দুটি কবিতা

অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়



শোলার সাজ

মজ্জায় বিষাদটুকু ছাড়া
আমার কতটা কাজে লাগে?
নির্মম নরুনে চেঁছে যেটুকু নিপুণ শিল্প
সেটুকুই কদমে-কলিতে জুড়ে যায় ।

অথচ বিরুৎ-কান্ড, পুষ্ট হয় জীবনের রসে
অন্নময় প্রাণ, যাপনে জলজ ঘ্রাণ, ক্কচিৎ সাপের আঁশ ছুঁয়ে যাওয়া

অবান্তর সুখস্মৃতি ছাপিয়ে ক্রমশ:
বাংলার জলাভূমি থেকে, রাঢের মাটির থেকে, তুলে নিয়ে যায়...
বৈরী রেল, বৈরী বিশ্বায়ন।
শিল্পিত বিষাদ, একা, ক্রমশ প্রতীচীমুখী আজ।

টেসার‍্যাক্ট

মাত্রুশকা পুতুল দেখেছিলাম। মাথায় স্কার্ফ-বাঁধা, মোটাসোটা সিন্দুকের মত ভারি বুক দিদিমার পেটের মধ্য থেকে হাসিখুশি, তরুণী বধূ, ইভানভনা, তার থেকে জোড়া বিনুনি ফুল্টুসি বালিকা... এইভাবে শেষ পর্যন্ত্য একটা ট্যাঁ-ট্যাঁ করা ন্যাপিজড়ানো বাচ্চা দেখা যায়।

কিন্তু আজকাল আয়নার দিকে তাকালে মনে হয়, ব্যাপারটা ঠিক উলটো।

আসলে ন্যাপিজড়ানো ওই পিন্ডাকার থেকে এক অবোধ বালক, তার থেকে বেখাপ্পা-misfit কিশোর, তার থেকে এক নিরীহ যুবক, তার থেকে তিতকুটে প্রৌঢ়, ও শেষ পর্যন্ত্য, গলা অব্দি অম্বলের ঝাঁঝে জ্বলে যাওয়া এক কাঠবুড়ো বেরিয়ে আসে।

ফেসবুক মন্তব্য