দ্রà¦Â ¨à¦¾à¦¥ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু, অমিয় চক্রবর্তী, জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে। তবে কাজী নজরুল ইসলাম, প্রেমেন্দৠà¦° মিত্র, অচিন্ত্যকৠà¦®à¦¾à¦° সেনগুপ্ত,সà ¦žà§à¦œà¦¯à¦¼ ভট্টাচর্য প্রমুখ অনেকেরই ভূমিকা কোন অংশে খাটো করে দেখবার উপায় নেই।
অচ্যিন্তকৠà¦®à¦¾à¦° সেন রচিত কল্লোর যুগ এ বিষয়ে একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ।
একদল প্রতিভাবান তরুণ, যাদের কেন্দ্রে ছিলেন কবি সুনীল à¦—à¦™à§à¦—à§‹à¦ªà¦¾à¦§à§à ¦¯à¦¾à§Ÿ, বাংলা সাহিত্যের জগতে একটা ঝড় নিয়ে এলেন ‘কৃত্তিবাঠ¸â€™à¦à¦° হাত ধরে। কৃত্তিবাস প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে। বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা’ পত্রিকা তখনও চলছে। তবু এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যের একটি আন্দোলন তৈরি হয়েছিল এবং কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর কবি বলে একদল নতুন প্রতিভা সামনের সারিতে চলে এসেছিল। সেই সময়ে জীবনানন্দ দাস, সুধীন্দ্রà¦Â ¨à¦¾à¦¥ দত্ত, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তীঠ° মত আধুনিক ও প্রথম সারির কবিরা বর্তমান। এক দুঃসহ স্পর্ধায় এঁদের থেকে কবিতা না নিয়ে নিতান্ত তরুণদের কবিতা নিয়ে প্রকাশ হতে থাকল কৃত্তিবাসà¥Â ¤ কবি শঙ্খ ঘোষের খাতা কৃত্তিবাসà§â €¡à¦° জন্য জোর করে নিয়ে এসেছিলেন সুনীল। কৃত্তিবাসà§â €¡à¦° প্রথম সংখ্যায় সিগনেট প্রেস থেকে প্রকাশিত জীবনানন্দà¦Â ° ‘বনলতা সেন’এর একটিই বিজ্ঞাপন ছিল, এবং তার জন্য টাকার বদলে পেয়েছিল দু রিম কাগজ!
দেড় দশক ধরে চলা এই পত্রিকাটি নিজেই একটি বিস্ফোরক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। পনেরো বছর পরে কৃত্তিবাসà§â €¡à¦° পঁচিশতম সংখ্যা প্রকাশ পায়। à§§-২৫ সংখ্যাই কৃত্তিবাসà§â €¡à¦° প্রথম পর্ব বলে ধরা হয়। ষাটের দশকের শুরুতে অ্যালেন গিনসবার্গ এলেন কলকাতায়। কৃত্তিবাসà§â €¡à¦° কবিরা বীটনিক কাব্যের অনুরক্ত হয়ে পড়লেন এবং তাঁদের কবিতা হয়ে উঠল তীব্র, উদাসীন, উন্মত্ত, ক্রুদ্ধ, ভয়ংকর চতুর এবং অতৃপ্ত। সুনীল à¦—à¦™à§à¦—à§‹à¦ªà¦¾à¦§à§à ¦¯à¦¾à§Ÿ, শক্তি চট্টপাধ্যা à§Ÿ, শরৎকুমার মুখোপাধ্যঠ¾à§Ÿ, উৎপল কুমার বসু, তারাপদ রায় প্রমুখরা এই নতুন à¦•à¦¬à¦¿à¦—à§‹à¦·à§à¦ à§€à ¦° অন্তর্ভুকৠà¦¤ হলেন। ১৯৬৯ সালের পর কৃত্তিবাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। এরপর আবার চালু হয় মাসিক পত্রিকা হিসেবে। তখন থেকে কৃত্তিবাস আর শুধু কবিতার পত্রিকা থাকে না, গদ্যও সমান তালে ছাপা হতে থাকে। বর্তমানেও সুনীলের প্রয়াণের পরে কয়েক বছর কৃত্তিবাস পত্রিকা চলার পর একদম পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়েছে। কিন্তু এতদিনে কৃত্তিবাস তার সেই দুরন্ত ছেলের তকমা হারিয়েছে। প্রথম পর্বের কৃত্তিবাস নিয়েও অশ্লীলতার অভিযোগ ওঠে। অতি চিৎকারের অভিযোগ ওঠে। সেই বোহেমিয়ানঠ¾à¦° ঘোর কেটে গিয়ে কৃত্তিবাস তার গৌরব হারায়।
