দুটি কবিতা

বর্ণালী মুখোপাধ্যায়

৭ই পৌষ

তার জন্য থাকলো
এই তীব্র শীত সকাল।
তার কাঁধের তিলে আমার
অনুকম্পার রোদ, আর
শহুরে হাসিতে বানানো
কুয়াশা।

কি কথা ভাবছে ঐ দূরের
নীলকণ্ঠ?
বাজপোড়া শরীরের
নিরক্ত গাছ? আজ তোমার জন্য
রেখেছি সপ্তপর্ণ, আঁচলের কোণাচে
একটি আদরের গিঁট।

তার জন্য রইলো সেই
হুহু হাওয়ার ভাঙন,
শুকনো ত্বকে এঁকে দেওয়া
পদ্ম ফুল!
খ্যাপার গানে একতারা।

সেদিন প্রশ্বাসের ধোঁয়া সুচতুর
অভিঘাতে ছুটে এলো কেমন,
কেমন জ্যামিতিক বৃত্ত চাঁদটি
নিছক ছোঁবে বলে গড়িয়ে এলো
আমাদের শরীরে!
শহরের শীতে আগুন জ্বলে না।
সেই মেলার মাঠটি তাকে দিলাম।।


নৈশভোজ

একেকটি অর্ধচন্দ্র ডিমের
দুদিকেই গভীর উল্লাস থাকে।
মা আমাদের নিখাদ জাদুকরী।
কেবল সুতোর টানে নিখুঁত ভাগ করে দিল,
কড়ি বরগা অলিগলি আর--
হে মহাজীবন!!
নিক্তির ওজনে ভাইবোনের পাতে
আছড়ে পড়লো জল মরু ও উপত্যকা!!
তখনই উৎসব শুরু হয়।
উঠোনের ধারে ধারে,
গুলঞ্চের পাতায় পাতায়।

ধরো সেদিন শ্রাবণ তিথি এলো।
পেঁয়াজ রসুনের গন্ধে
আমোদিত শ্রম আর সুখ মাখামাখি
ভাতের দানাগুলি, হে জনার্দণ
এসো তবে,
এখানেই বোসো।
নিবেদন করি।

ফেসবুক মন্তব্য