বৃষ্টিকথা

সুপর্ণা বোস

১)
প্রতিবার বর্ষা এলে
বাড়তি একমুঠো মেঘ তুলে রাখি তোমার নামে,
তোমার ফুটিফাটা শহর থেকে ফরমায়েস আসে
আরো কিছু বৃষ্টিদানার...
মনের ভাঁড়ারে টান পড়লে চোখের কাছে ঋণ হয়ে যায়
অশ্রু মিশে গেলে মেঘের কোমলে
দেখি তুমি টেরই পাওনি।

২)
আকাশ জুড়ে মনকেমনের মেঘ
কুমারী তটের মনে বালির ভাস্কর্য

ঢেউয়ের মাথায় ফসফরাসের আলো
ঘাতক ভাবনা দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিলে
ফিরতি স্রোত পুনরায় ফেরালো।

তুমি আছ, নদীহীন কোনো দেশে

এখানে হৃদয় নদীমাতৃক জেনো
উথাল পাথাল মাঝিহীন নৌকায়
খেইহারা প্রেমে ছৈ ভরে ওঠে কেন।

৩)
নিদাঘের দিনে পথ হাঁটি
বাঁচিয়ে রেখেছ সেই মাটি?
ফুটিয়ে রেখেছ ঠোঁটে, অপরূপ সান্দ্র কথাটি?

৪)
আজ ভারি বর্ষাদিন
কতদিন পর যেন তুমি ফিরলে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে
উপোসী দুপুর আজ বাসমতী গন্ধে রূপসী।

৫)
আজ মেঘ বলল “ যাবি...?”
তুমি ওমনি চলে গেলে।
কাল, জল বলবে “চল্।”
তুমি তুলিয়া দিবে পাল,
আমি তীরে বসে অপেক্ষা করব,
ঢেউয়ের দোলায় দোলায়
ফিরবে তুমি কোন অবেলায়!

৬)
ঠোঁটে ঠোঁট রাখলেই
অঝোর শ্রাবন
মোহনামুখি সব নদী
প্লাবন প্লাবন

স্কুলবাড়ির উঁচু দাওয়ায়
তোমার ত্রাণ জমা হয়

৭)
আমাদের যৌথ জীবনের বোধহয় এটাই নিয়তি,
তোমার হয়ে যাবে
আমার হবে না।
তুমি উঠে যাবে কলঘরে
আমার শরীর থেকে বিকিরণ
আরো কিছুক্ষণ
এভাবেই হয়ত কোনোদিন
তোমার চূড়ান্ত হবে
আর আমার কপাল থেকে মুছে যাবে
সিঁদূরের লাল...

ফেসবুক মন্তব্য