বাংলা সাহিত্যে স্হিতাবস্হ া ভাঙার আওআজ তুলে, ইশতাহার প্রকাশের মাধ্যমে, শিল্প ও সাহিত্যের যে একমাত্র আন্দোলন হয়েছে, তার নাম হাংরি আন্দোলন, যাকে অনেকে বলেন হাংরিয়ালà¦Â ¿à¦¸à§à¦Ÿ, ক্ষুধিত, ক্ষুৎকাতর, ক্ষুধার্ত আন্দোলন। আর্তি বা কাতরতা শব্দগুলো মতাদশর্টিà¦â€ ¢à§‡ সঠিক তুলে ধরতে পারবে না বলে, আন্দোলনকাà ¦°à§€à¦°à¦¾ শেষাবধি হাংরি শব্দটি গ্রহণ করেন। হাংরি আন্দোলন, এই শব্দবন্ধটি বাংলাভাষাà¦Â ¯à¦¼ ঠিক সেভাবে প্রবেশ করেছে যে ভাবে মুসলিম লিগ, কম্ম্যুনিà¦Â ¸à§à¦Ÿ পার্টি বা কংগ্রেস দল ইত্যাদি সংকরায়িত শব্দবন্ধগà§Â �লো। উত্তর-ঔপনিà ¦¬à§‡à¦¶à¦¿à¦• ভারতবর্ষে ডিসকোর্সেà ¦° সংকরায়ণকà §‡ স্বীকৃতি দেয়া তাঁদের কর্মকাণ্ডৠ‡à¦° অংশ ছিল। ১৯৬১ সালের নভেম্বরে পাটনা শহর থেকে একটি ইশতাহার প্রকাশের মাধ্যমে হাংরি আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন সমীর রায়চৌধুরà§â‚ ¬, মলয় রায়চৌধুরà§â‚ ¬, শক্তি চট্টোপাধ্à¦Â ¯à¦¾à¦¯à¦¼ এবং হারাধন ধাড়া ওরফে দেবী রায়। কবিতা সম্পর্কিত ইশতাহারটি ছিল ইংরেজিতে, কেন না পাটনায় মলয় রায়চৌধুরà§â‚ ¬ বাংলা প্রেস পাননি। আন্দোলনের প্রভাবটি ব্যাপক ও গভীর হলেও, ১৯৬৫ সালে প্রকৃত অর্থে হাংরি আন্দোলন ফুরিয়ে যায়। নকশাল আন্দোলনের পর উত্তরবঙ্গ এবং ত্রিপুরাব তরুণ কবিরা আন্দোলনটিঠ•ে আবার জীবনদান করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তাত্ত্বিক ভিত্তিটি জানা না থাকায় তাঁরা আন্দোলনটিঠ•ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি ।
হাংরি আন্দোলনকাà ¦°à§€à¦°à¦¾ হাংরি শব্দটি আহরণ করেছিলেন ইংরেজি ভাষার কবি জিওফ্রে চসারের ইন দি সাওয়ার হাংরি টাইম বাক্যটি থেকে, অর্থাৎ দেশভাগোত্à ¦¤à¦° বাঙালির কালখণ্ডটিঠ•ে তাঁরা হাংরিরূপে চিহ্ণিত করতে চাইলেন। তাত্তিক ভিত্তি সংগ্রহ করা হয়েছিল সমাজতাত্ত্ বিক অসওয়াল্ড স্পেংলারেà ¦° দি ডিক্লাইন অব দি ওয়েস্ট গ্রন্হটির দর্শন থেকে । স্পেংলার বলেছিলেন, একটি সংস্কৃতি কেবল সরলরেখা বরাবর যায় না; তা একযোগে বিভিন্ন দিকে প্রসারিত হয়। তা হল জৈবপ্রক্রà¦Â ¿à¦¯à¦¼à¦¾, এবং সেকারণে সমাজটির নানা অংশের কার কোনদিকে বাঁকবদল ঘটবে তা আগাম বলা যায় না। যখন কেবল নিজের সৃজনক্ষমতà¦Â ¾à¦° ওপর নির্ভর করে, তখন সংস্কৃতিটঠ¿ বিকশিত ও সমৃদ্ধ হয়। তার সৃজনক্ষমতà¦Â ¾ ফুরিয়ে গেলে, তা বাইরে থেকে যা পায় তাই আত্মসাৎ করতে থাকে, খেতে থাকে, তার ক্ষুধা তখন তৃপ্তিহীনà¥Â ¤ হাংরি আন্দোলনকাà ¦°à§€à¦¦à§‡à¦° মনে হয়েছিল দেশভাগের ফলে ও পরে পশ্চিমবঙ্à¦â €” এই ভয়ংকর অবসানের মুখে পড়েছে, এবং উনিশ শতকের মণীষীদের পর্যায়ের বাঙালির আবির্ভাব আর সম্ভব নয়। সেকারণে হাংরি আন্দোলনকে তঁরা বললেন কাউন্টার কালচারাল আন্দোলন, এবং নিজেদের সাহিত্যকৃà¦Â ¤à¦¿à¦•ে কাউন্টার ডিসকোর্স। তাঁরা বললেন, "ইউরোপের শিল্প-সাহিà¦Â ¤à§à¦¯ আন্দোলনগুà ¦²à§‹ সংঘটিত হয়েছিল একরৈখিক ইতিহাসের ধারণার বনেদের ওপর; কল্লোল বা কৃত্তিবাস গোষ্ঠী যে নবায়ন এনেছিলেন সে কাজগুলো ছিল কলোনিয়াল ইসথেটিক রিয়্যালিট ি বা ঔপনিবেশিক বাস্তবতার চৌহদ্দির মধ্যে, কেন না সেগুলো ছিল যুক্তিগ্রঠ¨à§à¦¥à¦¨à¦¾-নির্ভà ¦°*, এবং তাঁদের মনোবীজে অনুমিত ছিল যে ব্যক্তিপ্à¦Â °à¦¤à¦¿à¦¸à§à¦¬à§‡à¦° চেতনা ব্যাপারটি একক, নিটোল ও সমন্বিত।" তাঁরা বললেন, "এই ভাবকল্পের প্রধান গলদ হল যে তার সন্দর্ভগুà¦Â ²à§‹ নিজেদেরকে