অ্যানিমেটেড এবং অন্যান্য

খায়রুজ্জামান সাদেক

অ্যানিমেটেড

অদলবদলে অ্যানিমেটেড হয় আরও
কোথায় এসেছি
এই যে এতোগুলো কাল্পনিক উঠে আসছে
উটের পিটে কী রেখে এসেছিলাম
যুদ্ধ ফেরত এইসব এপিক তীর ধনুক
কুৎসিত পোকা অথবা বিজয় উল্লাস
আজ সাবটাইটেল অনুসন্ধান করে পুরনো হল
হাতের উপর রিমোটের মত হামিং বার্ড
ঘুরতে ঘুরতে নিয়ে গেলো 'বিগ হিরো সিক্স'এ
যখন আমি সীমিত আংরাখায় লুকিয়ে ফেলেছি
আমার কলের পুতুল অনেকটা সুড়সুড়ি আর অন্ধকার
ডিজনির ফাঁক দিয়ে বুদ্ধি বেয়ে উঠে গেলো মেয়ে
সে চৌকোণা টপকে দেখালও বড় হয়ে গেছে সে

ঢেউটিন

এই চমৎকার অন্ধকার আমাকে অনুবাদ করেছে
কোনও পাঠ্য নেই এমনকি পাচক ও
কল্পনা করা যায় কিন্তু শুরু করব কোত্থেকে
আমার জন্মটাই আমার চোখের কাছে
সামঞ্জস্যহীন টেক্সটের উপর রাখা যায় কিছু
বর্ণনার অতিরিক্ত আজ এগুলোই ঘিরে ধরে
উৎপাদনের ভাষা হয়ে পড়ছে
কোনও কালেরই আমি নই
অথচ কাল ধরতে গেলে ক্রিয়াকে ঝপাৎ জড়ো করতে হয়
তুচ্ছ হয় ওজনের সবকিছু
মানুষের প্রার্থনাগুলো একসাথে আসতে দেখি
কি প্রতিক্রিয়া হয় অথবা হেলে পড়ে বিপরীত
কথা খুব গর্ব করে বলা যায়
আঙ্গিকের বাহির থেকেও
সম্পর্কে জুড়তে গিয়ে আমি ওইসব পরিবর্তন লক্ষ্য করি
জানতে চাই এ পর্যন্ত জানা বিষয় সঠিক কিনা
প্রয়োগের কেন্দ্র ধরে খুব সচেতন এমনকি যেসব কাটপিস পড়ে আছে
একান্ত গেরস্থালীর ফাঁক দিয়ে ধরে রাখা গরু মার্কা ঢেউটিন
তার ভিতর বৃষ্টি আর যেতে পারে নাই
কোনও ছাটাই ছাড়াই টিনগুলো কষ্ট লুকিয়ে রাখে
নৈতিক অনৈতিক কালখণ্ড পেরিয়ে যায়
ছিঁড়ে যাওয়া বজ্রপাতের ভেতর অনেকটা হুঙ্কার
পাণ্ডিত্য নিয়ে আঘাত করে টিনমিস্ত্রি
পুরানো ধারণাগুলি এখন আরও পুরনো হয়েছে
এইসব কংক্রিট সক্রিয় নিয়ন্ত্রণের উপর
খুঁজে পাওয়া হয়ত সংগ্রামের ধ্বংসাবশেষ
আর যে যে দায়িত্বগুলি আমি পালন করতে পারিনি তা হচ্ছে হ্যাঁ গহ্বর
আবেগ শিরস্ত্রাণ খোলে রাখে এইসব জন্মান্ধ অন্ধকারের উপর
উঁই ঢিবির গুটিকয় কাঠের গুঁড়ি বেয়ে সমস্ত ঝরে পড়া
পঞ্জিকা ঘেঁটে হালখাতা শুধুমাত্র তালিকায় জন্ম মৃত্যু নাম বাড়ানো
যে অন্ধকার সম্পূর্ণরূপে তথ্যচিত্র তৈরি করে
তার অজানার মধ্যে একটা আনাজের মুখ হেসে উঠলো বৈকি
অন্ধকার পড়তে পড়তে তোমাকে পড়ে ফেলি
জুবুথুবু কোথায় লেগে আছ, মননের কোন ধারে।

দাঁড়াতে হয়

কী আর ভাঙব, ভাঙতে ভাঙতে নাকি রাগ পড়ে যায়
এইতো বোঝার, ভাঙতেই তোমার কাছে আসলাম
খুলে ফেলো সব, টোন ভাঙছে নদী, বাঁকগুলো কী?
পাড় ফেরালো কে, মাড়ের উপর কে বা ধরে রাখে!
আর অবহেলা সেও ভাঙতে ভাঙতে ছাতিমের দুটি ডাল হল
আঙুলের ঘুম, হ্রেষার ধুলো ভাঙে, তোমার কুসুম আভা ও
যে সকালের আড়ি নেই, সেও ভাঙতে ভাঙতে তোমার কাছে এলো
আমি কোথাও মন ভাঙাবো না; পাথরও ঘুম থেকে ওঠে
ওই দিকে রৌদ্র, ওই দিকে নদী চলে যায়- জিরোতে নেই
চালক যে বাষ্পের, সেও মাথা ভাঙে; অভ্যাসের বাহিরে দাঁড়াতে হয়।

