রুমার সৌরমন্ডল থেকে

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

রুমার সৌরমন্ডল থেকে
গড়িয়ে নামে আলোর মোহাচ্ছন্ন নদী
উজ্জ্বল দুচোখে গ্রহান্তরের মায়াবী জ্যোৎস্না।
সময় একেলা হোলে রক্তে থার্মোমিটার, পারদ উজ্জ্বলতা
রুমা সামনে এসে দাঁড়ায়।
ওর নগ্ন শরীরের ভাঁজে ভাঁজে নীল ঘূর্নি, সমুদ্র সংকেত, সুনামি
কখনো বা বনাঞ্চল, পাহাড় টিলা, নদী, ঝোপঝাড়, ব-দ্বীপ।
ওর দুটো গালে লেগে থাকে
গ্রহান্তরের পিছলে যাওয়া গোলাপী রশ্মি।
রুমার মায়াবী ভূগোলে সরোবর, আমাজান অরণ্যের বৃষ্টিপাত
পাখীওড়া আঁশটে বালিয়ারী, তাপমাত্রার একশো ডিগ্রী ওঠা-নামা
ওর ঠোঁটের এককোণে চিকচিক করে ওঠে কুহেলি হ্রদ।


সেদিন রুমা ফিরে যায়, অনিচ্ছুক ফিরে যাবার আগে
ওর সৌরমন্ডলের বিচ্ছুরণ থেকে তুলে নেই এক চিলতে জার্ম
জাগ্রত জীবানুগুলো আটকে রাখি রক্তে, গোলাপি জিভের নীচে।


বনজোছনায় মাখামাখি আরেকদিন মাঝরাতের ঘুম ভেঙ্গে দেখি
পুরুলিয়ার পলাশ প্রান্তর পেরিয়ে
ডুরে-পাড় শাড়ি, বিনা ব্লাউজেই সে জেগে উঠেছে সৌরমন্ডলের অন্ধকারে।
বাকী রাত নক্ষত্রের সামনে ঝরতে থাকে রুমার শরীরের অলৌকিক বিচ্ছুরণ!

ফেসবুক মন্তব্য