পূর্বপুরুà¦Â ·à¦¦à§‡à¦° তুলনায় উন্নত মনে করে, এবং স্হানিকতাà¦â €¢à§‡ ও অনুস্তরীযঠ¼ আস্ফালনকে অবহেলা করে। ওই ভাবকল্পে যে বীজ লুকিয়ে থাকে, তা যৌথতাকে বিপন্ন আর বিমূর্ত করার মাধ্যমে যে-মননর্স্ঠ¤à¦¾à¦¸ তৈরি করে, তার দরুন প্রজ্ঞাকে যেহেতু কৌমনিরপেকà §à¦· ব্যক্তিলকৠà¦·à¦£ হিসাবে প্রতিষ্ঠা দেয়া হয়, সমাজের সুফল আত্মসাৎ করার প্রবণতায় ব্যক্তিদেঠ° মাঝে ইতিহাসগত স্হানাঙ্ক নির্ণয়ের হুড়োহুড়à¦Â ¿ পড়ে যায়। গুরুত্বপূঠ°à§à¦£ হয়ে ওঠে ব্যক্তিক তত্ত্বসৌধ নির্মাণ। ঠিক এই কারণেই, ইউরেপীয় শিল্প-সাহিà¦Â ¤à§à¦¯ আন্দোলনগুà ¦²à§‹ খতিয়ে দেখলে দেখা যায় যে ব্যক্তিপ্à¦Â °à¦œà§à¦žà¦¾à¦° আধিপত্যের দামামায় সমাজের কান ফেটে এমন রক্তাক্ত যে সমাজের পাত্তাই নেই কোনো । কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর দিকে তাকালে দেখা যাবে যে পুঁজিবলবান প্রাতিষ্ঠা নিকতার দাপটে এবং প্রতিযোগী ব্যক্তিবাà¦Â ¦à§‡à¦° লালনে শতভিষা গোষ্ঠী যেন অস্তিত্বহà§â ‚¬à¦¨à¥¤ এমনকি কৃত্তিবাস গোষ্ঠিও সীমিত হয়ে গেছে মাত্র কয়েকজন মেধাসত্তবà¦Â ¾à¦§à¦¿à¦•ারীর নামে। পক্ষান্তরà§â €¡, ঔপনিবেশিক গণতন্ত্রেঠ° আগেকার প্রাকঔপনিঠ¬à§‡à¦¶à¦¿à¦• ডিসকোর্সেà ¦° কথা ভাবা হয়, তাহলে দেখা যায় যে পদাবলী সাহিত্য নামক ম্যাক্রো পরিসরে সংকুলান ঘটেছে বৈষ্ণব ও শাক্ত কাজ, মঙ্গলকাব্à ¦¯ নামক পরিসরে সংকুলান ঘটেছে মনসা, চণ্ডী, শিব, কালিকা বা ধর্মঠাকুরà§â €¡à¦° মাইক্রো-à¦ªà¦°à ¦¿à¦¸à¦°à¥¤ লক্ষ্মণীযঠ¼ যে প্রাকৌপনিà¦Â ¬à§‡à¦¶à¦¿à¦• কালখণ্ডে সন্দর্ভ গুরুত্ত্বà¦Â ªà§‚র্ণ ছিল, তার রচয়িতা নয় ।
১৯৬২-৬৩ সালে হাংরি আন্দোলনে যোগদান করেন বিনয় মজুমদার, সন্দীপন চট্টোপাধ্à¦Â ¯à¦¾à¦¯à¦¼, উৎপলকুমার বসু, সুবিমল বসাক, ত্রিদিব মিত্র, ফালগুনী রায়, আলো মিত্র, অনিল করঞ্জাই, রবীন্দ্র গুহ, সুভাষ ঘোষ, করুণানিধাà¦Â ¨ মুখোপাধ্যঠ¾à¦¯à¦¼, প্রদীপ চৌধুরী, সুবো আচার্য, অরুপরতন বসু, বাসুদেব দাশগুপ্ত, সতীন্দ্র ভৌমিক, শৈলেশ্বর ঘোষ, হরনাথ ঘোষ, নীহার গুহ, আজিতকুমার ভৌমিক, অশোক চট্টোপাধ্à¦Â ¯à¦¾à¦¯à¦¼, অমৃততনয় গুপ্ত, ভানু চট্টোপাধ্à¦Â ¯à¦¾à¦¯à¦¼, শংকর সেন, যোগেশ পাণ্ডা,মনোঠ¹à¦° দাশ, তপন দাশ, শম্ভু রক্ষিত, মিহির পাল, রবীন্দ্র গুহ, সুকুমার মিত্র, দেবাশিষ মুখোপাধ্যঠ¾à¦¯à¦¼ প্রমুখ। অনিল করঞ্জাই এবং করুণনিধান মুখোপাধ্যঠ¾à¦¯à¦¼ ছিলেন চিত্রকর।
হাংরি আন্দোলনকাà ¦°à¦¿à¦°à¦¾ প্রধানত একপৃষ্ঠার বুলেটিন প্রকাশ করতেন। যেগুলো পাটনা থেকে প্রকাশিত, সেগুলো ইংরেজিতে লেখা হয়েছিল। কখনও বা পোস্টকার্ঠ¡, পোস্টার এবং এক ফর্মার পুস্তিকা প্রকাশ করতেন। এক পাতার বুলেটিনে তঁরা কবিতা, রাজনীতি, ধর্ম, অশ্লীলতা, জীবন, ছোটগল্প, নাটক, উদ্দেশ্য, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে ইশতাহার লেখা ছাড়াও, কবিতা, গদ্য, অনুগল্প, স্কেচ ইত্যাদি প্রকাশ করেছিলেন। বুলেটিনগুঠ²à§‹ হ্যান্ডবিল ের মতন কলকাতার কলেজ স্টিট কফি হাউস, পত্রিকা দপ্তর, কলেজগুলোর বাংলা বিভাগ ও লাইব্রেরি ইত্যাদিতে তাঁরা বিতরন করতেন। হাংরি আন্দোলনের কথা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার এইটি-ই প্রধান কারণ বলে মনে করেন গবেষকরা। কিন্তু হ্যান্ডবিল ের মতন প্রকাশ করায় তাঁরা ঐতিহাসিক ক্ষতি করেছেন নিজেদের, কেন না অধিকাংশ বুলেটিন সংরক্ষণ করা সংগ্রাহকদà §‡à¦° পক্ষেও সম্ভব হয়নি।
