ত্রসন

উস্রি দে

রোববার দুপুরে ভাতঘুম দিয়ে উঠে একটা বড় করে হাই তুলল দিবাকর।
সাত ভাড়াটের এজমালি উঠোনে এই সময় নানা রং, নানা মাপ হাওয়ায় দুলছে।
আজ ক'দিন ধরেই বাদলা চলছে একনাগাড়ে। কিছুক্ষণ হ'ল, বৃষ্টি নেই। তাই শুকোবার তাড়া। জেগে ওঠা ইস্তক মনটা চা চা করছে। কিন্তু সবিতার কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। মেজাজটা গরম হচ্ছে দিবাকরের। সপ্তাহে ছ'দিন কারখানায় হাড়ভাঙা খাটুনি হয়। রোববারটা তাই
চুটিয়ে আয়েশ করে দিবাকর। বিকেল গড়িয়ে গেল, অথচ চা-এর দেখা নেই।
"কি হ'ল কি? চায়ের জন্য কতখন বসে থাকব? সব শালা জুটেছে, আমার রক্ত জল করা পয়সায় নিজেদের পেট ভরাচ্চে, অতচ আমায় সেবা করার নামটি নেই!"
ভেতর থেকে কোন প্রত্যুত্তর এল না। আশাও করেনি দিবাকর। উত্তর এলেই আরও গলা চড়বে দিবাকরের আর তার সাথে চলবে হাত। সবিতার শীর্ণ শরীরে কত যে কালশিটের দাগ! বাংলা গিলে প্রতিদিন রাত্তিরে বাড়ি ফেরার পর ওই শরীরটাই যে হাতের সুখ করার জায়গা দিবাকরের!
"আরে এই সবিতা, কতা কানে যাচ্চে না?"
গর্জন করে ওঠে দিবাকর। লাফ দিয়ে নামে চৌকি থেকে। পাগলের মত ছুটে যায় দরজার বাইরে। এক চিলতে রান্নার জায়গা দাওয়ার এক ধারে। অন্য দিকে একটা খাটিয়া পাতা, দিবাকরের দুই ছেলের রাতের আস্তানা। সেই খাটিয়ার ওপরেই শুয়ে আছে সবিতা। ছেলেগুলো ধারে কাছে নেই। দেখা মাত্রই মাথায় আগুন জ্বলে গেল দিবাকরের।
"আরে এই শালী, ঘুমোন হচ্ছে অ্যাঁ, ঘুম! সারা হপ্তা ঘুমিয়ে আশ মেটেনি, না? দাঁড়া দেকাচ্চি!"
বলেই সবিতার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান মেরে ওঠাতে যায়, পারে না। সবিতার দেহটা গড়িয়ে পরে খাটিয়ায়। বরফ ঠান্ডা দেহ, ঠোঁটের কষ বেয়ে গেঁজলা উঠেছে, চোখের পাতা খোলা, দৃষ্টি স্থির দিবাকরের দিকে। শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নামে দিবাকরের। ত্রাসের সঞ্চার হয় সারা শরীরে। ভয় পাচ্ছে দিবাকর, এই প্রথমবার, সবিতাকে।

ফেসবুক মন্তব্য