রোদ্দুর লড়ছে

কালতিথি তাঁর উপর সিঁদুরের দুফোঁটা দাও
হালকা করে দেখো রবাহুত পড়ে আছে
কাছাকাছি কী সাজলো, তোমার শুভকামনার স্যুটকেস
কালতিথি তাঁর উপর দুফোঁটা দাও, স্পন্দনে জাগিয়ে তোল
টুকিটাকির ভেতর কত যে হরবোলা রয়েছে
গুণ বিচারে নাকি এক মেহিকান পাখি লুকিয়ে রেখেছ
চন্দ্রোদয়ে দেখা যায় দুফোঁটা, কালতিথি তুমি নাকি আমাকে সাক্ষ্য দিচ্ছ
ঈশ্বর বসে আছেন সুহাসিনীর চোখে; কোলে তাঁর শিশুমুখ
গঠনের আরও ঘুণে কাটা কালতিথি আমার খড়ের জানালা উপুড় আছে
দূর থেকে দূরে তোমার আতরের ঘ্রাণ পাগল করে রেখেছে
কোথাও সমার্থক নেই আমার পিছনে আমারই এক দিবাস্বপ্ন রোদ্দুরে লড়ছে
বিমানপোতে আজ আমি তোমাকে ছেড়ে যাব; আমাকে ছাড়াই উড়ে যাও

বেনিয়া গাছের তলে

জিকির তোলে পরবর্তী পরবর্তী এসে গেলো
একটা বেনিয়া গাছের তলে আমাদের চড়ুইভাতি
আমার হাতে কয়টা প্লাস্টিকের ডিম; অশ্বডিম্ব পাইনি তাই
রুকস্যাকের ঝরঝর বৃষ্টি দিয়ে কয়টা হাঁস উড়ে গেলো
তোমার অপূর্ব হাসি জলে বিম্ব হয়ে কড়াই ফুটল
পা পিছলে মাগো মাগো করছ তুমি; অথচ মেঘের ডাকের সুবোধ
এলে জড়িয়ে ধরা পিরহানা আচম্বিতে জলের ফুঁৎকারে চলল
খই ফুটলে আর কী, কড়াই শুদ্ধ হয়ে এলো ভালোবাসা
আর একটা বিকেল খেতে বসা আড়াআড়ি পেঁয়াজ মরিচ
ঘরের এধারে টুলির উপর জুড়ে দিলো মিঠে আলাপন
ঘাস নিংড়ে সাদা কালো শুটের উপর এই কত কী দুধফোটা
তিরীয়ে চলা বিপ্রতীপ শ্যাওলার ঘাড়ে রেখে এলাম মুক্তোর মালা
অংক কষেই পরবর্তী পরবর্তী আমাদের নিয়ে গেলো অনেক দূর।

নিখুঁত

আমরা বুঝতে পারছি
স্মরণ করতে পারছি
ভোঁতা হওয়ার আগের, নিখুঁত
বুদ্ধিবাদ নয় চোরাগোপ্তা নয় অন্ধ হওয়ার আগের, নিখুঁত
পর্যায়ক্রমিক উল্লম্ফ বিশৃঙ্খল তেঁতো সুড়সুড়ির ধুলোর, নিখুঁত
বিভ্রম যত চিঠি লিখছে
ইচ্ছাকৃত খোলা রাখছে অসম্ভব পটকা, নিখুঁত
তার উপর আমি শুধু খুঁত ধরতে এগিয়ে যাই
জ্ঞানত অন্ধকারে আমি কার কোথাকার কোন ধর্মগ্রন্থের, নিখুঁত
ফায়সালা এগোয়, এগোয় না তো... যুদ্ধ স্হায়ী বর্তমান।

গলফ কোর্টের ভিতর থেকে

না অনেকের সঙ্গে আমার হল
না তোমার সঙ্গে, এখানে দু’চার বাঁধাকে বাঁধা বলছি
এই অন্যান্য সংযোগ আর ইন্সটলেশন প্রক্রিয়া,
নেমে পড়ার- রি-প্রিন্ট মনে রেখেই
গলফ কোর্টের বৃহত্তর; তারপর সমস্ত ভাল একই হয়,
শিশুর হাতে বলের চুমু যেমন গড়িয়ে পড়া
পনির তোলতে তোলতে পনিরকে অনুসন্ধান করা
তুমি ধরতে পারলেনা; অনেকটা এক লাইনের একটা মাঠকে
ঠিক বলের দিকে উচ্চতা নিবিড়েও গায়ে গায়ে ধরা
এই সম্মুখ বাল গজাচ্ছে বালের তলে, দূর থেকে কি দেখা যায়
কোর্টের ভিতর অনেক কিছু, জড়সড়, এটিকেট এবং চাউর হল
সমাপ্তির একটাই রেখা গলফ কোর্টের ভিতর থেকে টান টান
আরও কিছু লেখার আমার দায় পড়েছে খেলার মাঝে, গর্তটা কি!

শূন্যের বিভূতি

আমাদের বোনেরা আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়
পাঁচটি শিকের উপর তাদের সালুন উড়ে
আর পাঁচটি জবাগাছ হেসে উঠে তাদের জন্য
তাদের নামে তাই আমরা পাঁচটি পায়রা পুষলাম
পাঁচটি পায়রা রোজ অদেখায় উড়ে যায়
আমাদের বোনেরা ঘুম হয়ে ফিরে আসে
ঘুম হয়ে লুকিয়ে থাকে
আমাদের পাঁচটি জানালায়
আমাদের বোনেরা আকাশ শূন্য দেখে
ওখান থেকে চোখগুলো তাহারা আমাদের
রাতের তারা হয়ে যায়, আমাদের বোনেরা কী শূন্যের বিভূতি শেখায়

ফেসবুক মন্তব্য