সুবিমল বসাক, দেবী রায় ও মলয় রায়চৌধুরীà¦Â ° কিছু-কিছু কার্যকলাপৠ‡à¦° কারণে ১৯৬৩ সালের শেষার্ধে হাংরি আন্দোলন বাঙালির সংস্কৃতিতৠ‡ প্রথম প্রতিষ্ঠান বিরোধী গোষ্ঠী হিসাবে পরিচিত হয় । বহু আলোচক হাংরি আন্দোলনকাà ¦°à§€à¦¦à§‡à¦° সে সময়ের কার্যকলাপৠ‡ ডাডাবাদের প্রভাব লক্ষ করেছেন । এই কারণে শক্তি চট্টোপাধ্à¦Â ¯à¦¾à§Ÿ, সন্দীপন চট্টোপাধাà§Å ¸, সতীন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ হাংরি আন্দোলন ত্যাগ করেন । শ্মশান, গোরস্তান,ভà ¦¾à¦Ÿà¦¿à¦–ানা,আওà¦Â ¡à¦¼à¦¾** ও শেয়ালদা স্টেশনে তাঁরা কবিতা পাঠের আয়োজন করতেন;’মুখ োশ খুলে ফেলুন’ লেখা জীব-জন্তু, দেবতা, দানবের মুখোশ পাঠাতেন মন্ত্রী, সমালোচক, প্রশাসকদেঠ°; কবিদের সমালোচনা করতেন বিবাহের কার্ডে; তৎকালীন মানদণ্ডে অশ্লীল স্কেচ ও পোস্টার আঁকতেন ও বিলি করতেন; একটি গ্রন্হের দাম রাখতেন লক্ষ টাকা বা কয়েকটি টি.বি. সিল ।বাণিজ্যিà¦â€ ¢ পত্রিকায় গ্রন্হ রিভিউ করার জন্য জুতোর বাক্স পাঠাতেন কিংবা শাদা কাগজ পাঠাতেন ছোটগল্প নামে। তাঁদের রচনায় প্রশাসন ও মিডিয়াকে আক্রমণ করতেন। বেনারস এবং কাঠমান্ডু গিয়ে সাহিত্য সম্পর্কহীঠ¨ হিপিনীদের সঙ্গে মাদকসেবন এবং যৌন যথেচ্ছাচাঠ°à§‡ লিপ্ত হয়ে সেখানকার সংবাদপত্রà§â €¡ শিরোনাম হতেন । পেইনটিং প্রদর্শনী করে শেষ দিন প্রতিটি ছবিতে আগুন ধরিয়ে দিতেন। এই সমস্ত অসাহিত্যিà¦â €¢ কার্যকলাপৠ‡à¦° মাধ্যমে তাঁরা দাবী করতেন যে অচলায়তনকৠ‡ ভাঙা যাবে। অবশ্য তাঁদের অনুকরণে পরবর্তীকাঠ²à§‡ বহু প্রতিষ্ঠান বিরোধী লেখক এসেছেন বাংলা সাহিত্যে, যদিও সাহিত্যের বাইরে তাঁরা অন্য কাজ করেননি। কিন্তু হাংরি আন্দোলনকাà ¦°à§€à¦¦à§‡à¦° কার্যকলাপৠ‡ প্রশাসন অচিরে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হল ।
১৯৬৪ সালের সেপ্টেম্বঠ°à§‡ ইনডিয়ান পিনাল কোডের ১২০বি, ২৯২ এবং ২৯৪ ধারায় à§§à§§ জন হাংরি আন্দোলনকাà ¦°à§€à¦° বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারঠ¿ পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তাঁরা হলেন: সমীর রায়চৌধুরà§â‚ ¬, মলয় রায়চৌধুরà§â‚ ¬, দেবী রায়, সুভাষ ঘোষ, শৈলেশ্বর ঘোষ, প্রদীপ চৌধুরী, উৎপলকুমার বসু, রামানন্দ চট্টোপাধ্à¦Â ¯à¦¾à¦¯à¦¼, বাসুদেব দাশগুপ্ত, সুবো আচার্য এবং সুবিমল বসাক। এঁদের মধ্যে প্রথম ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং কলকাতার ব্যাংকশাল কোর্টে তোলা হয়। মলয় রায়চৌধুরà§â‚ ¬à¦•ে হাতে হাতকড়া এবং কোমরে দড়ি বঁধে রাস্তায় হঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় চোর-ডাকাতদà §‡à¦° সঙ্গে। মকদ্দমার ফলে উৎপলকুমার বসু অধ্যাপনার চাকরি থেকে বরখাস্ত হন, প্রদীপ চৌধুরী রাসটিকেট হন বিশ্বভারতà§â‚ ¬ থেকে, সমীর রায়চৌধুরà§â‚ ¬ সরকারি চাকরি থেকে সাসপেন্ড হন, সুবিমল বসাক ও দেবী রায়কে কলকাতার বাইরে বদলি করে দেয়া হয়, সুবো আচার্য ও রামানন্দ চট্টোপাধ্à¦Â ¯à¦¾à¦¯à¦¼ ফেরার হয়ে যান। অনেকে হাংরি আন্দোলন ভয়ে ত্যাগ করেন। লালবাজারেà¦Â ° কনফারেন্স রুমে মলয় রায়চৌধুরà§â‚ ¬ এবং সমীর