গুলজারের কবিতা

ভাষান্তর: বিতান চক্রবর্তী



এই মুহূর্তের উপমহাদেশে অন্যতম গীতিকার গুলজার, একজন স্বনামধন্য কবিও বটে। হিন্দি ও উর্দুতে তিনি লিখে চলেছেন অসংখ্য কবিতা। কিন্তু তাঁর গানের সঙ্গে সাধারণ বাঙালি যতটা পরিচিত, কবিতার সঙ্গে ততটা নয়। এখানে তাঁর কিছু কবিতার বাংলায় ভাষান্তর করেছেন বিতান চক্রবর্তী।



প্রতিবেশী

বেশ কিছুদিন হল,
আমার প্রতিবেশী চুপ করে গেছেন।
সকাল-সন্ধে আর একটানা রেডিও বাজতে শুনি না।
রান্নাঘর থেকে উড়ে এসে
উঠোনে নেচে ওঠে না বাসনের শব্দ।

কেবল ওদের পোষা কুকুরটা
মাঝে মাঝে
আমার বাড়ির সামনে এসে
ঘুরঘুর করে।
খেতে দিই; রাত হলে সে ফিরে যায়।
দুয়ারে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।

হানিমুন

চল,
কাল আমরা ঘুরে আসি,
সমুদ্র বরাবর,
তোমার ঠোঁটের মতো বেঁকে যাওয়া রাস্তা দিয়ে
দেখবে,
রাত্রি সমুদ্রের গলায় বিছেহার জড়িয়ে দিয়েছে।

আমরা একটা ঘোড়া-গাড়ি নেব।
ঘোড়ার খুর রাতের স্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে
এক রাতের শাহজাহান হয়ে উঠব আমরা।

মেরিন ড্রাইভ থেকে আর একটু এগিয়েই তাজ হোটেল,
সারা পৃথিবীর হানিমুন ডেস্টিনেশন।

আর আমরা রাস্তার উপর দুটো ইট বিছিয়ে
গরম করে নেব, ইরানি হোটেলের বিরিয়ানি।
তারপর এই অনন্ত সিঁড়ির তলায়
সেরে নেব আমাদের হানিমুন।


হে ব্রহ্মাণ্ড


অনন্ত বছর পর
যখন সূর্যের দহন কমে আসবে
নিভন্ত চিতার থেকে ছাই উড়ে এসে,
ধোঁয়াসা গুলে দেবে বাতাসে
যখন চাঁদের কলঙ্ক
মুছে দেবে ঈশ্বরের মলম
যখন পৃথিবী পোড়া চারকোলের মতো
কক্ষপথ পিছলে,
গোধূলি আলোর দিকে খসে যাবে

তখন যদি বাতাসের ঝাপটা
কবিতার পাতাখানা
বুকের কাছে নিয়ে ফেলে
সূর্য আরো একবার জ্বলে উঠবে।

আঁকা

মনে আছে, আমার টেবিলে বসে
ফাঁকা সিগারেট কৌটোর গায়ে
একটা চারাগাছ এঁকে দিয়েছিলে?

এসে দেখো,
গাছে এবার ফুল ধরেছে।

ছাই

দীর্ঘ কারাবাসে বিপ্লবও
বন্ধ্যা হয়ে যায়।
জ্বলন্ত কয়লা বাতাস না পেলে
আগুনেরও মৃত্যু হয়।

[ ফটো অর্ঘ্য দত্তর সৌজন্যে ]

ফেসবুক মন্তব্য