রায়চৌধুরà§â‚ ¬à¦•ে জেরা করেন একটি à¦‡à¦¨à¦­à§‡à¦¸à¦Ÿà¦¿à¦—à§‡à ¦Ÿà¦¿à¦‚ বোর্ড যার সদস্যরা ছিলেন স্বরাষ্ট্র দপ্তর, পুলিশ প্রশাসন, কেন্দ্রীযà ¦¼ গোয়েন্দা বিভাগ, ভারতীয় সেনার প্রতিনিধির া এবং পশ্চিমবঙ্à¦â €”ের à¦†à§à¦¯à¦¾à¦¡à¦­à§‹à¦•à§‡à ¦Ÿ জেনারাল। ১২০বি ধারাটি ছিল ষড়যন্ত্রà§â€ ¡à¦°, এবং সে কারনে প্রত্যেক হাংরি আন্দোলনকাà ¦°à§€ সম্পর্কে ডোসিয়ার খুলে ফেলেছিলেন কলকাতা গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেফতারেà ¦° সময়ে প্রত্যেকেà ¦° বাড়ি লণ্ড-ভণ্ড করা হয়েছিল। বইপত্র, ডায়েরি, টাইপরাইটাঠ°, ফাইল, পান্ডুলিপি , কবিদের চিঠির সংগ্রহ ইত্যাদি যেগুলো পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল তা আর তাঁরা ফেরত পাননি ।
কৃত্তিবাস আর হাংরির উগ্রতা ও যৌন ধর্মী অ্যাজেন্ডঠ¾à§Ÿ কিছু মানুষ ততদিনে প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে উঠেছে। মৃণাল বসু চৌধুরীর ‘কবিপত্র’ তখনকার ঐতিহ্যশালà§â‚ ¬ পত্রিকা। পুস্কর দাসগুপ্তেঠ° নেতৃত্বে গড়ে উঠল শ্রুতি আন্দোলন। মৃণাল বসু চৌধুরী ও পরেশ মন্ডল শ্রুতি আন্দোলনে যোগ দেন। কিন্তু ঐতিহ্যশালà§â‚ ¬ ও হাংরির বাইরে অন্য কিছু একটা করে দেখাবার, যা বামপন্থী স্লোগান সর্বস্বতার বাইরে, যা কিনা সমাজ, সংস্কার, উগ্র আধুনিকতার বাইরের বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দেবে। ১৯৬৮ সালে পবিত্র মুখোপাধ্যঠ¾à§Ÿà§‡à¦° নেতৃত্বে আর এক দল যুবক শুরু করলেন ধ্বংসকালীà ¦¨ আন্দোলন। ‘সাম্প্রতà¦Â ¿à¦•’ পত্রটি হল এর মুখপত্র। আর ‘কবিপত্র’ তার সহযোগী। মণীন্দ্র গুপ্তর তাগাদায় পবিত্র মুখোপাধ্যঠ¾à§Ÿ লিখলেন ‘ইবলিশের আত্মদর্শন†™à¥¤ ইসলামের বিরোধী চরিত্র ইবলিশ ছিল এর নায়ক। বিপুল সাড়া পড়ে যায় এটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে। এক বছর চলেছিল ধ্বংসকালীà ¦¨ আন্দোলন।
এর পরবর্তী সময়ে সেভাবে আর কোন কবিতা আন্দোলন দানা বাঁধে নি। নকশাল পিরিয়ডে কিছু রাজনৈতিক স্লোগান ধর্মী পুস্তিকা ও হ্যান্ডবিল ের আদান প্রদান হয়েছে। অবশ্য সেই অস্থির সময়ে স্বাভাবিক ভাবেই কবিতা আন্দোলন করার মত মানসিকতা ছিল না তখনকার যুবকদের। এর পরে একক ভাবে অনেক কবি উঠে এসেছেন। কিন্তু কবিতা হয়ে গেছে কলকাতা অভিমুখী। অর্থাৎ নাম, যশ বা কবিতা চর্চা হয়ে গেছে কলকাতা কেন্দ্রিকà ¥¤ এর ফলে সরকারী অ্যাকাডেমà ¦¿ যেমন তৈরি হয়েছে, কলকাতার বাইরের লেখক ও কবিরা রয়ে গেছেন অচ্ছুৎ। কবিতায় রাজনীতির রঙ লেগেছে। সাধারণ মানুষ যারা কবিতা ভালোবাসে, তাদের মধ্যে আবার অস্থিরতা বেড়েছে। কলকাতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে অনেকে জেলায় জেলায় নতুন পত্রিকা চালু করেছেন তাদের মুখপত্র হিসেবে। ততদিনে ইন্টারনেট এসে গেছে। যদিও নেট-এর হাত ধরে বৃহত্তর দুনিয়ায় পৌঁছনো মানুষের সংখ্যা তখন কম।
এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘কৌরব’। একদম শুরুতে ১৯৬৮-৬৯ এ কৌরব নাট্যগোষ্ঠ à§€ হিসেবে আত্মপ্রকাঠ¶ করে জামশেদপুরà§â €¡, কমল চক্রবর্তী, বারীন ঘোষাল, সুভাষ ভট্টাচার্য ্য, অরুণ আইন ও শক্তিপদ হালদারের হাত ধরে। এ’ছাড়াও নিয়মিত কবিতা গদ্যের পাঠচক্র, সাংস্কৃতিঠ• অনুষ্ঠান। এ’ভাবেই কৌরবে ভেড়ে স্বদেশ সেন-এর নৌকো। ২০০৪ এর কৌরব ১০০ সংখ্যা অব্দি টানা সম্পাদনার দায়িত্বে কমল চক্রবর্তীॠ¤ ১৯৯৮-এর শরতে আমেরিকা থেকে আর্যনীল মুখোপাধ্যঠ¾à§Ÿ আন্তর্জালà§â €¡ তোলেন কৌরবকে। কৌরব অনলাইনে প্রথম প্রথম ছাপা হয় প্রিন্ট পত্রিকার নির্বাচিত লেখা। ১৯৯৯ থেকে তাতে তোলা হতে থাকে ই-মেল-এ আসা পৃথিবীর নানাপ্রান্ তের বাংলা কবিতাও। এ’ছাড়াও অনলাইনে যোগ হতে থাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতà¦Â ¿à¦• কবিতা আন্দোলনের সাতপাঁচ এবং কবিতা। কৌরবের পাতায় লেখেন লরেন্স ফের্লিংঘেà ¦Ÿà¦¿, জন অ্যাশবেরি, পিটার গিজ্জি, ক্রিস স্ট্রফোলিà¦Â ¨à§‹, চার্লস বার্নস্টাà¦â€ ¡à¦¨, রন সিলিম্যান প্রমূখ। ২০০৪-এ আনুষ্ঠানিà¦â €¢ ভাবে কৌরব বন্ধ হয়ে গেলে নতুন করে তাকে বাঁচিয়ে তোলা ও পরিচালনা শুরু করেন আর্যনীল মুখোপাধ্যঠ¾à§Ÿ, সঙ্গে সুদেষ্ণা মজুমদার, অভিজিৎ মৈত্র ও সব্যসাচী সান্যাল।
এই সময়েই (২০০২সালে) বারীন ঘোষালের হাত ধরে চিরাচরিত কবিতার ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে মেনিফেস্টৠ‹à¦¬à¦¿à¦¹à§€à¦¨ ‘নতুন কবিতা’ আত্মপ্রকাঠ¶ করে। এই পত্রিকায় স্বপন রায় আর রঞ্জন মৈত্র ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় থেকেছেন অভিজিৎ মিত্র, ইন্দ্রনীল ঘোষ, অরূপরতন ঘোষ এবং এখন রয়েছেন তপোন দাশ এবং সব্যসাচী হাজরা! কিন্তু কবি সৌমিত্র সেনগুপ্ত আর অতনু বন্দ্যোপাà¦Â §à§à¦¯à¦¾à§Ÿà§‡à¦° মত শুভাকাঙ্খà §€ না থাকলে “নতুন কবিতা”কে চোদ্দ বছর ধরে চালানো যেত না! পত্রিকার প্রথম সংখ্যা থেকেই চেষ্টা করা হয়েছিল কবিতা’র তত্ত্ব নয়, কবিতা’র ভাবনাই হবে “নতুন কবিতা”র বিচরণক্ষেঠ¤à§à¦°! প্রথম সংখ্যাটি ছিল “সম্ভাবনাà¦Â ° কবিতা” এই ভাবনাকে কেন্দ্র করে! নতুনভাবে কবিতাকে আবিষ্কার করা প্রতিষ্ঠিত প্রবীণ কবিরা সাধারণভাবà§â€ ¡ করবেন না! অথচ একটা দশক জুড়ে “নতুন কবিতা”র চর্চা একটা অভাবনীয় কাণ্ড করে ফেলেছিল! এঁদের কোন গুরুত্ত্ব ছিল না সিনিয়র কবিদের কাছে, তাঁরা নস্যাৎ করতেন এঁদের, কটূ কথাও বলেছেন কেউ কেউ! আর এটাই স্বাভাবিক ছিল! আমরা যেহেতু কবিতা’কে বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম অতএব “স্থা”র পক্ষে থাকা জীবনানন্দà§â ‚¬à§Ÿ ধারা, বামপন্থী সামাজিক বাস্তবতার ধারা, পঞ্চাশ দশকীয় ছন্দে লিখতে থাকা পদ্যধর্মী ধারা ইত্যাদিতে জড়িয়ে থাকা বাংলা কবিতা লিখিয়েদের ৯০ শতাংশ কবি,কবিতার কাগজ, খবরের কাগজ, রাজনৈতিক দলের কাগজ ইত্যাদি সকলের কাছেই এঁরা ব্রাত্য হয়ে গেলেন, এখনো তাই আছেন! কাউকে আক্রমণ না ক’রে, কারো প্রতি বিদ্বেষ বা অসূয়া প্রকাশ না ক’রে এঁরা লেখার চেষ্টা করছিলেন বাংলা কবিতায় যা লেখা হয়নি সেরকম কবিতা, এঁদের নিজেদের ভাষায়! এই কাজটা তরুণ কবিদের একটি অংশকে আকৃষ্ট করলো! মনে হয় কবিতাকে ভেতর থেকে ভেঙে গড়ার ইচ্ছেয় কেন্দ্র থেকে বেরনো প্রসারিত চেতনার অ্যাডভেঞ্ঠšà¦¾à¦° তরুণদের আকৃষ্ট করেছিল! ”নতুন কবিতা”র একটি সংখ্যা করা হল “শুন্য দশকের” শুরুতে লেখালিখি করা তরুণতম কবিদের নিয়ে! ”পা রাখো জুতোর বাইরে” এটাই ছিল ভাবনাসূত্à¦Â ° ওই সংখ্যার! ভাবনাকে চলিষ্ণু রাখার তাগিদেই করা হল “কবির দরজা”,â€à¦•à¦¬à¦¿à ¦¤à¦¾ ও সিনেমা”,â€à¦Ÿà ¦¾à¦‡à¦® মেশিন” ইত্যাদি সংখ্যা!
২০০৯সালে আন্তর্জালà§â €¡ এলো অনুপম মুখোপাধ্যঠ¾à§Ÿ সম্পাদিত ‘বাক’। শুধুমাত্র ব্লগ নির্ভর বাংলার প্রথম পত্রিকা। এখানেও নতুনকে, নতুন ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ও হয়। অনুপম মুখোপাধ্যঠ¾à§Ÿ নিজে ‘পুনরাধুনà¦Â ¿à¦• কবিতা’ লেখেন। এই পুনরাধুনিà¦â€ ¢ সম্বন্ধে তিনি বলেছেন, পুনরাধুনিà¦â€ ¢ কোনো তত্ত্ব নয়। এটা ভাবনা। যাপন আর সমাজের মধ্যে এর ঘোরাফেরা। মূল ব্যাপারটা হল একজন কবি বা শিল্পীর হাঁফিয়ে ওঠা। সে আর নিতে পারছে না অধুনান্তিà¦â €¢ কালপর্বের অবান্তর বেঁচে থাকাকে, একজন স্রষ্টা হিসেবে নিজের অকিঞ্চিৎকà ¦°à¦¤à¦¾à¦•ে। ১৯৩০ থেকে এই ২০১৬ অবধি, খুব কৌশলে বাংলা কবিতা থেকে একজন কবির একলা চলার ব্যাপারটাà¦â€ ¢à§‡ মুছে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। প্রতাপশালà§â‚ ¬ বিবিধ প্রতিষ্ঠান ের মুখে বাংলা কবিতা প্রবেশ করেছে যেন সাপের মুখে ছুঁচো- প্রতাপ পারছে না কবিতাকে গ্রাস করতে, পারছে না তাকে মুছে ফেলতে। বাণিজ্যিক পত্রে কবিতা ছাপা হয়, এই কারণে নয় যে পত্রিকাটিà¦Â ° কবিতা প্রয়োজন আছে। এই কারণেই প্রতিষ্ঠান তার সুবিধাজনক কবিতাগুলোà ¦•ে প্রকাশ করে যাতে কবিতার দ্রোহ এবং কবির আগুন জনসাধারণেà¦Â ° চোখে এসে না পড়ে। একজন পুনরাধুনিà¦â€ ¢ কবি কোনো প্রতিষ্ঠান ের মুখাপেক্ষà §€ হবেন না। তিনি আত্মপ্রতিà¦Â ·à§à¦  হবেন। নিজের কবিতাকে জনসাধারণেà¦Â ° মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার দায় তিনি নিজেই নেবেন। সেই চর্যাপদ থেকে আজ অবধি বাংলা কবিতার যাবতীয় গুণ তিনি আত্মসাৎ করবেন। কী লিখবেন না, এ নিয়ে তাঁর ভাবনা যাবে ফুরিয়ে। তিনি শুধু সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি কী লিখবেন। এক পৃথিবী লেখার আছে তাঁর। কবিতার কোনো লক্ষণ ও কোনো উপাদানই তাঁর চোখে অপাংক্তেয় নয়, দিব্যাস্ত্ র অথবা হাতুড়ি- তাঁর প্রয়োজনমতà§â €¹ হাতে তুলে নেবেন। আবহমান কবিতার ধারায় একজন পুনরাধুনিà¦â€ ¢ নিজেকে সনাক্ত করবেন। তাঁর লেখার ঘর, তাঁর কাজের ঘর, তাঁর সাধনকক্ষ।
এরই মধ্যে নিঃশব্দে বাঁকুড়া জেলায় অঙ্ক-কবিতা লেখা হয়েছে খ্রীষ্টীয় অষ্টাদশ শতকে। লিখেছেন শুভঙ্কর রায় । 'শুভঙ্করী আর্যা ' তাঁরই রচনা। বিনয় মজুমদার, প্রভাত চৌধুরী, ভট্টাচার্য চন্দন, অসিত বসু, রতন দাস, পিনাকী রঞ্জন সামন্ত বাংলা ভাষায় অঙ্ক কবিতা লিখেছেন। যদিও এই অঙ্ক-কবিতাà  ¦•ে কোন আন্দোলন বলা যাবে না, তবু এই ধারাটি নিয়ে সম্প্রতি কার্ল কেম্পটনের সূত্র অনুযায়ী চর্চা করে চলেছেন অনিন্দ্য রায়। যে তত্ত্বের ওপর ওঁরা নির্ভর করছেন, তা এই রকম - গণিত যদি বিষয় হিসেবে, রূপক হিসেবে, অভিব্যক্তঠ¿à¦° মাধ্যম হিসেবে, যেকোনো রূপে, যে কোনো ভাবে কবিতায় ব্যবহৃত হয়, তাকেই এঁরা গাণিতিক কবিতা বলেন।
গণিত যেমন কয়েকটি শাখায় বিভক্ত, গাণিতিক কবিতাও যে শাখা রচিত সেইভাবে বিভিন্ন রকমের হতে পারে
• পাটীগাণিতঠ¿à¦• কবিতা ( arithmetical poetry)
• বীজগাণিতিঠ• কবিতা ( algebraic poetry )
• জ্যামিতিক কবিতা(geometrical poetry)
• ক্যালকুলাঠ¸ কবিতা (calculus poetry)
• পরিমিতিক কবিতা
প্রভৃতি
এবং মিশ্র গাণিতিক কবিতা(mixed mathematical poetry ), যেখানে একটি কবিতায় গণিতের একাধিক শাখার ধারণা একই সাথে ব্যবহার করা হয়।
এর মধ্যে বাংলা ভাষায় এখনো অব্দি জ্যামিতিক কবিতা ও সম্ভাবনা কবিতা (probability poetry) বেশি লেখা হয়েছে।
আশা করি, গণিতের অন্যান্য শাখাগুলি ভবিষ্যতে বাংলা কবিতার দিগন্ত আরো প্রসারিত করবে।
....
গাণিতিক কবিতা লেখা হতে পারে
• আক্ষরিক কবিতা(lexical poetry), অর্থাৎ কেবল মাত্র অক্ষর দিয়ে রচিত। এখানে গণিতের কনসেপ্ট ব্যবহৃত হয় কবিতার থিম হিসেবে, মেটাফর হিসেবে। কিন্তু কবিতাটি রচিত হবে অক্ষর দিয়েই।
• সমীকরণ কবিতা, (equational poetry) যেখানে একটি সমীকরণ দিয়ে কবিতাটি লেখা হবে।
• দৃশ্য কবিতা (visual poetry ) যা অঙ্কের বিষয় নিয়ে রচিত হবে।
• সংখ্যা কবিতা. (number poetry ) যেখানে কবিতা প্রকাশ পাবে সংখ্যা দিয়ে।
•গ্রাফিক্à ¦¯à¦¾à¦² কবিতা (graphical poetry ), এখানে কবিতার মাধ্যম হবে গ্রাফ ।
এবং •সংকর কবিতা,( hybrid mathematical poetry ) যেখানে উপরের বিভাগগুলিঠ° এক বা একাধিক কনসেপ্ট ও টেকনিক ব্যবহৃত হবে।
বর্তমানে ওয়েব এবং ব্লগ গজিয়ে উঠছে ভুঁইফোড়ের মত। যেহেতু প্রিন্ট পত্রিকা চালানো খরচ সাপেক্ষ, তাই এত বেশি ওয়েব/ ব্লগের রমরমা। আর সম্পাদনা মানে দাঁড়িয়েছে কিছু লেখা জোগাড় করে প্রকাশ করে ফেলা। এবং লেখা নেওয়া হচ্ছে ফেসবুক কেন্দ্রিক বন্ধুদের থেকে। নতুনরা বিশেষত, পুরনোরাও আছেন কেউ কেউ পত্রিকায় প্রকাশ মাত্রই ফেসবুকে কবিতা পোস্ট করতে বেশি আগ্রহী। যেহেতু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিà§Å ¸à¦¾ পাওয়া যায়। যে প্রক্রিয়া বেশির ভাগ সময়েই আত্মতুষ্টà¦Â ¿ ডেকে আনতে পারে। তবে এই ফেসবুক কেন্দ্রিক সাহিত্য চর্চারও একটা সুফল আছে। যদি কেউ সত্যিই লিখতে চায়, তার ভেতরে লেখার খিদে থাকে, তবে এখান থেকেই অনেক মালমশলা সে পেয়ে যেতে পারে। এবং সমঝদারের নজরেও পড়তে পারে। আর ওয়েব বা ব্লগ তো প্রায় পুরোটাই ফেসবুক নির্ভর। আবার গঠনমূলক কিছু হচ্ছে না, এমনও নয়। সংখ্যায় কম, এই যা। বাজারি পত্রিকার পাশাপাশি প্রচুর লিটল ম্যাগ জন্মাচ্ছেॠ¤ গতানুগতিক লেখা এবং নামী অথচ ফুরিয়ে যাওয়া কবি সাহিত্যিকà¦Â ¦à§‡à¦° স্বর্গ এই বাজারি পত্রিকাগুঠ²à¦¿à¥¤ গতানুগতিকà ¦¤à¦¾à¦° বাইরে অল্প কিছুই চিরকাল হয়েছে, এখনও তাই। কিন্তু কোন সাহিত্য আন্দোলন আর সেভাবে তৈরি হচ্ছে না। সম্ভবত আত্মকেন্দà §à¦°à¦¿à¦• সাহিত্য চর্চার ফল এটি। কবি, সাহিত্যিকà¦Â ¦à§‡à¦° গোষ্টী আগেও ছিল, কিন্তু এখনকার গোষ্ঠী যেন কলম ছেড়ে বড় বেশি পেশী নির্ভর। সাহিত্য অ্যাকাডেমà ¦¿ আগেই ছিল, সম্প্রতি কবিতা অ্যাকাডেমà ¦¿ গঠিত হয়েছে অ্যামেরিকà ¦¾à¦° আদলে। রাজনৈতিক রঙ দেখা হবে না এবং যোগ্য কবিরা মর্যাদা পাবে, এই আশা বুকে নিয়ে আছি আমরা।

ঋণ – মলয় রায়চৌধুরী, স্বপন রায়, রঞ্জন মৈত্র, সব্যসাচী সান্যাল, বিপ্লব à¦—à¦™à§à¦—à§‹à¦ªà¦¾à¦§à§à ¦¯à¦¾à§Ÿ, অনিন্দ্য রায় ও অনুপম মুখোপাধ্যঠ¾à§Ÿà¥¤
*নির্ভর, ** আওড়া ও শিয়ালদহ

ফেসবুক মন্তব্য